
মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ বগুড়ার গাবতলীতে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি ও অসৎ উদ্দেশ্যে বিক্রয় কেন্দ্রে চাল কম নিয়ে আসাসহ নানা অভিযোগে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার আব্দুর রশিদ (৪২) গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আব্দুর রশিদ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের আটবাড়িয়া গ্রামের কছিমুদ্দিনের ছেলে এবং স্থানীয় ১ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি। গ্রেফতারকৃত আব্দুর রশিদ দীর্ঘদিন যাবত হলে কালো বাজারের ব্যবসা করে আসছে। এরমধ্য খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগের জন্য তিনি আবেদন করলে লটারির মাধ্যমে তার নাম উঠে। দীর্ঘদিন যাবত তিনি বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করে নানা অনিয়মের মাধ্যমে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ করে আসছে। এ খবরটি প্রশাসনের মধ্য জানাজানি হলে সোমবার ২৪ আগস্ট/২৬ বগুড়া থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহম্মেদ উপস্থিতিতে নানা অনিয়মসহ তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে তাকে গাবতলী থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়। এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদ এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, অনিয়মের খবরে বগুড়া থেকে ফয়সাল আহম্মেদ নামের একজন ম্যাজিস্ট্রেটও সেখানে উপস্থিত হন। ডিলার আব্দুর রশিদের বিক্রয়ের জন্য চাল বরাদ্দ হয় ৭০৭ বস্তা। দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ঘটনাস্থলে যাওয়ার পূর্বেই চাল বিতরণ করা শুরু করলে সাবেকপাড়া ও সুখানপুকুর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার মাধ্যমে তা বন্ধ করা হয়। এরমধ্য দুই বস্তা বিতরণ করলেও ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩৯৮ বস্তা চাল পাওয়া যায়। অসৎ উদ্দেশ্যে চাল গুলো রাখায় পরে ঘটনাস্থলে অর্থাৎ বিক্রয় কেন্দ্রে আনার চেষ্টা করে ডিলার আব্দুর রশিদ। এছাড়া তার চাল বিক্রি করার মাস্টার রোলে বেশ অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এর মধ্যেও ১৫১ জনের ভুয়া নাম তালিকা রয়েছে মাস্টার রোলে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদ আরো জানান, ডিলার আব্দুর রশিদ বর্তমানে থানা হাজতে আটক রয়েছে এবং মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিব হোসেন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ডিলার আব্দুর রশিদ থানায় আটক রয়েছে এখন পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, বগুড়া থেকে ম্যাজিস্ট্রেট এসেছিলেন ঘটনাস্থলে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন। দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসার মামুনুর রশিদ জানান, আমি ঘটনাস্থলেএসে চাল কম পাওয়ায় তা বিক্রয় বা বিতরণে অসম্মতি জানায়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আপাতত চাল বিতরণ স্থগিত রাখা হয় এবং ডিলার আব্দুর রশিদকে পুলিশের সোপর্দ করা হয়। পরে প্যানেল চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে উপকার ভুগিদের মাঝে চাল বিক্রয় বা বিতরণ করা হয়। এলাকার অনেকে জানিয়েছেন, ডিলার আব্দুর রশিদের মদদে আরো বেশ কয়েকজন ডিলার প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নানা অনিয়ম করে আসছেন। এমনকি অজ্ঞাত কারণে অনেক বিক্রয় কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার অর্থাৎ ট্রাক অফিসার উপস্থিতই থাকেন না। ডিলার আব্দুর রশিদের ঘটনার মাধ্যমে এখন কিছুটা হলেও টনক নড়েছে। সাধুবাদ জানিয়েছেন বগুড়াা জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাকে। তবে ডিলার আব্দুর রশিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে কিছুটা ষড়যন্ত্রের শিকার।

প্রতিবেদক 




















