১১:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বইপাঠ ও জ্ঞানচর্চায় নবস্বপ্ন পাঠাগার, উদ্যোগে পাশে থাকার আশ্বাস ইউএনও আশরাফুল কবির

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ০১:৩২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

সুলতান আহম্মেদ (সাঘাটা) গাইবান্ধা প্রতিনিধি: বইপাঠের মাধ্যমে জ্ঞানচর্চা, সাহিত্যচর্চা ও আলোকিত সমাজ গঠনের প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলা নবস্বপ্ন পাঠাগার ও সাহিত্য পরিষদের কার্যক্রমে উৎসাহ ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল কবির।

সম্প্রতি নবস্বপ্ন পাঠাগার ও সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ফারহানা রহমান মিষ্টির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি পাঠাগারের চলমান কার্যক্রম, পাঠকদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত হন। এ সময় পাঠাগারকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক ও পাঠবান্ধব করে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে ইউএনও আশরাফুল কবির পাঠাগারের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, বই মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি চিন্তা ও মননকে বিকশিত করে। একটি সমাজকে আলোকিত ও প্রগতিশীল করে তুলতে বইপাঠের কোনো বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি ফারহানা রহমান মিষ্টির উদ্দেশে বলেন, “আপনি নিঃসন্দেহে একটি ভালো ও মহৎ কাজ করে যাচ্ছেন। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। আমি সবসময় আপনাদের পাশে আছি। আপনাদের পাঠযাত্রা আরও বিস্তৃত ও আলোকিত হোক—এটাই প্রত্যাশা।”
এ সময় ইউএনও পাঠাগারের পাঠকসংখ্যা বৃদ্ধি, নিয়মিত সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চার আয়োজন, পাঠকদের উপযোগী পরিবেশ তৈরি এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। পাশাপাশি পাঠাগারের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সম্ভাব্য বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ইউএনওর এমন ইতিবাচক মনোভাব, পরামর্শ ও উৎসাহে অনুপ্রাণিত হয়েছেন নবস্বপ্ন পাঠাগার ও সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ফারহানা রহমান মিষ্টি।
তিনি বলেন, “একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে পাঠাগারের কার্যক্রম নিয়ে উৎসাহ, পরামর্শ ও সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণার। ইউএনও মহোদয়ের মূল্যবান পরামর্শগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে নবস্বপ্ন পাঠাগারকে আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত করে তোলার চেষ্টা করব।”
ফারহানা রহমান মিষ্টি আরও বলেন, “একটি ভালো বই মানুষের চিন্তার জগৎ বদলে দিতে পারে। বই মানুষকে শুধু জ্ঞানী করে না, বরং বিবেকবান ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে তোলে। তাই নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে নবস্বপ্ন পাঠাগারের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি জানান, পাঠাগারকে শুধু বই পড়ার স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে সাহিত্য, সংস্কৃতি, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পাঠক, লেখক, সাহিত্যপ্রেমী ও সমাজের সচেতন মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে পাঠাগারকেন্দ্রিক এমন উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে মোবাইল ও অনলাইননির্ভরতার বাইরে এনে বই ও জ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

একটু বৃষ্টিতেই পাকুল্লা হাটে জলাবদ্ধতা ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে দুর্ভোগ,ক্ষতিরমুখে পথচারী ব্যবসায়ীরা 

বইপাঠ ও জ্ঞানচর্চায় নবস্বপ্ন পাঠাগার, উদ্যোগে পাশে থাকার আশ্বাস ইউএনও আশরাফুল কবির

প্রকাশিত: ০১:৩২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

সুলতান আহম্মেদ (সাঘাটা) গাইবান্ধা প্রতিনিধি: বইপাঠের মাধ্যমে জ্ঞানচর্চা, সাহিত্যচর্চা ও আলোকিত সমাজ গঠনের প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলা নবস্বপ্ন পাঠাগার ও সাহিত্য পরিষদের কার্যক্রমে উৎসাহ ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল কবির।

সম্প্রতি নবস্বপ্ন পাঠাগার ও সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ফারহানা রহমান মিষ্টির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি পাঠাগারের চলমান কার্যক্রম, পাঠকদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত হন। এ সময় পাঠাগারকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক ও পাঠবান্ধব করে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে ইউএনও আশরাফুল কবির পাঠাগারের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, বই মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি চিন্তা ও মননকে বিকশিত করে। একটি সমাজকে আলোকিত ও প্রগতিশীল করে তুলতে বইপাঠের কোনো বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি ফারহানা রহমান মিষ্টির উদ্দেশে বলেন, “আপনি নিঃসন্দেহে একটি ভালো ও মহৎ কাজ করে যাচ্ছেন। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। আমি সবসময় আপনাদের পাশে আছি। আপনাদের পাঠযাত্রা আরও বিস্তৃত ও আলোকিত হোক—এটাই প্রত্যাশা।”
এ সময় ইউএনও পাঠাগারের পাঠকসংখ্যা বৃদ্ধি, নিয়মিত সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চার আয়োজন, পাঠকদের উপযোগী পরিবেশ তৈরি এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। পাশাপাশি পাঠাগারের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সম্ভাব্য বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ইউএনওর এমন ইতিবাচক মনোভাব, পরামর্শ ও উৎসাহে অনুপ্রাণিত হয়েছেন নবস্বপ্ন পাঠাগার ও সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ফারহানা রহমান মিষ্টি।
তিনি বলেন, “একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে পাঠাগারের কার্যক্রম নিয়ে উৎসাহ, পরামর্শ ও সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণার। ইউএনও মহোদয়ের মূল্যবান পরামর্শগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে নবস্বপ্ন পাঠাগারকে আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত করে তোলার চেষ্টা করব।”
ফারহানা রহমান মিষ্টি আরও বলেন, “একটি ভালো বই মানুষের চিন্তার জগৎ বদলে দিতে পারে। বই মানুষকে শুধু জ্ঞানী করে না, বরং বিবেকবান ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে তোলে। তাই নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে নবস্বপ্ন পাঠাগারের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি জানান, পাঠাগারকে শুধু বই পড়ার স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে সাহিত্য, সংস্কৃতি, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পাঠক, লেখক, সাহিত্যপ্রেমী ও সমাজের সচেতন মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে পাঠাগারকেন্দ্রিক এমন উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে মোবাইল ও অনলাইননির্ভরতার বাইরে এনে বই ও জ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।