০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় ভোরে ও বিকেলে গাছিরা মাঝায় ঢিলা ঝুলিয়ে চলছেন খেজুরের রস সংগ্রহে 

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ০৩:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

সুশান্ত মালাকার, দুপচাঁচিয়াঃ শীতের আগমনীতে বগুড়া জেলা সহ বিভিন্ন উপজেলার ন্যায় দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘির বিভিন্ন গ্রামে-গঞ্জে মাঠে-ঘাটে,খেজুর গাছের রস সংগ্রহে গাছিরা একেবারেই প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছেন। যদিও জানা গেছে দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘির খেজুর গুড়ের কদর দেশজুড়ে এবং এই এলাকার তৈরিকৃত গুড়গুলো চলে যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল,গাছিরা খেজুর গাছে উঠে অপ্রয়োজনীয় ডালপালা কেটে ছেঁটে বাঁশের ললি লাগিয়ে রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত করে ফেলেছেন। ফলে খেজুর গুড় বিক্রি করে অর্থনৈতিক ভাবে এই এলাকার অনেকেই হচ্ছেন স্বাবলম্বী। তবে প্রতিটি গাছের একধারে ঢিলা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। দুপচাঁচিয়ার কইল গ্ৰামের প্রবীণ শিক্ষক প্রদিপ চন্দ্র প্রামানিক প্রতিবেদক কে বলেন, ঋতু গুলোর মধ্যে শীত নামক ঋতু অন্যতম।এসময়ের প্রধান মুখরোচক খাবারই হলো নানা রকমের পিঠা।আর এই সুস্বাদু পিঠা তৈরিতে প্রধান উপাদানই হলো খেজুরের রস। তবে এই রস সাধারণত শীতকাল ছাড়া অন্য সময় পাওয়া যায় না। কুন্দগ্ৰামের ইসমাইল হোসেন জানান,দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি এই উপজেলার খেজুরের রসের তৈরি গুড় এখন দুই উপজেলায় রসের কারণে পরিচয় বহন করে। তিনি আরো বলেন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রস রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে যায় এবং রসের ব্যাপক কদর আছে। কইল গ্রামের গাছি মোঃ আলাউদ্দিন প্রামানিক (আলী) ও আরেক গাছি মজিবুর রহমান(মজি)এরা জানালেন,প্রতি বছর শীত এলেই আমরা গাছ পরিস্কার এর জন্য প্রস্তুতি নিই। তার ধারাবাহিকতায় এখন গাছগুলোর চাঁচার কাজ শুরু করেছি। কয়েক দিনের মধ্যেই গাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু হবে। মুলত দু-মাস গাছ থেকে আমরা রস সংগ্রহ করে থাকি। তবে আশা করছি এ বছরো অনুরুপ রস সংগ্ৰহ হবে।তারা আরো বলেন গতবছর রস থেকে প্রায় দু-মাসে লক্ষাধিক টাকা ঘরে উঠেছিলো। অন্যদিকে গৃহিণীদের মতে এই শীতকালে খেজুরের রস আর গুড় ছাড়া আমাদের পিঠা-পুলির আনন্দ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাদের মতে নতুন গুড়ে বানানো পায়েস,চিতই,সাদা পিঠা সহ নানা জাতের পিঠার স্বাদই যেন আলাদা।স্থানীয়রা জানান খেজুর গুড়ের চাহিদা ব্যাপক হলেও এক শ্রেণীর অসাধু গাছিরা রসে চিনি মিশিয়ে থাকেন।তাদের দাবি ১কেজি খেজুর গুড়ের দাম ২’শ থেকে ২’শ ৫০টাকা। ফলে খেজুর গুড় তৈরিতে গাছিরা যাতে করে রসে চিনি না মিশাতে পারে সে জন্য স্থানীয় জনতা সহ প্রসাশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

বগুড়ায় অসুস্থ সাংবাদিক মুসা’র শয্যা’র পাশে জাসাস নেতা শফিক ও ছোটন

বগুড়ায় ভোরে ও বিকেলে গাছিরা মাঝায় ঢিলা ঝুলিয়ে চলছেন খেজুরের রস সংগ্রহে 

প্রকাশিত: ০৩:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

সুশান্ত মালাকার, দুপচাঁচিয়াঃ শীতের আগমনীতে বগুড়া জেলা সহ বিভিন্ন উপজেলার ন্যায় দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘির বিভিন্ন গ্রামে-গঞ্জে মাঠে-ঘাটে,খেজুর গাছের রস সংগ্রহে গাছিরা একেবারেই প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছেন। যদিও জানা গেছে দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘির খেজুর গুড়ের কদর দেশজুড়ে এবং এই এলাকার তৈরিকৃত গুড়গুলো চলে যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল,গাছিরা খেজুর গাছে উঠে অপ্রয়োজনীয় ডালপালা কেটে ছেঁটে বাঁশের ললি লাগিয়ে রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত করে ফেলেছেন। ফলে খেজুর গুড় বিক্রি করে অর্থনৈতিক ভাবে এই এলাকার অনেকেই হচ্ছেন স্বাবলম্বী। তবে প্রতিটি গাছের একধারে ঢিলা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। দুপচাঁচিয়ার কইল গ্ৰামের প্রবীণ শিক্ষক প্রদিপ চন্দ্র প্রামানিক প্রতিবেদক কে বলেন, ঋতু গুলোর মধ্যে শীত নামক ঋতু অন্যতম।এসময়ের প্রধান মুখরোচক খাবারই হলো নানা রকমের পিঠা।আর এই সুস্বাদু পিঠা তৈরিতে প্রধান উপাদানই হলো খেজুরের রস। তবে এই রস সাধারণত শীতকাল ছাড়া অন্য সময় পাওয়া যায় না। কুন্দগ্ৰামের ইসমাইল হোসেন জানান,দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি এই উপজেলার খেজুরের রসের তৈরি গুড় এখন দুই উপজেলায় রসের কারণে পরিচয় বহন করে। তিনি আরো বলেন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রস রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে যায় এবং রসের ব্যাপক কদর আছে। কইল গ্রামের গাছি মোঃ আলাউদ্দিন প্রামানিক (আলী) ও আরেক গাছি মজিবুর রহমান(মজি)এরা জানালেন,প্রতি বছর শীত এলেই আমরা গাছ পরিস্কার এর জন্য প্রস্তুতি নিই। তার ধারাবাহিকতায় এখন গাছগুলোর চাঁচার কাজ শুরু করেছি। কয়েক দিনের মধ্যেই গাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু হবে। মুলত দু-মাস গাছ থেকে আমরা রস সংগ্রহ করে থাকি। তবে আশা করছি এ বছরো অনুরুপ রস সংগ্ৰহ হবে।তারা আরো বলেন গতবছর রস থেকে প্রায় দু-মাসে লক্ষাধিক টাকা ঘরে উঠেছিলো। অন্যদিকে গৃহিণীদের মতে এই শীতকালে খেজুরের রস আর গুড় ছাড়া আমাদের পিঠা-পুলির আনন্দ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাদের মতে নতুন গুড়ে বানানো পায়েস,চিতই,সাদা পিঠা সহ নানা জাতের পিঠার স্বাদই যেন আলাদা।স্থানীয়রা জানান খেজুর গুড়ের চাহিদা ব্যাপক হলেও এক শ্রেণীর অসাধু গাছিরা রসে চিনি মিশিয়ে থাকেন।তাদের দাবি ১কেজি খেজুর গুড়ের দাম ২’শ থেকে ২’শ ৫০টাকা। ফলে খেজুর গুড় তৈরিতে গাছিরা যাতে করে রসে চিনি না মিশাতে পারে সে জন্য স্থানীয় জনতা সহ প্রসাশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।