
ডেস্ক নিউজঃ সারাদেশ আজ যখন ফ্যাসিবাদমুক্ত, মানুষ আশায় বুক বেঁধেছে শান্তি আর অনিয়মমুক্ত একটি দেশের জন্য। ফলে সেই স্বপ্নের জন্য রক্ত দিয়েছে অসংখ্য তরুণ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নানা পেশাজীবির মানুষ। কেউ শহীদের মর্যাদা পেয়েছেন, কেউ হয়েছেন আজীবনের জন্য পঙ্গু। সরকার আহতদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করে দিয়েছে যাতে রয়েছে প্রকৃত যোদ্ধাদের রক্ত-ঘামে লেখা ইতিহাস। কিন্তু সেই তালিকায় ভুয়া নাম ওঠার অভিযোগে নিন্দার ঝড় বইছে গাইবান্ধার সাঘাটায়। পারিবারিক জমি-জমার দ্বন্দ্বে আহত হয়ে মেডিকেল সনদকে হাতিয়ার বানিয়ে, ১১৭ নম্বর গেজেটপ্রাপ্ত টিপু সুলতান নামের এক ব্যক্তি নাকি ঢুকে পড়েছেন জুলাই আহতদের তালিকায়। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে নিজেকে জুলাই আহতের তালিকায় অন্তভূক্ত করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার আসনে বসেছেন তিনি।অভিযোগকারীর দাবি প্রকৃত সত্য হলো, ব্যক্তিগত বিরোধে আহত হয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নিজের নাম তুলেছেন জুলাই আহত তালিকায়।
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলার বৈষম্যবিরোধী নেতা ও এনসিপির সমন্বয়ক মো. হিরু মুঠোফোনে জানান, টিপু সুলতান কোথায় জুলাই যুদ্ধ করেছেন। তিনি তো ভুয়া জুলাই যোদ্ধা।এছাড়াও আরেক বৈষম্যবিরোধী নেতা ও এনসিপির সমন্বয়ক মো. শামীম জানান, টিপু সুলতানের অনেক অভিযোগ রয়েছে। আমরা যতদূর জানি উনি হলেন ভুয়া জুলাই যোদ্ধা। গাইবান্ধা জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন সংশয় তুলেছেন, টিপু সুলতান আসলে প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা কিনা? এ বিষয়ে সঠিক তদন্তের দাবি আশা করছেন তিনি।
টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার ব্যক্তিগত নাম্বারে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করে নি।
এদিকে উপজেলা নির্বাহি কমকর্তা মীর মো. আল কামাহ তমাল বলেন, তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছে যেখানে শহীদের রক্তে লেখা ইতিহাস, সেখানে কিভাবে ভুয়া নাম ঢুকে যায়? আর যদি এমন ভুয়া যোদ্ধারা সরকারি তালিকায় জায়গা পায়, তবে প্রকৃত শহীদদের আত্মত্যাগ কি তবে অপমানিত হবে না?
জেলা প্রশাসক ও ইউএনও’র কাছে দেওয়া আবেদনে দাবী করা হয়েছে, ভুয়া জুলাই যোদ্ধার এ গেজেট দ্রুত বাতিল করতে হবে। না হলে শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস কলঙ্কিত হবে, আর আহতদের চোখের জলে ভেসে যাবে সত্যিকারের মুক্তির স্বপ্ন।

প্রতিবেদক 




















