০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন বন্ধ ডেন্টাল ইউনিট; প্রেষণে থাকা টেকনোলজিস্টকে ফেরানোর উদ্যোগ

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ০৫:২৩:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

সুলতান আহম্মেদ, সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ডেন্টাল ইউনিট বন্ধ থাকায় সরকারি দাঁতের চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার হাজারো মানুষ। প্রতিদিন চিকিৎসার আশায় হাসপাতালে এসে অনেক রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সেবা বন্ধ থাকায় অনেকে বাধ্য হয়ে অননুমোদিত ও অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার শরণাপন্ন হচ্ছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতালসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডেন্টাল ইউনিটে নিয়মিত সেবা বন্ধ থাকায় শিশু, নারী, প্রবীণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক রোগীকেই অতিরিক্ত ব্যয়ে জেলা শহর বা বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এ ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক দৈনিক আমার সংবাদ এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক কলমযোদ্ধা ডটকম-এ সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
রোববার গাইবান্ধার সিভিল সার্জনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, প্রকাশিত সংবাদটি তিনি দেখেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেন্টাল ইউনিট দ্রুত চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেষণে কর্মরত সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল)-এর প্রেষণ বাতিল করে মূল কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্য বিভাগের এ উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা দ্রুত ডেন্টাল ইউনিট চালুর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, “সরকারি হাসপাতালে দাঁতের চিকিৎসা চালু হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। এতে কবিরাজি বা ঝাড়ফুঁকের মতো অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।”
জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ডেন্টাল ইউনিট চালু করাই যথেষ্ট নয়; নিয়মিত জনবল নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সচল রাখা, চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহ এবং সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় সাময়িক উদ্যোগে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, স্বাস্থ্য বিভাগের ঘোষিত উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ডেন্টাল সেবা পুনরায় চালু করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

মহাস্থান মাজার জামে মসজিদে সাবেক এমপি মরহুম সাইদ ইস্কান্দার এর আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল 

সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন বন্ধ ডেন্টাল ইউনিট; প্রেষণে থাকা টেকনোলজিস্টকে ফেরানোর উদ্যোগ

প্রকাশিত: ০৫:২৩:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সুলতান আহম্মেদ, সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ডেন্টাল ইউনিট বন্ধ থাকায় সরকারি দাঁতের চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার হাজারো মানুষ। প্রতিদিন চিকিৎসার আশায় হাসপাতালে এসে অনেক রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সেবা বন্ধ থাকায় অনেকে বাধ্য হয়ে অননুমোদিত ও অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার শরণাপন্ন হচ্ছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতালসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডেন্টাল ইউনিটে নিয়মিত সেবা বন্ধ থাকায় শিশু, নারী, প্রবীণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক রোগীকেই অতিরিক্ত ব্যয়ে জেলা শহর বা বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এ ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক দৈনিক আমার সংবাদ এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক কলমযোদ্ধা ডটকম-এ সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
রোববার গাইবান্ধার সিভিল সার্জনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, প্রকাশিত সংবাদটি তিনি দেখেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেন্টাল ইউনিট দ্রুত চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেষণে কর্মরত সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল)-এর প্রেষণ বাতিল করে মূল কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্য বিভাগের এ উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা দ্রুত ডেন্টাল ইউনিট চালুর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, “সরকারি হাসপাতালে দাঁতের চিকিৎসা চালু হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। এতে কবিরাজি বা ঝাড়ফুঁকের মতো অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।”
জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ডেন্টাল ইউনিট চালু করাই যথেষ্ট নয়; নিয়মিত জনবল নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সচল রাখা, চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহ এবং সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় সাময়িক উদ্যোগে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, স্বাস্থ্য বিভাগের ঘোষিত উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ডেন্টাল সেবা পুনরায় চালু করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে।