১০:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রানী ভবানী’র স্মৃতি বিজরিত জন্মভূমি সংরক্ষনের অভাবে ধ্বংসের পথে

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ০৮:২৯:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে

মিহির কুমার সরকার,আদমদীঘি(বগুড়া ঃ ইতিহাসের মহিয়সী নারী রানী ভবানীর জন্মভূমির স্মৃতি চিহ্ন সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসে পথে। ইতিহাসে স্মরণীয় এক নাম রানী ভবানী। রানী ভবানীর জন্মভূমি রাজশাজী বিভাগের বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামে। এই স্থানের প্রাচীন নাম ছিল মহনগঞ্জ। মহিয়সী এই নারীর জন্মস্থান এখন শুধু কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অবৈধ দখলদারদের কারনে এবং সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে স্মৃতি চিহ্ন টুকু হারিয়ে যেতে বসেছে।
মহিয়সী নারী রানী ভবানীর জীবনের তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়,বগুড়ার জেলার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রামে ছিলেন আত্মারাম চৌধুরী নামের এক জমিদার । স্ত্রীর নাম তমাদেবি চৌধুরী রানী।তাদের সন্তান রানী ভবানী চৌধুরী। ভবানী শৈশব থেকে মানুষের সেবা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। তিনি ছাতিয়ান গ্রামের গরীব দুঃখী মানুষের কষ্ট নিবারণ করতে মসজিদ মন্দির, পড়াশুনার জন্য এলাকায় স্কুল নির্মাণ সহ এলাকায় পানির অভাব মিটাতে ৩৬৫টি পুকুর খনন করেছিলেন। সেই পুকুরগুলোর সাথে তার স্মৃতি ধরে রাখতে প্রতিদিন একটি করে পুকুরে গোসল করতেন। ভবানীর পিতা নাটোরের জমিদার রামাকান্তের চেয়ে ছোট জমিদার ছিলেন।
রানী ভবানীর জন্মভূমি।
ছাতিয়ান গ্রামের প্রবীন ব্যক্তিরা তাদের বাপ-দাদার বরাত দিয়ে বলেন, তৎসময় সময় এখানে নাকি অনেক বন জঙ্গল ছিল। সেই বনে হরিণ সহ অনেক বন্যপ্রাণী ছিল। একদিন নাটোরের জমিদার রামাকান্ত ছাতিয়ান গ্রামের জঙ্গলে শিকার করতে আসেন। একদিন ভোরে তাঁবু থেকে শিকারে বের হয়ে দেখতে পান ফুটফুটে সুন্দরী মেয়ে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ফুল তুলছে। রাজা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন মেয়েটি ছাতিয়ানগ্রামের আত্মারাম চৌধুরীর একমাত্র কন্যা।
রাজা রামাকান্ত শিকার না করে নাটোরে ফিরে মেয়েটিকে বিয়ে করার কথা পিতা রামজীবনকে জানান। ছেলের কথা শুনে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে নিজেই ছাতিয়ানগ্রামে চলে আসেন। বিয়ের প্রস্তাব পেয়ে ভবানী কয়েকটি শর্তে রাজী হন ভবানী। তিন শর্ত হলো,(১) বিয়ের পর তিনি পিতার বাড়িতে এক বছর অবস্থান করবেন।(২) ছাতিয়ানগ্রাম জমিদার বাড়ি থেকে নাটোর জমিদার বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করে লাল শালু কাপড়ে জড়িয়ে দিতে হবে। এর উপর দিয়ে তিনি স্বামীর বাড়ি যাবেন।(৩) এলাকার গরীব প্রজাদের ভূমিদান করে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। রাজা রামজীবন ছেলের বিয়ের জন্য সকল শর্ত মেনে নেন। সেই মহিয়সী নারী রানী ভবানীর জন্মস্থান ছাতিয়ানগ্রামের জমিদার বাড়িটি সংরক্ষন ও সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে। ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহি উদ্দীন তালুকদার বলেন, সরকারি উদ্যোগে জমিদার বাড়িটি সংস্কার করা হলে একদিকে ধ্বংস ও দখলদারদের কবল থেকে রক্ষা পাবে। অন্যদিকে মহিয়সী নারী রানী ভবানীর জন্মভূমির ঐতিহাসিক নিদর্শন স্মৃতি যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে সবার মাঝে।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

মহাস্থান মাজার জামে মসজিদে সাবেক এমপি মরহুম সাইদ ইস্কান্দার এর আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল 

রানী ভবানী’র স্মৃতি বিজরিত জন্মভূমি সংরক্ষনের অভাবে ধ্বংসের পথে

প্রকাশিত: ০৮:২৯:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

মিহির কুমার সরকার,আদমদীঘি(বগুড়া ঃ ইতিহাসের মহিয়সী নারী রানী ভবানীর জন্মভূমির স্মৃতি চিহ্ন সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসে পথে। ইতিহাসে স্মরণীয় এক নাম রানী ভবানী। রানী ভবানীর জন্মভূমি রাজশাজী বিভাগের বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামে। এই স্থানের প্রাচীন নাম ছিল মহনগঞ্জ। মহিয়সী এই নারীর জন্মস্থান এখন শুধু কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অবৈধ দখলদারদের কারনে এবং সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে স্মৃতি চিহ্ন টুকু হারিয়ে যেতে বসেছে।
মহিয়সী নারী রানী ভবানীর জীবনের তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়,বগুড়ার জেলার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রামে ছিলেন আত্মারাম চৌধুরী নামের এক জমিদার । স্ত্রীর নাম তমাদেবি চৌধুরী রানী।তাদের সন্তান রানী ভবানী চৌধুরী। ভবানী শৈশব থেকে মানুষের সেবা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। তিনি ছাতিয়ান গ্রামের গরীব দুঃখী মানুষের কষ্ট নিবারণ করতে মসজিদ মন্দির, পড়াশুনার জন্য এলাকায় স্কুল নির্মাণ সহ এলাকায় পানির অভাব মিটাতে ৩৬৫টি পুকুর খনন করেছিলেন। সেই পুকুরগুলোর সাথে তার স্মৃতি ধরে রাখতে প্রতিদিন একটি করে পুকুরে গোসল করতেন। ভবানীর পিতা নাটোরের জমিদার রামাকান্তের চেয়ে ছোট জমিদার ছিলেন।
রানী ভবানীর জন্মভূমি।
ছাতিয়ান গ্রামের প্রবীন ব্যক্তিরা তাদের বাপ-দাদার বরাত দিয়ে বলেন, তৎসময় সময় এখানে নাকি অনেক বন জঙ্গল ছিল। সেই বনে হরিণ সহ অনেক বন্যপ্রাণী ছিল। একদিন নাটোরের জমিদার রামাকান্ত ছাতিয়ান গ্রামের জঙ্গলে শিকার করতে আসেন। একদিন ভোরে তাঁবু থেকে শিকারে বের হয়ে দেখতে পান ফুটফুটে সুন্দরী মেয়ে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ফুল তুলছে। রাজা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন মেয়েটি ছাতিয়ানগ্রামের আত্মারাম চৌধুরীর একমাত্র কন্যা।
রাজা রামাকান্ত শিকার না করে নাটোরে ফিরে মেয়েটিকে বিয়ে করার কথা পিতা রামজীবনকে জানান। ছেলের কথা শুনে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে নিজেই ছাতিয়ানগ্রামে চলে আসেন। বিয়ের প্রস্তাব পেয়ে ভবানী কয়েকটি শর্তে রাজী হন ভবানী। তিন শর্ত হলো,(১) বিয়ের পর তিনি পিতার বাড়িতে এক বছর অবস্থান করবেন।(২) ছাতিয়ানগ্রাম জমিদার বাড়ি থেকে নাটোর জমিদার বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করে লাল শালু কাপড়ে জড়িয়ে দিতে হবে। এর উপর দিয়ে তিনি স্বামীর বাড়ি যাবেন।(৩) এলাকার গরীব প্রজাদের ভূমিদান করে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। রাজা রামজীবন ছেলের বিয়ের জন্য সকল শর্ত মেনে নেন। সেই মহিয়সী নারী রানী ভবানীর জন্মস্থান ছাতিয়ানগ্রামের জমিদার বাড়িটি সংরক্ষন ও সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে। ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহি উদ্দীন তালুকদার বলেন, সরকারি উদ্যোগে জমিদার বাড়িটি সংস্কার করা হলে একদিকে ধ্বংস ও দখলদারদের কবল থেকে রক্ষা পাবে। অন্যদিকে মহিয়সী নারী রানী ভবানীর জন্মভূমির ঐতিহাসিক নিদর্শন স্মৃতি যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে সবার মাঝে।