
স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বালুয়াহাট থেকে কলেজ স্টেশন সড়কের মহিচরণ এলাকা পেরিয়ে কুচামাড়ি বিল সংলগ্ন রাস্তার পাশে প্রকাশ্যে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি,দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি চক্র প্রকাশ্যেই এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন গাবতলী উপজেলার দুই ব্যক্তি,রব্বানী মিয়া ও জুয়েল মিয়া। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,ড্রেজার দিয়ে উত্তোলিত বালু স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। কেউ বালু গুছিয়ে রাখছেন,আবার কেউ চারপাশে উঁচু করে বাঁধ নির্মাণ করছেন। সেখানে কর্মরত এক শ্রমিকের কাছে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি বুঝি এই লাইনে নতুন? এই বালু উত্তোলন করছে রব্বানী ও জুয়েল। সোনাকানিয়াতেও তাদের আরেকটি পয়েন্ট রয়েছে। সবাই তাকে ‘বড়ভাই’ বলে ডাকে।পরবর্তীতে অভিযুক্ত রব্বানী মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি কুচামাড়ি ও সোনাকানিয়া এলাকায় দুটি বালু উত্তোলন পয়েন্ট পরিচালনার কথা স্বীকার করেন। প্রতিবেদকের নিকট ফোনের মাধ্যমে তিনি আরও দাবি করেন যে প্রশাসন ও বগুড়া থেকে আসা কিছু সাংবাদিককে “ম্যানেজ” করেই তিনি এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এছাড়া কেন সবাই তাকে “বড়ভাই” বলে সম্বোধন করেন,এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবাই আমার কাছ থেকে টাকা নেয়,তাই ফোন করে বড়ভাই বলে। সুবিধা মতো সময়ে টাকা পাঠিয়ে দিই।স্থানীয়দের ভাষ্য,রব্বানী মিয়ার বালু ব্যবসায় প্রায় ৪০জন শ্রমিক কাজ করেন। তিনি কুচামাড়ি সংলগ্ন বাঙাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং জুয়েল মিয়ার বাড়ি গাবতলী উপজেলার সরধনকুঠি গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরেই তারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে এবং রব্বানীকে নাকি বালু উত্তোলনকারী হিসেবেই চিনেন।সোনাতলা থানার সেকেন্ড অফিসার গৌতম চক্রবর্তী বলেন,’বড়ভাই’ পরিচয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি এই প্রথম শুনলাম। অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুলিশের কেউ উৎকোচ নিয়েছে,এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই। এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল মিয়া বলেন, “বড়ভাই-ছোটভাই বলে কোনো বিষয় নেই। যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান পরিচালনা করবো।বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বীকৃতি প্রামাণিক বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমি এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।স্থানীয়দের অভিযোগ,অবৈধ ভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশ,কৃষিজমি ও আশপাশের এলাকার ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে।সেই সাথে ফসলী জমি গর্তে পরিনত হচ্ছে। এলাকাবাসী দ্রুত অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন

প্রতিবেদক 




















