
সাঘাটায় তরুণ-প্রবীণ বক্তাদের মিলনমেলা, দ্বীনি ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের আহ্বা
সুলতান আহম্মেদ সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় তরুণ ও প্রবীণ আলেম-ওলামা ও বক্তাদের অংশগ্রহণে দ্বীনি ঐক্য, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য এবং দাওয়াতি কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উলুমুল কুরআন মহিলা সালাফিয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনের নাম দেওয়া হয় ‘দ্বীনি ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও দাওয়াতি বন্ধনের মহাসম্মেলন—মিলন মেলা’।
সম্মেলনে সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণ ও প্রবীণ বক্তা, আলেম-ওলামা, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল ধর্মীয় আলোচনা, পারস্পরিক মতবিনিময় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফ্রেশ বাজার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও সাঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল্লাহ শাহীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাফেজ মাওলানা মো. রেজওয়ানুল ইসলাম।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ ও নৈতিক সমাজ গঠনে দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির বিকল্প নেই। আলেম-ওলামা, দাওয়াতকর্মী ও ধর্মীয় অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
তারা আরও বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও বৃহত্তর দ্বীনি স্বার্থে পরস্পরের প্রতি সম্মান ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে হবে। বিভেদ ও বিরোধকে পাশ কাটিয়ে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।
সম্মেলনে কুরআন-হাদিসের আলোকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও দ্বীনি বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি তরুণ ও প্রবীণ বক্তাদের মধ্যে মতবিনিময়ের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দাওয়াতি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পরে দেশ, জাতি, সমাজের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা জানান, বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং দ্বীনি অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্ব আরও দৃঢ় করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে দাওয়াতি কার্যক্রমকে সাংগঠনিক ও সামাজিকভাবে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
আয়োজকদের মতে, তরুণদের উদ্যম ও প্রবীণদের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে দ্বীনি ও সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এ লক্ষ্যেই ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনার কথা জানান তারা।
সর্বশেষে তরুণ-প্রবীণ বক্তা, আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।

প্রতিবেদক 




















