০৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

সাজাপ্রাপ্ত আসামী হয়ে কারাগারে যাওয়াসহ নানা অভিযোগে অবশেষে গাবতলীর তছলিম উদ্দন কলেজের অধ্যক্ষ এ্যাডঃ জহুরুল বরখাস্ত

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ১১:২৫:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ অনেক জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বগুড়া গাবতলীর সোনারায় ইউনিয়নের অর্ন্তগত তছলিম উদ্দিন তরফদার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এ্যাডঃ জহুরুল ইসলাম কামাল সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। আইন পেশায় নিয়োজিত, দূর্নীতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী, আরো ২৭টি মামলার অভিযুক্ত ছাড়াও সনদপত্র জালসহ নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। উক্ত অভিযোগ গুলো এলাকার জনৈক মোসলেম উদ্দিন গত ১০সেপ্টেম্বর/২৬ ঢাকাস্থ শিক্ষা ভবনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর দেন। যে কারনে মহাপরিচালক (ডিজি) এ্যাডঃ জহুরুল ইসলাম কামালকে বরখাস্ত করতে যথাযথ প্রক্রিয়া গ্রহন করার জন্য ওই কলেজের সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদকে নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে কলেজের সভাপতিসহ গর্ভনিং বডি সভা করে সিদ্ধান্ত নেন। একে একে ৩বার তাকে (এ্যাডঃ জহুরুল) কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। তিনি (এ্যাডঃ জহুরুল) সর্বশেষে ১অক্টোবর/২৬ ওই ৩টি কারণ দর্শানোর নোটিশের এক সাথে আংশিক জবাব দিলেও তা সন্তোজজনক না হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অফিস থেকে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তার সাময়িক বরখাস্ত বহাল থাকবে। আর অভিযোগ প্রমানিত হলে যথাযথভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। অপর দিকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ এ্যাডঃ জহুরুল ইসলাম কামাল এর স্থলে ওই কলেজের সিনিয়র এর ভিত্তিতে আমিনুর ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তছলিম উদ্দিন তরফদার ডিগ্রি কলেজের সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদ এর সাথে কথা বললে তিনি উপরোক্ত তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এর নির্দেশে এ্যাডঃ জহুরুল ইসলাম কামালকে অধ্যক্ষের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তার সাময়িক বরখাস্ত বহাল থাকবে। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের মধ্য রয়েছে, চাকুরী করে আইন পেশায় নিয়োজিত, দূর্নীতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী, আরো ২৭টি মামলার অভিযুক্ত ছাড়াও সনদপত্র জালসহ আরো নানা অভিযোগ। ৬অক্টোবর/২৬ বেলা ১টা ২৬মিনিটে মোবাইল ফোনে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুর ইসলাম জানান, সিনিয়র এর ভিত্তিতে কলেজের সভাপতিসহ গর্ভনিং বডি আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি যতদিন দায়িত্বে থাকতে পারি সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চায়। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ’র পদ থেকে সদ্য সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এ্যাডঃ জহুরুল ইসলাম কামাল এর সাথে ৬অক্টোবর/২৬ বেলা ২টা ৩৬মিনিটে তার হোটসআ্যাপে কথা বললে তিনি জানান, আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা সম্পূর্ণ অনিয়মভাবে করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ২৭টি নয়, ১৪টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ১১টি প্রত্যাহার হয়েছে। এ ছাড়া আমি ২০১৭ সাল থেকে আইন পেশার সাথে জড়িত নেই। কারন ওই সময় একটি মামলায় আমি কারাগারে গেলে বগুড়া উকিল বার এর তালিকা থেকে আমাকে বাদ দিয়ে দেয়। আমার কোন জাল সনদপত্র নেই। অভিযোগ গুলো ভূয়াভাবে করা হয়েছে। তবে তিনি দূর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন। সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে যাচাই বাচাই বা তদন্ত করলেই সব বের হয়ে আসবে বলে অধ্যক্ষ’র পদ থেকে সদ্য সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এ্যাডঃ জহুরুল ইসলাম কামাল এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে ঢাকাস্থ শিক্ষা ভবনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর মোঃ নাজমুল হক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দিন তাদের ফোন নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে ফোনটি রিসিফ হয়নি। তবে শিক্ষানুরাগীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন কারনে কলেজে শিক্ষার্থী অত্যান্ত কম। কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীর চেয়েও শিক্ষার্থী কম রয়েছে বলে অনেকে জানিয়েছেন।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

সাজাপ্রাপ্ত আসামী হয়ে কারাগারে যাওয়াসহ নানা অভিযোগে অবশেষে গাবতলীর তছলিম উদ্দন কলেজের অধ্যক্ষ এ্যাডঃ জহুরুল বরখাস্ত

সাজাপ্রাপ্ত আসামী হয়ে কারাগারে যাওয়াসহ নানা অভিযোগে অবশেষে গাবতলীর তছলিম উদ্দন কলেজের অধ্যক্ষ এ্যাডঃ জহুরুল বরখাস্ত

প্রকাশিত: ১১:২৫:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ অনেক জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বগুড়া গাবতলীর সোনারায় ইউনিয়নের অর্ন্তগত তছলিম উদ্দিন তরফদার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এ্যাডঃ জহুরুল ইসলাম কামাল সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। আইন পেশায় নিয়োজিত, দূর্নীতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী, আরো ২৭টি মামলার অভিযুক্ত ছাড়াও সনদপত্র জালসহ নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। উক্ত অভিযোগ গুলো এলাকার জনৈক মোসলেম উদ্দিন গত ১০সেপ্টেম্বর/২৬ ঢাকাস্থ শিক্ষা ভবনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর দেন। যে কারনে মহাপরিচালক (ডিজি) এ্যাডঃ জহুরুল ইসলাম কামালকে বরখাস্ত করতে যথাযথ প্রক্রিয়া গ্রহন করার জন্য ওই কলেজের সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদকে নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে কলেজের সভাপতিসহ গর্ভনিং বডি সভা করে সিদ্ধান্ত নেন। একে একে ৩বার তাকে (এ্যাডঃ জহুরুল) কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। তিনি (এ্যাডঃ জহুরুল) সর্বশেষে ১অক্টোবর/২৬ ওই ৩টি কারণ দর্শানোর নোটিশের এক সাথে আংশিক জবাব দিলেও তা সন্তোজজনক না হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অফিস থেকে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তার সাময়িক বরখাস্ত বহাল থাকবে। আর অভিযোগ প্রমানিত হলে যথাযথভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। অপর দিকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ এ্যাডঃ জহুরুল ইসলাম কামাল এর স্থলে ওই কলেজের সিনিয়র এর ভিত্তিতে আমিনুর ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তছলিম উদ্দিন তরফদার ডিগ্রি কলেজের সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদ এর সাথে কথা বললে তিনি উপরোক্ত তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এর নির্দেশে এ্যাডঃ জহুরুল ইসলাম কামালকে অধ্যক্ষের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তার সাময়িক বরখাস্ত বহাল থাকবে। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের মধ্য রয়েছে, চাকুরী করে আইন পেশায় নিয়োজিত, দূর্নীতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী, আরো ২৭টি মামলার অভিযুক্ত ছাড়াও সনদপত্র জালসহ আরো নানা অভিযোগ। ৬অক্টোবর/২৬ বেলা ১টা ২৬মিনিটে মোবাইল ফোনে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুর ইসলাম জানান, সিনিয়র এর ভিত্তিতে কলেজের সভাপতিসহ গর্ভনিং বডি আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি যতদিন দায়িত্বে থাকতে পারি সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চায়। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ’র পদ থেকে সদ্য সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এ্যাডঃ জহুরুল ইসলাম কামাল এর সাথে ৬অক্টোবর/২৬ বেলা ২টা ৩৬মিনিটে তার হোটসআ্যাপে কথা বললে তিনি জানান, আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা সম্পূর্ণ অনিয়মভাবে করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ২৭টি নয়, ১৪টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ১১টি প্রত্যাহার হয়েছে। এ ছাড়া আমি ২০১৭ সাল থেকে আইন পেশার সাথে জড়িত নেই। কারন ওই সময় একটি মামলায় আমি কারাগারে গেলে বগুড়া উকিল বার এর তালিকা থেকে আমাকে বাদ দিয়ে দেয়। আমার কোন জাল সনদপত্র নেই। অভিযোগ গুলো ভূয়াভাবে করা হয়েছে। তবে তিনি দূর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন। সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে যাচাই বাচাই বা তদন্ত করলেই সব বের হয়ে আসবে বলে অধ্যক্ষ’র পদ থেকে সদ্য সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এ্যাডঃ জহুরুল ইসলাম কামাল এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে ঢাকাস্থ শিক্ষা ভবনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর মোঃ নাজমুল হক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দিন তাদের ফোন নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে ফোনটি রিসিফ হয়নি। তবে শিক্ষানুরাগীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন কারনে কলেজে শিক্ষার্থী অত্যান্ত কম। কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীর চেয়েও শিক্ষার্থী কম রয়েছে বলে অনেকে জানিয়েছেন।