০১:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদমদীঘিতে অতি বৃষ্টিতে শাক-সবজি ক্ষেত ও বীজতলা পানির নিচে

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ১১:৩২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ গত দুই দিন ধরে হওয়া এক টানা অতি বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া কৃষিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে শাক-সবজি, কাঁচা মরিচ ও আমনের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে কৃষক ও ভোক্তাদের হাত কপালে উঠেছে। এমন অবস্থা আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে শত শত বিঘা জমির শাক-সবজিতে ও আমনের চারায় পচন ধরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে করে সবজির ফলন কমে গিয়ে হু হু করে দাম বেড়ে যাবে কাঁচা মরিচ, পটল, করলা, বরবটি, লাউ-কদু সহ বিভিন্ন সবজি এবং পুঁই ও কলমি সহ অন্যান্য শাকের। ফলে চড়া দামে কিনতে গিয়ে পকেটে টান পড়বে ভোক্তাদের। আবার নষ্ট হয়ে যাওয়া আমনের বীজতলা নতুন তৈরি ও বীজ ফেলতে গিয়ে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রান্তিক কৃষকরা। শুক্রবার(১০ জুলাই) উপজেলার কোমারপুর, জিনইর, কেশরতা, ডালম্বা, শালগ্রাম, আমইল, কোমারভোগ দমদমা, সান্দিড়া সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৈরী আবহাওয়া ও অতি বৃষ্টিতে সবজি চাষিরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এসব এলাকায় কাঁচামরিচ, শিম, লাউ, পটল, বেগুন, শসা, মুলা,ঝিঙ্গাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে আদমদীঘি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভায় প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন শাক-সবজি এবং ৫৫ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচ আবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার বিঘা জমিতে রোপনের জন্য করা রোপা আমনের বীজতলা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে হাজারো কৃষকের প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কোমারপুর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ২০ শতক জমিতে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে মরিচ গাছ লাগিয়েছিলাম। মাত্র ৩০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করেছি। হঠাৎ বৃষ্টিতে মরিচ ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়াতে মরিচ গাছে পচল ধরতে শুরু করেছে। ফলে কেউ কেউ তাড়াহুড়ো করে মরিচ তুলে ফেলছে। এমন চললে বাজারে মরিচের সংকট দেখা দেবে, এতে করে বাজারে দাম বাড়বে। আমইল গ্রামের কৃষক নুর ইসলাম জানান, প্রচুর বৃষ্টি হওযায় তার নিচু সবজি ক্ষেতে পানি জমে পটল, মুলা,শশা গাছ গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ রবিউল ইসলাম জানান, ক্ষেত থেকে পানি দ্রুত অপসারণ করা না গেলে মরিচ গাছ সহ সবজি ক্ষেতে ছত্রাকের আক্রমণ হতে পারে। মারা যেতে পারে গাছ গুলো । এ জন্য মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে কৃষকদের তাদের জমিতে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পরামর্শ দিচ্ছেন। এটা করা সম্ভব হলে এসব আবাদ ও বীজতলার ক্ষতি বহুলাংশে কমে যাবে।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

একটু বৃষ্টিতেই পাকুল্লা হাটে জলাবদ্ধতা ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে দুর্ভোগ,ক্ষতিরমুখে পথচারী ব্যবসায়ীরা 

আদমদীঘিতে অতি বৃষ্টিতে শাক-সবজি ক্ষেত ও বীজতলা পানির নিচে

প্রকাশিত: ১১:৩২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ গত দুই দিন ধরে হওয়া এক টানা অতি বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া কৃষিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে শাক-সবজি, কাঁচা মরিচ ও আমনের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে কৃষক ও ভোক্তাদের হাত কপালে উঠেছে। এমন অবস্থা আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে শত শত বিঘা জমির শাক-সবজিতে ও আমনের চারায় পচন ধরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে করে সবজির ফলন কমে গিয়ে হু হু করে দাম বেড়ে যাবে কাঁচা মরিচ, পটল, করলা, বরবটি, লাউ-কদু সহ বিভিন্ন সবজি এবং পুঁই ও কলমি সহ অন্যান্য শাকের। ফলে চড়া দামে কিনতে গিয়ে পকেটে টান পড়বে ভোক্তাদের। আবার নষ্ট হয়ে যাওয়া আমনের বীজতলা নতুন তৈরি ও বীজ ফেলতে গিয়ে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রান্তিক কৃষকরা। শুক্রবার(১০ জুলাই) উপজেলার কোমারপুর, জিনইর, কেশরতা, ডালম্বা, শালগ্রাম, আমইল, কোমারভোগ দমদমা, সান্দিড়া সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৈরী আবহাওয়া ও অতি বৃষ্টিতে সবজি চাষিরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এসব এলাকায় কাঁচামরিচ, শিম, লাউ, পটল, বেগুন, শসা, মুলা,ঝিঙ্গাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে আদমদীঘি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভায় প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন শাক-সবজি এবং ৫৫ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচ আবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার বিঘা জমিতে রোপনের জন্য করা রোপা আমনের বীজতলা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে হাজারো কৃষকের প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কোমারপুর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ২০ শতক জমিতে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে মরিচ গাছ লাগিয়েছিলাম। মাত্র ৩০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করেছি। হঠাৎ বৃষ্টিতে মরিচ ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়াতে মরিচ গাছে পচল ধরতে শুরু করেছে। ফলে কেউ কেউ তাড়াহুড়ো করে মরিচ তুলে ফেলছে। এমন চললে বাজারে মরিচের সংকট দেখা দেবে, এতে করে বাজারে দাম বাড়বে। আমইল গ্রামের কৃষক নুর ইসলাম জানান, প্রচুর বৃষ্টি হওযায় তার নিচু সবজি ক্ষেতে পানি জমে পটল, মুলা,শশা গাছ গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ রবিউল ইসলাম জানান, ক্ষেত থেকে পানি দ্রুত অপসারণ করা না গেলে মরিচ গাছ সহ সবজি ক্ষেতে ছত্রাকের আক্রমণ হতে পারে। মারা যেতে পারে গাছ গুলো । এ জন্য মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে কৃষকদের তাদের জমিতে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পরামর্শ দিচ্ছেন। এটা করা সম্ভব হলে এসব আবাদ ও বীজতলার ক্ষতি বহুলাংশে কমে যাবে।