০৮:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদমদীঘি ও সান্তাহারে শেষ সময় ব্যস্ততায় পার করছে দর্জি কারিগররা

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ১০:৫৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০২৪
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে
শিমুল  হাসান,  ( আদমদিঘী)  প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল ফিতরের মাত্র আর কয়েকটা দিন বাকি। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর প্রত্যেকটা মুসলমানের দরজায় করো নারে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঈদ আনন্দ।  তাই আদমদিঘী ও সান্তাহার শহরের বিভিন্ন দর্জি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, গলায় ফিতে ঝুলিয়ে রঙিন চক দিয়ে কাপড়ে দাগ কাটছেন কাটিং মাস্টাররা। ‘ঘচঘচ’ করে কাপড়ে কাঁচি চালাচ্ছেন। স্বযত্নে মেপে মেপে কাপড় কেটে বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাকের আকার আনছেন। এরকম ব্যস্ততার মাঝে যখন কোন গ্রাহক পোশাক বানাতে আসছেন ঝটপট মাপজোক নিয়ে নিচ্ছেন। মাস্টারের হাতে কাপড় কাটা শেষ হলে সেলাইয়ের জন্য চলে যাচ্ছে কারিগরদের কাছে। এরকম দৃশ্য শহরের বিভিন্ন নামীদামী দর্জির দোকান থেকে পাড়া-মহল্লার টেইলাইরিং শপে। পোশাকের কাপড়, রঙ-বুনন-ডিজাইন সব মনের মত। কিন্তু শেষমেষ দেখা গেল মাপ জুতসই হচ্ছে না। হয় ঝুল অনেক বেশি নয়তো অনেক কম কিংবা গায়ে চাপানো, একেবারে আঁটোসাটো। রেডিমেড পোশাক কেনার এসব বিড়ম্বনা এড়িয়ে চলতে চান অনেকেই। তাই সঠিক মাপে পছন্দের পোশাক বানাতে অনেকেই এখন ছুটছেন দর্জিপাড়ায়। ফলে ঈদের বাজারে ব্যস্ততা বেড়েছে পাড়ামহল্লার টেইলারিং শপে। সেলাই মেশিনের একটানা শব্দের মাঝে আনন্দঘন ব্যস্ততায় আদমদীঘি ও সান্তাহারের দর্জিপাড়ার কারিগররা। দর্জিপাড়ার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের আগ থেকেই কমবেশি পোশাক তৈরির অর্ডার আসছে। রোজার পর থেকে অর্ডার বাড়ছে। ফলে কাজের চাপ ও ব্যস্ততা বেড়েছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে তত বাড়বে কাজের চাপ। বাড়বে ঈদ বাজারের ব্যস্ততা। শহরের টু-ডে টেইলার্সের সত্তাধিকারী সাথী জানান রোজার আগে থেকেই পোশাকের অর্ডার আসছে। কারিগররা পোশাক রেডি করলে ডেলিভারি দিয়ে দিচ্ছি। অনেক অর্ডার আসছে চাপ সামলাতে না পেরে ইতিমধ্যে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। সান্তাহার শহরের ফ্রেন্ডস টেইলার্স’র প্রোপ্রাইটর এস ,এম বাদশা জানান গত বছরে করোনার কারণে কাজ কম ছিল। ফলে কোন রকম ব্যবসা হয়েছিল। তবে এবার প্রচুর অর্ডার পাচ্ছি। রাত দিন মিলে কাজ করছে কারিগররা। সান্তাহার শহরের মালা হোল সংলগ্ন প্রীতি লেডিস টেইলার্স’র স্বত্বাধিকারী হাফিজুলের সাথে আলাপকালে বলেন, ‘সারা বছর যে পরিমাণ কাজ হয়; তার চেয়ে দুই ঈদে কাজের পরিমাণ বেশি। তবে গত দুই বছরের তুলনায় এবার অর্ডার পাচ্ছি ভালো। ঈদ বাজারে একসেট সালোয়ার কামিজের মুজরি ধরা হচ্ছে ৩৫০-৫০০ টাকা। শুধু সালোয়ার বানালে মজুরি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। দর্জির দোকানে কথা হয় সান্তাহার সরকারি কলেজের ছাত্র রিমনের  সাথে। তিনি জানান ‘মার্কেট থেকে পোশাক কিনলে অন্যের পোশাকের সাথে মিলে যাবে। তাই অর্ডার দিয়ে নিজের চাহিদা মত পোশাক তৈরি করছি। ফেরদৌসী  নামের এক নারী জানান ঈদকে সামনে রেখে থ্রি পিস বানাতে দর্জির দোকানে এসেছি। মাপ দিয়ে পোশাক তৈরি করলে সেটা ফিটিং ভাল হয়। রেডিমেট জামা থেকে তৈরি করা ভালো। অনার্স টেইলার্সের সত্তাধিকারী ফারুক বলেন, প্রচুর অর্ডার পাচ্ছি। শার্ট ও প্যান্টের অর্ডারের সাথে সাথে পাঞ্জাবি ও পাজামার অর্ডার বেশি। পোশাক ডেলিভারি দেয়ার সুবিধাতে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। সান্তাহারে টেইলার্স ভেদে পুরুষদের শার্টের মজুরি ৩০০-৫০০ টাকা, প্যান্ট ৪০০-৬০০ টাকা, পাঞ্জাবি ৪০০-৫০০টাকা  ও পাজামা ৩০০-৪০০ টাকা।
Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

একটু বৃষ্টিতেই পাকুল্লা হাটে জলাবদ্ধতা ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে দুর্ভোগ,ক্ষতিরমুখে পথচারী ব্যবসায়ীরা 

আদমদীঘি ও সান্তাহারে শেষ সময় ব্যস্ততায় পার করছে দর্জি কারিগররা

প্রকাশিত: ১০:৫৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০২৪
শিমুল  হাসান,  ( আদমদিঘী)  প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল ফিতরের মাত্র আর কয়েকটা দিন বাকি। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর প্রত্যেকটা মুসলমানের দরজায় করো নারে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঈদ আনন্দ।  তাই আদমদিঘী ও সান্তাহার শহরের বিভিন্ন দর্জি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, গলায় ফিতে ঝুলিয়ে রঙিন চক দিয়ে কাপড়ে দাগ কাটছেন কাটিং মাস্টাররা। ‘ঘচঘচ’ করে কাপড়ে কাঁচি চালাচ্ছেন। স্বযত্নে মেপে মেপে কাপড় কেটে বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাকের আকার আনছেন। এরকম ব্যস্ততার মাঝে যখন কোন গ্রাহক পোশাক বানাতে আসছেন ঝটপট মাপজোক নিয়ে নিচ্ছেন। মাস্টারের হাতে কাপড় কাটা শেষ হলে সেলাইয়ের জন্য চলে যাচ্ছে কারিগরদের কাছে। এরকম দৃশ্য শহরের বিভিন্ন নামীদামী দর্জির দোকান থেকে পাড়া-মহল্লার টেইলাইরিং শপে। পোশাকের কাপড়, রঙ-বুনন-ডিজাইন সব মনের মত। কিন্তু শেষমেষ দেখা গেল মাপ জুতসই হচ্ছে না। হয় ঝুল অনেক বেশি নয়তো অনেক কম কিংবা গায়ে চাপানো, একেবারে আঁটোসাটো। রেডিমেড পোশাক কেনার এসব বিড়ম্বনা এড়িয়ে চলতে চান অনেকেই। তাই সঠিক মাপে পছন্দের পোশাক বানাতে অনেকেই এখন ছুটছেন দর্জিপাড়ায়। ফলে ঈদের বাজারে ব্যস্ততা বেড়েছে পাড়ামহল্লার টেইলারিং শপে। সেলাই মেশিনের একটানা শব্দের মাঝে আনন্দঘন ব্যস্ততায় আদমদীঘি ও সান্তাহারের দর্জিপাড়ার কারিগররা। দর্জিপাড়ার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের আগ থেকেই কমবেশি পোশাক তৈরির অর্ডার আসছে। রোজার পর থেকে অর্ডার বাড়ছে। ফলে কাজের চাপ ও ব্যস্ততা বেড়েছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে তত বাড়বে কাজের চাপ। বাড়বে ঈদ বাজারের ব্যস্ততা। শহরের টু-ডে টেইলার্সের সত্তাধিকারী সাথী জানান রোজার আগে থেকেই পোশাকের অর্ডার আসছে। কারিগররা পোশাক রেডি করলে ডেলিভারি দিয়ে দিচ্ছি। অনেক অর্ডার আসছে চাপ সামলাতে না পেরে ইতিমধ্যে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। সান্তাহার শহরের ফ্রেন্ডস টেইলার্স’র প্রোপ্রাইটর এস ,এম বাদশা জানান গত বছরে করোনার কারণে কাজ কম ছিল। ফলে কোন রকম ব্যবসা হয়েছিল। তবে এবার প্রচুর অর্ডার পাচ্ছি। রাত দিন মিলে কাজ করছে কারিগররা। সান্তাহার শহরের মালা হোল সংলগ্ন প্রীতি লেডিস টেইলার্স’র স্বত্বাধিকারী হাফিজুলের সাথে আলাপকালে বলেন, ‘সারা বছর যে পরিমাণ কাজ হয়; তার চেয়ে দুই ঈদে কাজের পরিমাণ বেশি। তবে গত দুই বছরের তুলনায় এবার অর্ডার পাচ্ছি ভালো। ঈদ বাজারে একসেট সালোয়ার কামিজের মুজরি ধরা হচ্ছে ৩৫০-৫০০ টাকা। শুধু সালোয়ার বানালে মজুরি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। দর্জির দোকানে কথা হয় সান্তাহার সরকারি কলেজের ছাত্র রিমনের  সাথে। তিনি জানান ‘মার্কেট থেকে পোশাক কিনলে অন্যের পোশাকের সাথে মিলে যাবে। তাই অর্ডার দিয়ে নিজের চাহিদা মত পোশাক তৈরি করছি। ফেরদৌসী  নামের এক নারী জানান ঈদকে সামনে রেখে থ্রি পিস বানাতে দর্জির দোকানে এসেছি। মাপ দিয়ে পোশাক তৈরি করলে সেটা ফিটিং ভাল হয়। রেডিমেট জামা থেকে তৈরি করা ভালো। অনার্স টেইলার্সের সত্তাধিকারী ফারুক বলেন, প্রচুর অর্ডার পাচ্ছি। শার্ট ও প্যান্টের অর্ডারের সাথে সাথে পাঞ্জাবি ও পাজামার অর্ডার বেশি। পোশাক ডেলিভারি দেয়ার সুবিধাতে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। সান্তাহারে টেইলার্স ভেদে পুরুষদের শার্টের মজুরি ৩০০-৫০০ টাকা, প্যান্ট ৪০০-৬০০ টাকা, পাঞ্জাবি ৪০০-৫০০টাকা  ও পাজামা ৩০০-৪০০ টাকা।