০৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুপচাঁচিয়ায় মাটি ভরাটে বন্ধ ব্রিজ- কালভার্ট কৃষিতে বিরূপ প্রভাব 

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ০১:৩০:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

সুশান্ত মালাকার দুপচাঁচিয়া প্রতিনিধিঃ বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় মাটি-ভরাটের কারণে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ব্রিজ-কালভার্ট সেই সাথে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বসতি এলাকা সহ ফসলের মাটজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ব্রিজ-কালভার্ট মাটি ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করার প্রবণতা রুখতে না পারলে এক- দুই বছরের মধ্যে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। তাছাড়াও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতিতে। দুপচাঁচিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাধাহীন পানি প্রবাহের জন্য সড়কে ব্রিজ নির্মাণ এবং কালভার্ট স্থাপন করা হয় সরকারি অর্থায়নে। বর্ষা মৌসুমে প্রবল বৃষ্টিপাত হলে সড়ক ও রাস্তায় বাধাগ্রস্ত পানি ব্রিজ এবং কালভার্ট দিয়ে অতি সহজেই ইরামতি খাল ও নাগর নদীতে প্রবাহিত হতো। ফলে বসতবাড়ি এবং আবাদী জমি থাকত জলাবদ্ধমুক্ত। কিন্তু দিন দিন অপরকল্পিত ভাবে বাড়িঘর নির্মাণ করার ফলে পানি প্রবাহের পথগুলো একেবারেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া মাটি-ভরাট করে ব্রিজ- কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দিচ্ছেন একশ্রেণীর প্রভাবশালী মহল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা বলছেন, সামান্য বৃষ্টিতেই ফসলি মাঠ জলাবদ্ধতা হয়। ফলে ক্ষেতে উৎপাদিত ফসল পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বেশি জলাবদ্ধতার কারণে জমি ধানের চারা রোপন করা অসম্ভব হয়ে পরে। তাছাড়াও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি শ্রমিকদের অধিক হারে মজুরি দিতে হয়। এদিকে দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া ইউনিয়নের কইল গ্রামের কৃষক ইলিয়াস আলী সহ আরো অনেকে প্রতিবেদককে জানান, আলতাফ নগর (ভায়া) কইল (ভায়া) কুন্দগ্রাম টু তালোড়া রোডে কইল টু দোগাছি রাস্তায় পানি নিষ্কাশনের জন্য দুটি ব্রিজ থাকলেও বেশ কিছুদিন আগে কইল বড়পুকুরিয়া নামক স্থানের কালভার্টটি মাটি দিয়ে ভরাট করার ফলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শত শত বিঘা আবাদি জমি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে সময় মত আবাদি জমিতে ধানের চারা রোপণ করা অসম্ভব হয়ে পরেছে। তাদের দাবি ব্রিজ কালভার্ট গুলো পানি প্রবাহের জন্য সচল করা দরকার। কৃষি গবেষকদের মতে গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে বন্ধ ব্রিজ- কালভার্ট সনাক্ত করে ফসলি মাঠ জলাবদ্ধতা মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

বগুড়ায় অসুস্থ সাংবাদিক মুসা’র শয্যা’র পাশে জাসাস নেতা শফিক ও ছোটন

দুপচাঁচিয়ায় মাটি ভরাটে বন্ধ ব্রিজ- কালভার্ট কৃষিতে বিরূপ প্রভাব 

প্রকাশিত: ০১:৩০:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫

সুশান্ত মালাকার দুপচাঁচিয়া প্রতিনিধিঃ বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় মাটি-ভরাটের কারণে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ব্রিজ-কালভার্ট সেই সাথে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বসতি এলাকা সহ ফসলের মাটজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ব্রিজ-কালভার্ট মাটি ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করার প্রবণতা রুখতে না পারলে এক- দুই বছরের মধ্যে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। তাছাড়াও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতিতে। দুপচাঁচিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাধাহীন পানি প্রবাহের জন্য সড়কে ব্রিজ নির্মাণ এবং কালভার্ট স্থাপন করা হয় সরকারি অর্থায়নে। বর্ষা মৌসুমে প্রবল বৃষ্টিপাত হলে সড়ক ও রাস্তায় বাধাগ্রস্ত পানি ব্রিজ এবং কালভার্ট দিয়ে অতি সহজেই ইরামতি খাল ও নাগর নদীতে প্রবাহিত হতো। ফলে বসতবাড়ি এবং আবাদী জমি থাকত জলাবদ্ধমুক্ত। কিন্তু দিন দিন অপরকল্পিত ভাবে বাড়িঘর নির্মাণ করার ফলে পানি প্রবাহের পথগুলো একেবারেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া মাটি-ভরাট করে ব্রিজ- কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দিচ্ছেন একশ্রেণীর প্রভাবশালী মহল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা বলছেন, সামান্য বৃষ্টিতেই ফসলি মাঠ জলাবদ্ধতা হয়। ফলে ক্ষেতে উৎপাদিত ফসল পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বেশি জলাবদ্ধতার কারণে জমি ধানের চারা রোপন করা অসম্ভব হয়ে পরে। তাছাড়াও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি শ্রমিকদের অধিক হারে মজুরি দিতে হয়। এদিকে দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া ইউনিয়নের কইল গ্রামের কৃষক ইলিয়াস আলী সহ আরো অনেকে প্রতিবেদককে জানান, আলতাফ নগর (ভায়া) কইল (ভায়া) কুন্দগ্রাম টু তালোড়া রোডে কইল টু দোগাছি রাস্তায় পানি নিষ্কাশনের জন্য দুটি ব্রিজ থাকলেও বেশ কিছুদিন আগে কইল বড়পুকুরিয়া নামক স্থানের কালভার্টটি মাটি দিয়ে ভরাট করার ফলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শত শত বিঘা আবাদি জমি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে সময় মত আবাদি জমিতে ধানের চারা রোপণ করা অসম্ভব হয়ে পরেছে। তাদের দাবি ব্রিজ কালভার্ট গুলো পানি প্রবাহের জন্য সচল করা দরকার। কৃষি গবেষকদের মতে গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে বন্ধ ব্রিজ- কালভার্ট সনাক্ত করে ফসলি মাঠ জলাবদ্ধতা মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।