
স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার শাজাহানপুরে যাত্রীবাহী বাসে বিশেষ কৌশলে চুম্বকের মধ্যে ইয়াবা পাচারের সময় মো. আবুল কালাম (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় তার কাছ থেকে ৭৭৫ পিস ইয়াবা, দুটি মোবাইল ফোন ও বাসের টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা থেকে ১টা ৫০ মিনিটের মধ্যে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের শাজাহানপুর থানাধীন নয়মাইল জামালপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার আবুল কালাম কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়া নালা এলাকার বক্তার আলীর ছেলে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়া জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে রংপুরগামী ‘অরিন ট্রাভেলস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালানো হয়। বাসটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৩৯২০। অভিযানের সময় বাসের F-1 সিটে বসা আবুল কালামের দেহ তল্লাশি করে কালো স্কচটেপে মোড়ানো নীল রঙের জিপারযুক্ত চারটি পলি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসি সূত্র আরও জানায়, তিনটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে মোট ৬০০ পিস এবং অপর একটি প্যাকেটে ১৭৫ পিস—সব মিলিয়ে ৭৭৫ পিস অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন ৭৭ দশমিক ৫ গ্রাম। এ ছাড়া একটি ম্যাগনেটের টুকরাও স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। আলামত ডিজিটাল কিচেন স্কেলের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়েছে।
এ সময় বাসের F-1 সিটের একটি টিকিট, মাদক ব্যবসায় ব্যবহারের অভিযোগে একটি সিমসহ Redmi Note 14 Pro অ্যান্ড্রয়েড ফোন এবং একটি সিমসহ SYMPHONY L 290 বাটন ফোন জব্দ করা হয়।
ডিএনসি বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহা. জিললুর রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পরে এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আসলাম আলী মন্ডল বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ৯(ক) ও ২৬(১) ধারায় মামলা করেন। মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ৫৬ ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে।
ডিএনসি জানিয়েছে, ইয়াবার এই চালানের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রতিবেদক 




















