
শিমুল হাসান, আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: আদমদীঘির সালগ্রামে নাচ গান খেলাধূলাসহ নানা আয়োজনে শেষ হলো ব্যক্তিক্রমধর্মী নবান্ন উৎসব। জামাই মেয়ে আত্মীয় স্বজনের কোলাহলে মুখরিত ওই গ্রাম। সারা গ্রাম জুড়ে বসে মেলার পসরা। ভিড় করে শিশু কিশোরসহ সব বয়সের নারী পুরুষ। বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) নবান্ন হলেও গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে ঘুম ছিল না গ্রামবাসীর। ৯টি বড় আকারের মহিষ ও ৮টি গরু জবাই করে মাংস কেনাবেচা হয়েছে সারা রাত। সকাল ৮টায় বাজার বসার আগেই বিক্রি শেষ হয়েছে ১০২ মণ গরু মহিষের মাংস। ব্যতিক্রমধর্মী এই নবান্ন উৎসব পালন এলাকাবাসীকে তাক লাগিয়ে দেয়। এবার মাংসের পাশাপাশি বড়বড় মাছেরও মেলা বসে।
বাড়ি বাড়ি আসা মেয়ে জামাই বড়বড় রুই কাতলা মাছ কিনে নিয়ে যান শ্বশুর বাড়িতে। এ যেন জামাইদের মাছ কেনার প্রতিযোগিতারও উৎসব। সালগ্রামের এই নবান্ন উৎসব চিরাচরিতভাবে দীর্ঘদিন যাবত চলে আসছে। এ যেন ঈদের আনন্দকেও হার মানায়। বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) ছিল বাংলা অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিন। বাঙালিদের নতুন ধানের নবান্ন উৎসব। উপজেলার কোন কোন গ্রামে ছোট আকারে নবান্ন উৎসব পালন করে, আবার কোন গ্রামে পালন করেও না। কিন্তু ব্যতিক্রমী গ্রাম হলো উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের সালগ্রাম। এই গ্রামে নবান্ন উৎসবকে ঘিরে সকাল থেকে তিনদিনব্যপি পাড়ায় পাড়ায় শিশু কিশোর কিশোরীদের খেলাধূলার আয়োজন ও রাতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অয়োজন করা হয়। নবান্ন ৎসবে শুধু শালগ্রাম নয় আশে পাশের গ্রামের মেয়ে জামাইসহ দূর দূরান্ত থেকে শতশত আত্মীয় স্বজনের সমাগম ঘটে এই গ্রামে। গ্রামের রাস্তার দুইধারে ফাঁকা জায়গা দখল করে চুড়ি ফিতা, মিষ্টি, খেলনার দোকানসহ নানা পণ্যের মেলা বসে। এই উৎসবের দিন এবার বড় আকারের ৯টি মহিষ ও ৮ টি গরু জবাই করে প্রায় ১০২ মণ মাংস সকাল ৮টার মধ্যেই বিক্রি শেষ হয়ে যায়। তাই ওই গ্রামের অনেক লোক গ্রামে মাংস না পেয়ে আদমদীঘি সদর থেকে মাংস কিনে আনেন। সালগ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি মন্টু মিয়া জানান, তার আত্মীয় স্বজনদের আপ্যায়নে মাংস, মিষ্টি. দই, শিড়নিসহ নানা খাবার কেনা কাটা করা হয়েছে। সালগ্রামের ৭৫ বছর বয়সের বৃদ্ধ হাজি আলতাফ আলী খাঁ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গোলাম মোস্তফা, রইছ উদ্দিনসহ অনেকেই জানান, তাদের এই নবান্ন উৎসবের প্রথা দুই‘শ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে।

প্রতিবেদক 




















