১০:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাঘাটায় নাতির ছুরিকাঘাতে দাদির মৃত্যু, দাদার অবস্থা আশঙ্কাজনক

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ১১:১৯:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ১১৭ বার পড়া হয়েছে

সুলতান আহম্মেদ( সাঘাটা) গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে আপন নাতির উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে দাদির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন দাদা। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার খামার পবনতাইড় গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
নিহত ফেরেজা বেগম (৬৬) ও আহত আব্দুল করিম (৭১) ওই গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত নাতিকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবারটিতে অভ্যন্তরীণ কলহ চলছিল। এরই জেরে বুধবার দুপুরে নাতি ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি নিয়ে তার বৃদ্ধ দাদা ও দাদির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীর এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তারা দুজনই রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দাদি ফেরেজা বেগমের হাতের কবজি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং গাল ও গলায় গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়।
তাদের আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করেন। একই সাথে পালিয়ে যাওয়ার সময় হামলাকারী নাতিকে আটকে রেখে সাঘাটা থানা পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
স্বজন ও স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক দাদি ফেরেজা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। দাদা আব্দুল করিমের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে খবর পেয়ে সাঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত নাতিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, পারিবারিক বন্ধন ও নৈতিক মূল্যবোধের এমন অবক্ষয় সমাজকে এক ভয়াবহ বার্তা দিচ্ছে। তারা এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

মহাস্থান মাজার জামে মসজিদে সাবেক এমপি মরহুম সাইদ ইস্কান্দার এর আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল 

সাঘাটায় নাতির ছুরিকাঘাতে দাদির মৃত্যু, দাদার অবস্থা আশঙ্কাজনক

প্রকাশিত: ১১:১৯:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

সুলতান আহম্মেদ( সাঘাটা) গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে আপন নাতির উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে দাদির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন দাদা। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার খামার পবনতাইড় গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
নিহত ফেরেজা বেগম (৬৬) ও আহত আব্দুল করিম (৭১) ওই গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত নাতিকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবারটিতে অভ্যন্তরীণ কলহ চলছিল। এরই জেরে বুধবার দুপুরে নাতি ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি নিয়ে তার বৃদ্ধ দাদা ও দাদির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীর এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তারা দুজনই রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দাদি ফেরেজা বেগমের হাতের কবজি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং গাল ও গলায় গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়।
তাদের আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করেন। একই সাথে পালিয়ে যাওয়ার সময় হামলাকারী নাতিকে আটকে রেখে সাঘাটা থানা পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
স্বজন ও স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক দাদি ফেরেজা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। দাদা আব্দুল করিমের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে খবর পেয়ে সাঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত নাতিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, পারিবারিক বন্ধন ও নৈতিক মূল্যবোধের এমন অবক্ষয় সমাজকে এক ভয়াবহ বার্তা দিচ্ছে। তারা এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।