
সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সাঘাটায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার শিমুলতাইড় কেজি স্কুল মাঠে দলটির উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনে দলটির স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির স্থানীয় নেতা খোরশেদ আলম খাজা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইফুল হক বলেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। দেশের সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, গাইবান্ধাসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে জনস্বার্থে ফুলছড়ির তিস্তামুখ ঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত দ্বিতীয় যমুনা রেলসেতু নির্মাণের দাবি তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ঐতিহ্যবাহী মহিমাগঞ্জ চিনিকল পুনরায় চালুর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
সাইফুল হক আরও বলেন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও শিল্পকারখানা সচল হলে এ অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। তাই স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান। তিনি দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, জনগণের বিভিন্ন দাবি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন গাইবান্ধা জেলা সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ, বগুড়া জেলা সভাপতি আব্দুর রউফ, গাইবান্ধা জেলা সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ, জেলা সদস্য আতোয়ারুল ইসলাম এবং সাঘাটা উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ।
এ ছাড়া স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম মেম্বার, খলিল, ইব্রাহিম, সাইদুল ইসলাম ও লাবনী বেগমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি শ্রমজীবী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের বিভিন্ন অধিকার ও দাবি নিয়ে রাজনৈতিকভাবে কাজ করে আসছে। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়, অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠনের কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
আলোচনা সভায় স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা ও জনদুর্ভোগের বিষয়ও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং এলাকার উন্নয়ন-অগ্রগতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন দাবিতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে।
পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদক 




















