
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম বাবলু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৯ শতক আয়তনের একটি পুকুর দখলের অভিযোগ উঠেছে। পুকুরটি সান্তাহার পৌর শহরের বশিপুর মৌজার বাঁশহাটি এলাকায় অবস্থিত। অভিযোগ রয়েছে, সান্তাহার নতুন বাজার এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম বাবলু ওই পুকুরটি দখলে রেখেছেন। এ বিষয়ে জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুকুরটি দখলে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং পুকুরটির বৈধতা প্রমাণের জন্য কোনো বৈধ কাগজপত্রও দেখাতে পারেননি।
জানা যায়, উপজেলার সান্তাহার বশিপুর মৌজায় ১৯ শতক আয়তনের একটি পুকুর রয়েছে। পুকুরটির সিএস খতিয়ান নম্বর ১৭৯, এসএ খতিয়ান ৪৫০, সাবেক দাগ ১১৩৮ এবং হাল দাগ ২৩৯৩। জমিটি ভুলবশত ১/১ খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে জমির প্রকৃত মালিক জহিরুল ইসলাম মাসুদ। ১৯ শতকের ওই পুকুরটি নতুন বাজার এলাকার জাহিদুল ইসলাম বাবলু নামের এক ব্যক্তি জোরপূর্বক ও অবৈধভাবে দখলে রেখে অন্য এক ব্যক্তিকে ভাড়া দিয়ে মাছচাষ করাচ্ছেন। পুকুরটির বিষয় সম্পর্কে বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে অবগত করা হলেও তিনি তাতে কোনো কর্ণপাত করছেন না। বরং বেপরোয়া ভাবে পুকুরটি ভোগদখলে রেখে মাছচাষের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তার কাছে পুকুরটির মালিকানা বা দখলের পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্রও নেই। জমিজমা জোরপূর্বক দখলের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে শাস্তি ও জরিমানার বিধান থাকলেও কোনো নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে ওই পুকুরটি দখলে রেখেছেন তিনি। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন প্রকৃত জমির মালিক। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও পুকুরটি দখলে রেখে মাছচাষ অব্যাহত রাখার অভিযোগে প্রকৃত মালিকের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি জাহিদুল ইসলাম বাবলু হজ পালন করে দেশে ফিরেছেন। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে পুকুরের ভোগদখল সংক্রান্ত অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি সুরাহার জন্য পুকুরটির প্রকৃত মালিকানার কাছে হস্তান্তরের দাবী জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী। দখলকৃত ব্যক্তি জাহিদুল ইসলাম বাবলু জানান, পুকুরটির মালিকানার পক্ষে তার কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। একই সঙ্গে তিনি পুকুরটির দখলে থাকার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন। তিনি আর কোন মন্তব্য করতে চাননা।

প্রতিবেদক 




















