
মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ বগুড়া গাবতলীর পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ১০সদস্য’র মধ্যে ৭সদস্যই একযোগে পদত্যাগ করার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদক মুহাম্মাদ আবু মুসা’র মাধ্যমে গত ৩০আগস্ট/২৩ বুধবার এ সংক্রান্ত স্থানীয় দৈনিক বগুড়া পত্রিকা ছাড়াও অনলাইন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে অনেকের মধ্যে জানা জানি হওয়ায় নানা প্রশ্নের সৃস্টি হয় এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ নানা ধরনের মন্তব্য করেন। পরের দিন বৃহস্পতিবার উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি রফি নেওয়াজ খান রবিন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ডেকে বৈঠক করেন। শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে ওই বিদ্যালয়ে কোন অনিয়ম থাকলে তা উৎঘাটন বা সমস্যা থাকলে তা সমাধান করার লক্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান রফি নেওয়াজ খান রবিনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা রবিবার সরেজমিনে যাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেন। এর প্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিনে যান উপজেলা চেয়ারম্যান রফি নেওয়াজ খান রবিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আফতাবুজ্জামান-আল-ইমরান, জেলা শিক্ষা অফিসার হযরত আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তারিকুল আলম, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মজনু, উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম পান্না, শিক্ষক নেতা কাজী আনোয়ারুল ইসলাম টিটুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদ্য পদত্যাগকারী সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-কর্মচারীগণ, কিছু অভিভাবক ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সন্বয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও সেখানে অজ্ঞাত কারনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত হননি। মতবিনিময় সভায় পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক নানা অনিয়মের সাথে জড়িত এবং ম্যানেজিং কমিটির ৭সদস্য একযোগে পদত্যাগ করার পিছনে তিনি (প্রধান শিক্ষক) দায়ী বলে উঠে আসে। তাছাড়া সদ্য পদত্যাগকারীরাও লিখিতভাবে জানান। আবার অনেকে বলেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক নিয়োগ বানিজ্যের সাথে সরাসরি জড়িত। তিনি আরো অবৈধভাবে সুবিধা নেয়ার জন্য ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের পদত্যাগ নাটক সৃস্টি করেছেন। ফলে তার কঠোর শাস্তি দাবী করা হয়। পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবারো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্বাচিত করার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক এর সাথে কথা বলার জন্য তার ব্যবহারিত মোবাইল ফোনে বহুবার চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অপর দিকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ১০সদস্য’র মধ্যে ৭সদস্যই একযোগে পদত্যাগ করায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা শিক্ষা অফিসার হযরত আলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
এর মধ্যে পদত্যাগকারী ৭সদস্য হলো মহিলাসহ ৫জন অভিভাবক সদস্য ও ২জন শিক্ষক প্রতিনিধি। কমিটির সভা না করা এবং বিদ্যালয়ের অন্যান্য কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়া ও সদস্যদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ এনে ওই ৭সদস্য গত ১৪জুন/২৩ সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর প্রেক্ষিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিদ্যালয় পরিদর্শক এ ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার হযরত আলীকে দায়িত্ব দেন।
উল্লেখ্য, পদত্যাগ করা কমিটি অনেক নাটকীয় ভাবে এবং অত্যান্ত গোপনে হয়েছিল। এমন কি এই কমিটি করাকালে দীর্ঘ দিন প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যালয়ে আসেননি। কমিটি প্রকাশ না করে খুব গোপনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৪জনকে নিয়োগ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি (প্রধান শিক্ষক) প্রকাশ্যে বিদ্যালয়ে আসেন। অবশ্য ওই সময় এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন না। তবে এলাকার অনেকে বলছেন, পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক নিয়োগ বানিজ্য করতেই নানা কৌশল অবলম্ব করছেন। যদিও তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে ছিলেন।

প্রতিবেদক 

























