
স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু শাহীনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং একটি উন্নয়ন কাজ বন্ধের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সোনাতলা উপজেলা প্রতিনিধি ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল বগুড়া বার্তা–এর সম্পাদক ইকবাল কবির লেমন পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।অভিযোগ পত্রে ইকবাল কবির লেমন উল্লেখ করেন, গত ২৭শে জুলাই সোনাতলা পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে আমন্ত্রিত হয়ে তিনি অংশ নেন। উন্মুক্ত আলোচনায় পৌর এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, টেন্ডার হওয়া কয়েকটি সড়কের কাজ দীর্ঘদিন ধরে শেষ না হওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। বিশেষ করে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আগুনিয়াতাইড় গ্রামের মাস্টারপাড়া-হাসপাতাল সড়কের কাজ ১৩ মাসেও শেষ না হওয়ায় দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি সভায় তুলে ধরেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাজেট অধিবেশন শেষে জনস্বার্থে ওই সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানাতে তিনি পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু শাহীনের কক্ষে যান। এ সময় তিনি সহযোগিতা চাইলে ওই কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হয়ে উচ্চস্বরে কথা বলেন এবং কাজ না করার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী বলেন, মানববন্ধন সহ যা করার করেন,যেখানে খুশি অভিযোগ দেন। ওই সড়কের আর কোনো কাজ হবে না। শুধু আপনিই এ রাস্তা নিয়ে এত কথা বলেন?
সাংবাদিক ইকবাল কবির লেমনের দাবি, একজন নাগরিক হিসেবে জনস্বার্থে উন্নয়ন কাজের বিষয়ে জানতে গিয়ে এ ধরনের আচরণ ও উন্নয়ন বন্ধের হুমকি পাওয়া অত্যন্ত অপমানজনক এবং নাগরিক সেবার পরিপন্থী। অভিযোগে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।অভিযোগ অস্বীকার করে সোনাতলা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু শাহীন বলেন, বাজেট ঘোষণার উন্মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিক ইকবাল কবির লেমন ওই সড়কের কাজ বিলম্বিত হওয়ায় জনদুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে তিনি আমার কক্ষে এসে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আমি তাকে এ বিষয়ে পৌর প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিই। এরপর তিনি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। তার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের কথা কাটাকাটি বা অশালীন আচরণ হয়নি। অভিযোগটি ভিত্তিহীন।সোনাতলা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল মিয়া অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত শেষে জানানো সম্ভব হবে।

প্রতিবেদক 




















