০৭:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অবশেষে আদমদীঘিতে অনুমোদনহীন ইটভাটার বিরুদ্ধে জরিমানা

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ০২:২৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ১২৩ বার পড়া হয়েছে
আদমদিঘী (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার আদমদীঘিতে পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চারটি ইটভাটাকে মোট ৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা সুলতানা। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়া ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মেসার্স ডিজিএম ব্রিকসকে ৩ লাখ টাকা, মেসার্স ডলার ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা, মেসার্স আরোয়া ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা এবং মেসার্স এন অ্যান্ড এস ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট ইটভাটা মালিকদের দ্রুত পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবেশ রক্ষা এবং অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। অভিযানের সময় জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার–তিলোকপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্যে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে আরোয়া, বাবলু ও ডিজিএমসহ পাঁচটি ইটভাটা। সম্পূর্ণ গ্রামীণ পরিবেশ ও ফসলি জমির একেবারে সন্নিকটে এসব ভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স আরোয়ার স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব আলজাহারুল ইসলাম সাজ্জাদ, মেসার্স ডিজিএম ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী, মেসার্স ডলার ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী ডলার মাহমুদ এবং মেসার্স এন অ্যান্ড এস ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী ওয়াহেদ আহম্মেদ ডাবলু। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং গোপনে বিভিন্ন দপ্তর ‘ম্যানেজ’ করে তারা দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সংশ্লিষ্ট ইটভাটাগুলোর কোনো বৈধ অনুমোদন, লাইসেন্স কিংবা পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। অর্থাৎ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনকে প্রকাশ্যে উপেক্ষা করেই চলছে এসব ভাটার কার্যক্রম। ইটভাটা থেকে নির্গত ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আশপাশের পরিবেশ। শুধু তাই নয় ধোঁয়ার কারণে পথচারীদের চোখে তীব্র জ্বালা-পোড়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। ফলে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। এ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের ১ মাস পর আজ বুধবার প্রশাসনের উদ্যোগে ওইসব ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধভাবে পরিচালিত ভাটাগুলোকে জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে আইন মেনে চলার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

একটু বৃষ্টিতেই পাকুল্লা হাটে জলাবদ্ধতা ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে দুর্ভোগ,ক্ষতিরমুখে পথচারী ব্যবসায়ীরা 

অবশেষে আদমদীঘিতে অনুমোদনহীন ইটভাটার বিরুদ্ধে জরিমানা

প্রকাশিত: ০২:২৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
আদমদিঘী (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার আদমদীঘিতে পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চারটি ইটভাটাকে মোট ৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা সুলতানা। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়া ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মেসার্স ডিজিএম ব্রিকসকে ৩ লাখ টাকা, মেসার্স ডলার ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা, মেসার্স আরোয়া ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা এবং মেসার্স এন অ্যান্ড এস ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট ইটভাটা মালিকদের দ্রুত পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবেশ রক্ষা এবং অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। অভিযানের সময় জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার–তিলোকপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্যে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে আরোয়া, বাবলু ও ডিজিএমসহ পাঁচটি ইটভাটা। সম্পূর্ণ গ্রামীণ পরিবেশ ও ফসলি জমির একেবারে সন্নিকটে এসব ভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স আরোয়ার স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব আলজাহারুল ইসলাম সাজ্জাদ, মেসার্স ডিজিএম ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী, মেসার্স ডলার ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী ডলার মাহমুদ এবং মেসার্স এন অ্যান্ড এস ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী ওয়াহেদ আহম্মেদ ডাবলু। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং গোপনে বিভিন্ন দপ্তর ‘ম্যানেজ’ করে তারা দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সংশ্লিষ্ট ইটভাটাগুলোর কোনো বৈধ অনুমোদন, লাইসেন্স কিংবা পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। অর্থাৎ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনকে প্রকাশ্যে উপেক্ষা করেই চলছে এসব ভাটার কার্যক্রম। ইটভাটা থেকে নির্গত ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আশপাশের পরিবেশ। শুধু তাই নয় ধোঁয়ার কারণে পথচারীদের চোখে তীব্র জ্বালা-পোড়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। ফলে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। এ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের ১ মাস পর আজ বুধবার প্রশাসনের উদ্যোগে ওইসব ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধভাবে পরিচালিত ভাটাগুলোকে জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে আইন মেনে চলার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।