০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদমদীঘির নশরতপুর খাদ্য গুদামে বিভিন্ন জেলার চাল মজুত —প্রকল্পে অনিয়ম

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ১১:৫০:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর এলএসডিতে (লোকাল স্টোরেজ ডিপো) খাদ্য গুদামে উপজেলার চালকলের সাথে দিনাজপুরের পুলহাট, বগুড়ার শেরপুর, ঠিকানাবিহীন এলাকা এবং পুস্টি চাউল উপজেলার নিম্নমানের চাল সংগ্রহ, মজুত ও সরকারি প্রকল্পে সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয় থেকে ভারনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নে তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র নারীদের জন্য প্রতি মাসে বিনামূল্যে ৩০ কেজি করে চাল তথা খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট সোমবার আদমদীঘি উপজেলার কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত নারীদের মধ্যে ওই প্রকল্পের খাদ্য সহায়তা হিসাবে চাল বিতরণ করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিতরণ করা চালের বস্তায় থাকা টেনসিল অনুযায়ী দিনাজপুরের পুলহাট এলাকার ইনশাআল্লাহ অটো রাইস মিল, বগুড়ার শেরপুরের উদয়ন অটো রাইস মিল ও ঠিকানা না থাকা মদিনা অটো রাইস মিল (প্রোপাইটার আব্দুল হাকিম) লেখা এবং কোন কোন বস্তার গায়ে পুস্টি চাউল লেখা টেনসিল রয়েছে। পুস্টি চাউল লেখা বস্তার নীচে একাধিক অস্পষ্ট টেনসিল থাকায় কোথাকার ও কোন মিলের চাল সেটা সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিতরণ করা চাল কোন খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহ করা হয়েছে জানতে চাইলে ওই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম জানান বরাবরের মত নসরতপুর এলএসডি থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। এদিকে, সুবিধাভোগীদের গত আমন মৌসুমে সংগ্রহ করা চাল বরাদ্দ করা হলেও ওই চালের বস্তার গায়ে থাকা টেনসিলে বোরো/২০২৫ লেখা রয়েছে। বিতরণ করা চালের মধ্যে উপজেলার সান্তাহারের বুশরা গ্রুপের চালগুলো ভালো মানের হলেও ওই সব বস্তার চালগুলো ছিল নিম্নমানের। পাশাপাশি আদমদীঘি উপজেলা পুস্টি চাউলের আওতাভুক্ত নয়। কিন্তু উপজেলার ওই গুদাম থেকে পুস্টি চাল সরবরাহ করা চালের মধ্যে পুস্টি চাউল রয়েছে। অপর দিকে আদমদীঘি উপজেলার সদর ও নসরতপুর এলএসডিতে শুধুমাত্র উপজেলায় অবস্থিত অটো, সেমিঅটো এবং হাস্কিং চালকলের চাল সংগ্রহ ও মজুত করা বাধ্যতামুলক। কিন্তু সেখানে কি করে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানের চালকলের চাল ও পুস্টি চাউল সংগ্রহ ও মজুত করা হয়েছে সে বিষয়ে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে সরেজমিনে গিয়ে ওই খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুমা আফরিনকে পাওয়া যায়নি। পর দিন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রয়েছেন বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
এবিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে আদমদীঘি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার আবুল বাশার সাংবাদিকদের বলেন, এমনটা তো হবার কথা না। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে। বিস্তারিত জানতে ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার তার অফিসে সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে জানান। সেই মতে বৃহস্পতিবার উপজেলা খাদ্য অফিসে গনমাধ্যমকর্মীরা গেলে খাদ্য অফিসারকে পাওয়া যায়নি। এরপর তাকে ফোন দিলে তিনি বগুড়া খাদ্য নিয়ন্ত্রন দপ্তরে রয়েছেন বলে জানান।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

মহাস্থান মাজার জামে মসজিদে সাবেক এমপি মরহুম সাইদ ইস্কান্দার এর আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল 

আদমদীঘির নশরতপুর খাদ্য গুদামে বিভিন্ন জেলার চাল মজুত —প্রকল্পে অনিয়ম

প্রকাশিত: ১১:৫০:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর এলএসডিতে (লোকাল স্টোরেজ ডিপো) খাদ্য গুদামে উপজেলার চালকলের সাথে দিনাজপুরের পুলহাট, বগুড়ার শেরপুর, ঠিকানাবিহীন এলাকা এবং পুস্টি চাউল উপজেলার নিম্নমানের চাল সংগ্রহ, মজুত ও সরকারি প্রকল্পে সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয় থেকে ভারনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নে তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র নারীদের জন্য প্রতি মাসে বিনামূল্যে ৩০ কেজি করে চাল তথা খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট সোমবার আদমদীঘি উপজেলার কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত নারীদের মধ্যে ওই প্রকল্পের খাদ্য সহায়তা হিসাবে চাল বিতরণ করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিতরণ করা চালের বস্তায় থাকা টেনসিল অনুযায়ী দিনাজপুরের পুলহাট এলাকার ইনশাআল্লাহ অটো রাইস মিল, বগুড়ার শেরপুরের উদয়ন অটো রাইস মিল ও ঠিকানা না থাকা মদিনা অটো রাইস মিল (প্রোপাইটার আব্দুল হাকিম) লেখা এবং কোন কোন বস্তার গায়ে পুস্টি চাউল লেখা টেনসিল রয়েছে। পুস্টি চাউল লেখা বস্তার নীচে একাধিক অস্পষ্ট টেনসিল থাকায় কোথাকার ও কোন মিলের চাল সেটা সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিতরণ করা চাল কোন খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহ করা হয়েছে জানতে চাইলে ওই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম জানান বরাবরের মত নসরতপুর এলএসডি থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। এদিকে, সুবিধাভোগীদের গত আমন মৌসুমে সংগ্রহ করা চাল বরাদ্দ করা হলেও ওই চালের বস্তার গায়ে থাকা টেনসিলে বোরো/২০২৫ লেখা রয়েছে। বিতরণ করা চালের মধ্যে উপজেলার সান্তাহারের বুশরা গ্রুপের চালগুলো ভালো মানের হলেও ওই সব বস্তার চালগুলো ছিল নিম্নমানের। পাশাপাশি আদমদীঘি উপজেলা পুস্টি চাউলের আওতাভুক্ত নয়। কিন্তু উপজেলার ওই গুদাম থেকে পুস্টি চাল সরবরাহ করা চালের মধ্যে পুস্টি চাউল রয়েছে। অপর দিকে আদমদীঘি উপজেলার সদর ও নসরতপুর এলএসডিতে শুধুমাত্র উপজেলায় অবস্থিত অটো, সেমিঅটো এবং হাস্কিং চালকলের চাল সংগ্রহ ও মজুত করা বাধ্যতামুলক। কিন্তু সেখানে কি করে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানের চালকলের চাল ও পুস্টি চাউল সংগ্রহ ও মজুত করা হয়েছে সে বিষয়ে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে সরেজমিনে গিয়ে ওই খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুমা আফরিনকে পাওয়া যায়নি। পর দিন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রয়েছেন বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
এবিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে আদমদীঘি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার আবুল বাশার সাংবাদিকদের বলেন, এমনটা তো হবার কথা না। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে। বিস্তারিত জানতে ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার তার অফিসে সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে জানান। সেই মতে বৃহস্পতিবার উপজেলা খাদ্য অফিসে গনমাধ্যমকর্মীরা গেলে খাদ্য অফিসারকে পাওয়া যায়নি। এরপর তাকে ফোন দিলে তিনি বগুড়া খাদ্য নিয়ন্ত্রন দপ্তরে রয়েছেন বলে জানান।