০২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স: গ্রাম পুলিশকে আদমদীঘি থানার  ওসি কামরুজ্জামান মিয়ার কড়া বার্তা

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ১১:১৪:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে
শিমুল হাসান, স্টাফ রিপোর্টার: মঙ্গলবার ( ৩০জুন) “গ্রাম পুলিশ হলো পুলিশের চোখ। আপনারা সতর্ক থাকলে অপরাধীরা পালাবার পথ পাবে না।” — আজ রোজ মঙ্গলবার আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: কামরুজ্জামান মিয়া গ্রাম পুলিশ সদস্যদের এক বিশেষ সভায় এই কড়া ও দিক-নির্দেশনামূলক বার্তা দেন। থানা চত্বরে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপজেলার সকল গ্রাম পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে বেশ কিছু যুগান্তকারী নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওসির এই সময়োপযোগী ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য গ্রামীণ জনপদে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ​সভায় ওসি মো: কামরুজ্জামান মিয়া মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে স্পষ্ট জানান যে, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক বিক্রেতা বা সেবনকারী যেই হোক না কেন, তথ্য পাওয়া মাত্রই তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে গ্রামাঞ্চলে শান্তি বিনষ্টকারী প্রধান কারণ, অর্থাৎ জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, যেকোনো জমি সংক্রান্ত বিরোধ চরম রূপ নেওয়ার আগেই থানা পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে গ্রাম পুলিশকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ​বক্তব্যে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের সাথে পুলিশের সুদৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। ওসি উল্লেখ করেন, গ্রাম পুলিশ সদস্যরা সাধারণ মানুষের ঘরের কাছের মানুষ, তাই তাদের মাধ্যমেই পুলিশের মূল সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। সমাজে ইভটিজিং, বাল্যবিয়ে, জুয়া এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি রুখে দিতে গ্রাম পুলিশকে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখার পাশাপাশি বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া যেকোনো গুজব বা সাইবার অপরাধ সম্পর্কে গ্রামীণ জনপদে সচেতনতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানানো হয়, যাতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়। ​পরিশেষে ওসি মো: কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, আদমদীঘি থানাকে একটি আদর্শ ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ প্রশাসন বদ্ধপরিকর। গ্রাম পুলিশ যদি তাদের দায়িত্ব সততার সাথে পালন করে এবং সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করে, তবে এই থানায় কোনো অপরাধী মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। যেকোনো তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সবার উদ্দেশ্যে বলেন, তথ্যদাতার পরিচয় সবসময় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। সভায় উপস্থিত গ্রাম পুলিশ সদস্যরা ওসির এই দূরদর্শী দিক-নির্দেশনাকে সাধুবাদ জানান এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিজেদের সর্বোচ্চ উজাড় করে দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

একটু বৃষ্টিতেই পাকুল্লা হাটে জলাবদ্ধতা ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে দুর্ভোগ,ক্ষতিরমুখে পথচারী ব্যবসায়ীরা 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স: গ্রাম পুলিশকে আদমদীঘি থানার  ওসি কামরুজ্জামান মিয়ার কড়া বার্তা

প্রকাশিত: ১১:১৪:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
শিমুল হাসান, স্টাফ রিপোর্টার: মঙ্গলবার ( ৩০জুন) “গ্রাম পুলিশ হলো পুলিশের চোখ। আপনারা সতর্ক থাকলে অপরাধীরা পালাবার পথ পাবে না।” — আজ রোজ মঙ্গলবার আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: কামরুজ্জামান মিয়া গ্রাম পুলিশ সদস্যদের এক বিশেষ সভায় এই কড়া ও দিক-নির্দেশনামূলক বার্তা দেন। থানা চত্বরে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপজেলার সকল গ্রাম পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে বেশ কিছু যুগান্তকারী নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওসির এই সময়োপযোগী ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য গ্রামীণ জনপদে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ​সভায় ওসি মো: কামরুজ্জামান মিয়া মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে স্পষ্ট জানান যে, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক বিক্রেতা বা সেবনকারী যেই হোক না কেন, তথ্য পাওয়া মাত্রই তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে গ্রামাঞ্চলে শান্তি বিনষ্টকারী প্রধান কারণ, অর্থাৎ জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, যেকোনো জমি সংক্রান্ত বিরোধ চরম রূপ নেওয়ার আগেই থানা পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে গ্রাম পুলিশকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ​বক্তব্যে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের সাথে পুলিশের সুদৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। ওসি উল্লেখ করেন, গ্রাম পুলিশ সদস্যরা সাধারণ মানুষের ঘরের কাছের মানুষ, তাই তাদের মাধ্যমেই পুলিশের মূল সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। সমাজে ইভটিজিং, বাল্যবিয়ে, জুয়া এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি রুখে দিতে গ্রাম পুলিশকে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখার পাশাপাশি বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া যেকোনো গুজব বা সাইবার অপরাধ সম্পর্কে গ্রামীণ জনপদে সচেতনতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানানো হয়, যাতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়। ​পরিশেষে ওসি মো: কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, আদমদীঘি থানাকে একটি আদর্শ ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ প্রশাসন বদ্ধপরিকর। গ্রাম পুলিশ যদি তাদের দায়িত্ব সততার সাথে পালন করে এবং সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করে, তবে এই থানায় কোনো অপরাধী মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। যেকোনো তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সবার উদ্দেশ্যে বলেন, তথ্যদাতার পরিচয় সবসময় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। সভায় উপস্থিত গ্রাম পুলিশ সদস্যরা ওসির এই দূরদর্শী দিক-নির্দেশনাকে সাধুবাদ জানান এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিজেদের সর্বোচ্চ উজাড় করে দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।