
স্টাফ রিপোর্টারঃ একটু বৃষ্টি হলেই সড়কে জমে যায় পানি। সেই পানির সঙ্গে আশপাশের ময়লা-আবর্জনা মিশে সৃষ্টি হয় নোংরা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশ। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী,ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। এমনই চিত্র দেখা গেছে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা হাটে।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (২৪ই সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাকুল্লা হাটে গিয়ে দেখা যায়,হাটের সড়কের বিভিন্ন অংশে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে রয়েছে। ওই নোংরা পানির মধ্য দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। একই সঙ্গে পথচারীরাও বাধ্য হয়ে ময়লা পানির ভেতর দিয়ে চলাচল করছেন।স্থানীয় পথচারী আল-আমিন ও সুভাষ জানান,দীর্ঘদিন ধরে সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে থাকে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকে। ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্য দিয়ে নিয়মিত চলাচল করতে গিয়ে তাদের পায়ে ঘা হয়েছে বলেও জানান তারা।পাকুল্লা হাটের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান,যানবাহন দ্রুতগতিতে চলাচল করলে সড়কে জমে থাকা নোংরা পানি ছিটকে দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে বিশেষ করে পাশের হোটেল ও খাবারের দোকানগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহনের চাকার ছিটকে পড়া নোংরা পানি দোকানে রাখা খাবারের ওপরও গিয়ে পড়ে। এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি খাবারের মান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলেন,শুধু বৃষ্টির সময়ই নয়,বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় সড়কে পানি জমে থাকে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য রাস্তার পাশে কার্যকর নালা বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করা জরুরি।স্থানীয়দের ভাষ্য,দীর্ঘ সময় ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করায় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী,শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও সাধারণ পথচারীদের এ ধরনের নোংরা পানির সংস্পর্শে আসা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে পাকুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম লতিফুর বারীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিষয়টি অবগত করতে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।
পরে বিষয়টি সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করা হলে তিনি বলেন,আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। আমরা ওই রাস্তার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে জনদুর্ভোগ যাতে কমানো যায়,সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এতে পাকুল্লা হাটের ব্যবসায়ী,পথচারী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

প্রতিবেদক 



















