
মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ বগুড়ার গাবতলীতে পূর্বের শুত্রুতার জের ধরে ৮ ডিসেম্বর রবিবার ধান চাষের মাঠে প্রকাশ্যে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে সজল মিয়া প্রামানিক (৪৬) নামের এক কৃষককে হত্যা করেছে সন্ত্রাসী জনি মিয়াসহ অন্যান্যরা। এ ছাড়া এলোপাতারী ছুরিকাঘাত করে রুবেল মিয়া (৪৫) ও সোহেল মিয়া (৩৩)কে গুরুত্বর আহত করেছে ওই সন্ত্রাসীরা। এমন ঘটনাটি ঘটেছে ৮ ডিসেম্বর রবিবার সকাল আনুমানিক পৌনে ১০টায় উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নেরতেলিহাটা মাটিলের ধান চাষের মাঠে। স্থানীয় লোকজন আহতদেরকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে দিয়েছে। খবর পেয়ে সেনা বাহিনী, ডিবি পুলিশ ও গাবতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ সজল মিয়া প্রামানিকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দিয়েছে। নিহত সজল মিয়া প্রামানিক তেলিহাটা দক্ষিনপাড়া (লয়াপাড়া) গ্রামের মহির উদ্দিন খোকা’র ছেলে। গুরুত্বর আহত রুবেল ও সোহেল একই গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে এবং নিহত সজলের ভাগ্নে।
জানা গেছে, ওই তেলিহাটা ফকিরেপাড়া গ্রামের মৃত বুদো মোল্লা’র ছেলে সিরাজুল ইসলামের সাথে তেলিহাটা দক্ষিনপাড়া (লয়াপাড়া) গ্রামের মহির উদ্দিন খোকা’র ছেলে সজল মিয়া প্রামানিকের সাথে জমিতে পানি সেচ মেশিন (বরেন্দ্র) নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। প্রথমে জমিতে পানি সেচ মেশিন (বরেন্দ্র) চালায় সিরাজুল ইসলাম। পরে তার (বরেন্দ্র) বন্ধ হলে সজল মিয়া প্রামানিক এর দায়িত্ব নিয়ে জমি গুলোতে পানি সেচ দেয়। সিরাজুল ও সজল এর মধ্যে বিরোধ চরমে উঠলে কর্তৃপক্ষ জমিতে পানি সেচ মেশিন (বরেন্দ্র) উভয়ের কাউকে না দিয়ে তা বন্ধ রাখা হয়। এর আগে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষও হয়েছিল। ফলে সিরাজুল ইসলাম ও তার ছেলে জনিদের কোন ক্রমেই ক্ষোভ শেষ না হলে সজল মিয়া প্রামানিকদের ঘায়েল করতে সুজুগ খুজতে থাকে। অপর দিকে জমিতে পানি সেচ মেশিন (বরেন্দ্র) বন্ধ থাকলেও সজল মিয়া প্রামানিক নিজস্ব শ্যলো মেশিন দিয়ে ওই মাঠে আমন ধান ক্ষেতে পানি দেন। অন্য জমির মালিকরা শ্যলো মেশিনের পানি নেয়ায় তা খরচা বাবদ সজলকে ধান ভাগ করে দেয়ার সময় বিভিন্ন ধরনের কথা চলছিল। এমন সময় মাটিলের ধান চাষের মাঠে ঘাতক সিরাজুল ইসলাম তার ছেলে ঘাতক জনি, আরিফুল, শরিফুলসহ অন্যান্যরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে অযাথা তর্কে জড়িয়ে পড়ে। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই ঘাতকরা সজল ও তার ভাগ্নে রুবেল ও সোহেলকে এলোপাতারীভাবে ছুরিকাঘাত করে গুরুত্বর আহত করে। ছুরিকাঘাতে সজল মিয়া প্রামানিক এর ভুড়ি বের হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। তবে এমন সন্ত্রাসী ঘটনায় গ্রামবাসি ক্ষিপ্ত হয়ে ঘাতক এর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর এবং বাড়ির খড়ের পালায় অগ্নি সংযোগ করেছে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দেন। এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিক ইকবাল এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ঘটনার পর পরই আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেছে। এ ছাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করতে আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে। নিহতের পরিবার ও এলাকার অনেকে বলেছেন, ঘাতক জনি মিয়া গত সরকারের সময় বগুড়া শহরের আওয়ামী লীগের এক নেতার শীর্ষ ক্যাডার ছিল।

প্রতিবেদক 




















