০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

২৮ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা জমি নিয়ে বিরোধ, জাকিরুলের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ খলিলুরের

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ০৮:৫২:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলায় জমির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে বিরোধের জেরে মোঃ জাকিরুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন মোঃ খলিলুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জাকিরুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে খলিলুর রহমান এ বক্তব্য দেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাসের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

খলিলুর রহমান বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার কামালের পাড়ার বাসিন্দা। তাঁর দাবি, ১৯৯৭ সালে দুটি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে গড়ফতেপুর মৌজায় মৃত জিল্লুর রহমানের কাছ থেকে তিনি ও তাঁর বড় ভাই হাবিবুর রহমান মোট ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি বুঝে পাওয়ার পর তাঁরা সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও মাটি ভরাট করে ভোগদখল শুরু করেন।
খলিলুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জমির আরএস রেকর্ড ও চূড়ান্ত খতিয়ান তাঁদের দুই ভাইয়ের নামে প্রকাশিত হয়। জমিটির আরএস খতিয়ান নম্বর ৭৯০, দাগ নম্বর ৮৫ এবং সিএস দাগ নম্বর ৩০৪। পরবর্তীতে জমিটি তাঁদের নামে নামজারি করা হয়। প্রায় ২৮ বছর ধরে তাঁরা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান অভিযোগ করেন, জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী বিক্রি করা জমির মালিকানা দাবি করে বিরোধ সৃষ্টি করেন এবং এ নিয়ে মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। বাড়িঘর নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে জমির গাছপালা কেটে পরিষ্কার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, জাকিরুল ইসলামের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের জমিসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সোনাতলা থানা পুলিশ গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করে। ওই দিন তিনি জমির দলিল, রেকর্ড, খাজনা ও হালনাগাদ অনলাইন খাজনার রসিদ উপস্থাপন করেন। তবে তাঁর দাবি, অপর পক্ষের কেউ সেখানে জমিসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। ওই সময় উভয় পক্ষের ২০ থেকে ৩০ জন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
খলিলুর রহমানের অভিযোগ, মোঃ জাকিরুল ইসলাম,মোঃ রাশেদ মিয়া ও মোঃ বাবলা মিয়া তাঁদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলে থাকা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে তিনি সোনাতলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, যার নম্বর ১৭৪৮; তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষের কাগজপত্র পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য থানা থেকে এক মাস পরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।এ ছাড়া খলিলুর রহমান দাবি করেন, জাকিরুল ইসলাম জাল দলিলের মাধ্যমে তাঁদের রেকর্ডভুক্ত খতিয়ান নম্বর ৭৯০-সংক্রান্ত জমির বিপরীতে ১২৪৬ নম্বর খারিজি খতিয়ান তৈরি করেছিলেন। বিষয়টি জানার পর তাঁরা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেন।পরবর্তীতে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই খারিজি খতিয়ান বাতিল করেন বলে দাবি করেন তিনি।খলিলুর রহমান বলেন, তাঁরা সব সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জমির বৈধ মালিকানা ও দীর্ঘদিনের ভোগদখল বজায় রেখে ভবিষ্যতে সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চান। এ জন্য প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে মোঃ জাকিরুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে খলিলুর রহমান সংশ্লিষ্ট জমির কাগজপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

বগুড়ার সুত্রাপুর সমাজ কল্যাণ সমিতির নবগঠিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত

২৮ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা জমি নিয়ে বিরোধ, জাকিরুলের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ খলিলুরের

প্রকাশিত: ০৮:৫২:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলায় জমির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে বিরোধের জেরে মোঃ জাকিরুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন মোঃ খলিলুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জাকিরুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে খলিলুর রহমান এ বক্তব্য দেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাসের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

খলিলুর রহমান বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার কামালের পাড়ার বাসিন্দা। তাঁর দাবি, ১৯৯৭ সালে দুটি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে গড়ফতেপুর মৌজায় মৃত জিল্লুর রহমানের কাছ থেকে তিনি ও তাঁর বড় ভাই হাবিবুর রহমান মোট ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি বুঝে পাওয়ার পর তাঁরা সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও মাটি ভরাট করে ভোগদখল শুরু করেন।
খলিলুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জমির আরএস রেকর্ড ও চূড়ান্ত খতিয়ান তাঁদের দুই ভাইয়ের নামে প্রকাশিত হয়। জমিটির আরএস খতিয়ান নম্বর ৭৯০, দাগ নম্বর ৮৫ এবং সিএস দাগ নম্বর ৩০৪। পরবর্তীতে জমিটি তাঁদের নামে নামজারি করা হয়। প্রায় ২৮ বছর ধরে তাঁরা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান অভিযোগ করেন, জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী বিক্রি করা জমির মালিকানা দাবি করে বিরোধ সৃষ্টি করেন এবং এ নিয়ে মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। বাড়িঘর নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে জমির গাছপালা কেটে পরিষ্কার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, জাকিরুল ইসলামের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের জমিসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সোনাতলা থানা পুলিশ গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করে। ওই দিন তিনি জমির দলিল, রেকর্ড, খাজনা ও হালনাগাদ অনলাইন খাজনার রসিদ উপস্থাপন করেন। তবে তাঁর দাবি, অপর পক্ষের কেউ সেখানে জমিসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। ওই সময় উভয় পক্ষের ২০ থেকে ৩০ জন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
খলিলুর রহমানের অভিযোগ, মোঃ জাকিরুল ইসলাম,মোঃ রাশেদ মিয়া ও মোঃ বাবলা মিয়া তাঁদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলে থাকা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে তিনি সোনাতলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, যার নম্বর ১৭৪৮; তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষের কাগজপত্র পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য থানা থেকে এক মাস পরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।এ ছাড়া খলিলুর রহমান দাবি করেন, জাকিরুল ইসলাম জাল দলিলের মাধ্যমে তাঁদের রেকর্ডভুক্ত খতিয়ান নম্বর ৭৯০-সংক্রান্ত জমির বিপরীতে ১২৪৬ নম্বর খারিজি খতিয়ান তৈরি করেছিলেন। বিষয়টি জানার পর তাঁরা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেন।পরবর্তীতে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই খারিজি খতিয়ান বাতিল করেন বলে দাবি করেন তিনি।খলিলুর রহমান বলেন, তাঁরা সব সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জমির বৈধ মালিকানা ও দীর্ঘদিনের ভোগদখল বজায় রেখে ভবিষ্যতে সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চান। এ জন্য প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে মোঃ জাকিরুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে খলিলুর রহমান সংশ্লিষ্ট জমির কাগজপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।