০৭:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ নির্যাতন মামলায় আটক-১ 

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ১২:২৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • ১১৬ বার পড়া হয়েছে
আব্দুর রাজ্জাক সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা মিলনের পাড়া গ্রামে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে নির্যাতন মামলায় ১জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

১৮ সেপ্টেম্বর সোমবার দিবাগত রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে‌ আটক করে। আটককৃত ব্যক্তি ওই এলাকার হাফিজার সরকারের ছেলে বাটু সরকার।

উল্লেখ্য নয় বছর আগে  উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নে মিলনের পাড়া গ্রামের আব্দুল বারী শেখের ছেলে আপেল শেখের সঙ্গে একই উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের বেড়াডাঙ্গা হাসরাজ গ্রামের মৃত টুকু বেপারীর মেয়ে আফরুজা খাতুনের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। এরপর থেকে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে মায়ের বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে বিভিন্ন সময় টাকা পয়সাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র আনার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। ওই গৃহবধূ মায়ের কাছ থেকে কয়েক দফায় টাকা ও জিনিসপত্র এনে দিয়েছেন কিন্তু পরে আবার নির্যাতন শুরু হয়। এভাবেই শ্বশুর বাড়িতে প্রায় ছয় বছর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন তিনি। তাদের সংসারে তিন বছর বয়সি এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেয় স্বামীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যান। স্বামী-স্ত্রীর মিলে যা রোজগার করেছে তা  পুরাটাই শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় স্বামী। খাবারের টাকার জন্য তার মায়ের কাছে ধরনা ধরতে হয় মেয়ে আফরুজাকে।

গত তিন মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার পর আবারো শুরু হয় নির্যাতন।  বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী আফরুজা। থানায় বসে উভয় পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে মিমাংসা করে আবারও শ্বশুর বাড়িতে যায় আফরুজা। যাওয়ার পর থেকে পালসার মোটরসাইকেল, স্মার্টফোন ৫০ হাজার টাকা দাবি আদায়ে গৃহবন্দি অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে।

সবশেষ ১৬সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে স্ত্রীর কাছে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিতে  আপেল ও তার পরিবারের  সবাই মিলে শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। এমন খবর পেয়ে বোনকে উদ্ধারের জন্য ভুক্তভোগীর ভাই আশিকুল ৯৯৯ লাইনে ফোন করে ওই রাতেই পুলিশের সহযোগিতায় তার বোনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। বর্তমানে ওই গৃহবধূ সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

এঘটনায় ভুক্তভোগী আফরোজা খাতুনের ভাই আশিক ৪জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈকত হাসান বলেন, মামলা রুজু হয়েছে একজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অপরদিকে পৃথক ঘটনায় একই উপজেলার চমরগাছা গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে সিহাব মিয়াকে আটকে করে সোনাতলা থানা পুলিশ।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

একটু বৃষ্টিতেই পাকুল্লা হাটে জলাবদ্ধতা ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে দুর্ভোগ,ক্ষতিরমুখে পথচারী ব্যবসায়ীরা 

সোনাতলায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ নির্যাতন মামলায় আটক-১ 

প্রকাশিত: ১২:২৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩
আব্দুর রাজ্জাক সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা মিলনের পাড়া গ্রামে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে নির্যাতন মামলায় ১জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

১৮ সেপ্টেম্বর সোমবার দিবাগত রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে‌ আটক করে। আটককৃত ব্যক্তি ওই এলাকার হাফিজার সরকারের ছেলে বাটু সরকার।

উল্লেখ্য নয় বছর আগে  উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নে মিলনের পাড়া গ্রামের আব্দুল বারী শেখের ছেলে আপেল শেখের সঙ্গে একই উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের বেড়াডাঙ্গা হাসরাজ গ্রামের মৃত টুকু বেপারীর মেয়ে আফরুজা খাতুনের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। এরপর থেকে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে মায়ের বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে বিভিন্ন সময় টাকা পয়সাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র আনার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। ওই গৃহবধূ মায়ের কাছ থেকে কয়েক দফায় টাকা ও জিনিসপত্র এনে দিয়েছেন কিন্তু পরে আবার নির্যাতন শুরু হয়। এভাবেই শ্বশুর বাড়িতে প্রায় ছয় বছর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন তিনি। তাদের সংসারে তিন বছর বয়সি এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেয় স্বামীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যান। স্বামী-স্ত্রীর মিলে যা রোজগার করেছে তা  পুরাটাই শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় স্বামী। খাবারের টাকার জন্য তার মায়ের কাছে ধরনা ধরতে হয় মেয়ে আফরুজাকে।

গত তিন মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার পর আবারো শুরু হয় নির্যাতন।  বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী আফরুজা। থানায় বসে উভয় পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে মিমাংসা করে আবারও শ্বশুর বাড়িতে যায় আফরুজা। যাওয়ার পর থেকে পালসার মোটরসাইকেল, স্মার্টফোন ৫০ হাজার টাকা দাবি আদায়ে গৃহবন্দি অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে।

সবশেষ ১৬সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে স্ত্রীর কাছে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিতে  আপেল ও তার পরিবারের  সবাই মিলে শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। এমন খবর পেয়ে বোনকে উদ্ধারের জন্য ভুক্তভোগীর ভাই আশিকুল ৯৯৯ লাইনে ফোন করে ওই রাতেই পুলিশের সহযোগিতায় তার বোনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। বর্তমানে ওই গৃহবধূ সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

এঘটনায় ভুক্তভোগী আফরোজা খাতুনের ভাই আশিক ৪জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈকত হাসান বলেন, মামলা রুজু হয়েছে একজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অপরদিকে পৃথক ঘটনায় একই উপজেলার চমরগাছা গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে সিহাব মিয়াকে আটকে করে সোনাতলা থানা পুলিশ।