০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার গাবতলীর পীরগাছা হাইস্কুলে মধ্যরাতে প্রধান শিক্ষক \ এলাকবাসি কর্তৃক অবরুদ্ধ

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ০১:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • ১৩৭ বার পড়া হয়েছে

মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ বগুড়া গাবতলীর পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ে মধ্যরাতে অর্থাৎ সোমবার রাত সোয়া ১১টা নাগাদ নৈশ প্রহরীর সহযোগিতায় প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করায় এলাকাবাসি তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিদ্যালয় থেকে গোপনে কিছু পাচার বা ফাইলপত্র চুরি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন সন্দেহ থেকে এলাকাবাসি তাঁকে অবরুদ্ধ করে রেখে নানা কৈফিয়ত তলব করেন। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রশাসনকে জানান। অপর দিকে ঘটনাটি আরো বেগতি হলে থানা পুলিশ দ্রæত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে রাত পৌনে ১টার দিকে বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ রাত নাগাদ পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক পুলিশের কাছে মুচলিকা দিলে তার পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়।
পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ১০সদস্য’র মধ্যে ৭সদস্যই একযোগে পদত্যাগ করার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রতিবেদক মুহাম্মাদ আবু মুসা’র মাধ্যমে গত ৩০আগস্ট/২৩ বুধবার এ সংক্রান্ত স্থানীয় দৈনিক বগুড়া পত্রিকা ছাড়াও অনলাইন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে অনেকের মধ্যে জানা জানি হওয়ায় নানা প্রশ্নের সৃস্টি হয় এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ নানা ধরনের মন্তব্য করেন। পরের দিন বৃহস্পতিবার উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি রফি নেওয়াজ খান রবিন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ডেকে বৈঠক করেন। শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে ওই বিদ্যালয়ে কোন অনিয়ম থাকলে তা উৎঘাটন বা সমস্যা থাকলে তা সমাধান করার লক্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান রফি নেওয়াজ খান রবিনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা রবিবার সরেজমিনে যাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেন। এর প্রেক্ষিতে রবিবার পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিনে যান উপজেলা চেয়ারম্যান রফি নেওয়াজ খান রবিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আফতাবুজ্জামান-আল-ইমরান, জেলা শিক্ষা অফিসার হযরত আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তারিকুল আলম, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মজনু, উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম পান্না, শিক্ষক নেতা কাজী আনোয়ারুল ইসলাম টিটুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদ্য পদত্যাগকারী সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-কর্মচারীগণ, কিছু অভিভাবক ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সন্বয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও সেখানে অজ্ঞাত কারনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত হননি। মতবিনিময় সভায় পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক নানা অনিয়মের সাথে জড়িত এবং ম্যানেজিং কমিটির ৭সদস্য একযোগে পদত্যাগ করার পিছনে তিনি (প্রধান শিক্ষক) দায়ী বলে উঠে আসে। তাছাড়া সদ্য পদত্যাগকারীরাও লিখিতভাবে জানান।
আবার অনেকে বলেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক নিয়োগ বানিজ্যের সাথে সরাসরি জড়িত। তিনি আরো অবৈধভাবে সুবিধা নেয়ার জন্য ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের পদত্যাগ নাটক সৃস্টি করেছেন। ফলে তার কঠোর শাস্তি দাবী করা হয়। পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবারো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্বাচিত করার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অপর দিকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ১০সদস্য’র মধ্যে ৭সদস্যই একযোগে পদত্যাগ করায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা শিক্ষা অফিসার হযরত আলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
এর মধ্যে পদত্যাগকারী ৭সদস্য হলো মহিলাসহ ৫জন অভিভাবক সদস্য ও ২জন শিক্ষক প্রতিনিধি। কমিটির সভা না করা এবং বিদ্যালয়ের অন্যান্য কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়া ও সদস্যদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ এনে ওই ৭সদস্য গত ১৪জুন/২৩ সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর প্রেক্ষিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিদ্যালয় পরিদর্শক এ ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার হযরত আলীকে দায়িত্ব দেন।
উল্লেখ্য, পদত্যাগ করা কমিটি অনেক নাটকীয় ভাবে এবং অত্যান্ত গোপনে হয়েছিল। এমন কি এই কমিটি করাকালে দীর্ঘ দিন প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যালয়ে আসেননি। কমিটি প্রকাশ না করে খুব গোপনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৪জনকে নিয়োগ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি (প্রধান শিক্ষক) প্রকাশ্যে বিদ্যালয়ে আসেন। অবশ্য ওই সময় এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন না। তবে এলাকার অনেকে বলছেন, পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক নিয়োগ বানিজ্য করতেই নানা কৌশল অবলম্ব করছেন। যদিও তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে ছিলেন। এ সব কারনেই এলাকাবাসি প্রধান শিক্ষকের উপর ক্ষুব্ধ হন। নানা সমস্যা ও অনিয়ম এবং চলমান বহু ঘটনা থাকাকালিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক দিনে না গিয়ে মধ্যরাতে রহস্যজনকভাবে বিদ্যালয়ে যাওয়ায় এমন ঘটনার সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ায় ৩সেপ্টেম্বর রবিবার জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার ওই প্রধান শিক্ষককে কারন দর্শানো নোটিশ দিয়েছেন। যা দিন দিনের মধ্যে জবাব দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার রাতে নানা ঘটনা ঘটলেও মঙ্গলবার তাকে বিদ্যালয়ে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক এর সাথে সরাসরি কথা বললে তিনি রাতের ঘটনার বিষয়ে তেমন কিছু বলতে না চাইলেও তাকে কারন দর্শানো নোটিশ দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সনাতন চন্দ্র সরকারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, রাতে তাকে উদ্ধার করে মুচলিকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

একটু বৃষ্টিতেই পাকুল্লা হাটে জলাবদ্ধতা ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে দুর্ভোগ,ক্ষতিরমুখে পথচারী ব্যবসায়ীরা 

থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার গাবতলীর পীরগাছা হাইস্কুলে মধ্যরাতে প্রধান শিক্ষক \ এলাকবাসি কর্তৃক অবরুদ্ধ

প্রকাশিত: ০১:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ বগুড়া গাবতলীর পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ে মধ্যরাতে অর্থাৎ সোমবার রাত সোয়া ১১টা নাগাদ নৈশ প্রহরীর সহযোগিতায় প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করায় এলাকাবাসি তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিদ্যালয় থেকে গোপনে কিছু পাচার বা ফাইলপত্র চুরি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন সন্দেহ থেকে এলাকাবাসি তাঁকে অবরুদ্ধ করে রেখে নানা কৈফিয়ত তলব করেন। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রশাসনকে জানান। অপর দিকে ঘটনাটি আরো বেগতি হলে থানা পুলিশ দ্রæত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে রাত পৌনে ১টার দিকে বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ রাত নাগাদ পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক পুলিশের কাছে মুচলিকা দিলে তার পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়।
পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ১০সদস্য’র মধ্যে ৭সদস্যই একযোগে পদত্যাগ করার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রতিবেদক মুহাম্মাদ আবু মুসা’র মাধ্যমে গত ৩০আগস্ট/২৩ বুধবার এ সংক্রান্ত স্থানীয় দৈনিক বগুড়া পত্রিকা ছাড়াও অনলাইন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে অনেকের মধ্যে জানা জানি হওয়ায় নানা প্রশ্নের সৃস্টি হয় এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ নানা ধরনের মন্তব্য করেন। পরের দিন বৃহস্পতিবার উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি রফি নেওয়াজ খান রবিন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ডেকে বৈঠক করেন। শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে ওই বিদ্যালয়ে কোন অনিয়ম থাকলে তা উৎঘাটন বা সমস্যা থাকলে তা সমাধান করার লক্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান রফি নেওয়াজ খান রবিনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা রবিবার সরেজমিনে যাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেন। এর প্রেক্ষিতে রবিবার পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিনে যান উপজেলা চেয়ারম্যান রফি নেওয়াজ খান রবিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আফতাবুজ্জামান-আল-ইমরান, জেলা শিক্ষা অফিসার হযরত আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তারিকুল আলম, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মজনু, উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম পান্না, শিক্ষক নেতা কাজী আনোয়ারুল ইসলাম টিটুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদ্য পদত্যাগকারী সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-কর্মচারীগণ, কিছু অভিভাবক ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সন্বয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও সেখানে অজ্ঞাত কারনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত হননি। মতবিনিময় সভায় পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক নানা অনিয়মের সাথে জড়িত এবং ম্যানেজিং কমিটির ৭সদস্য একযোগে পদত্যাগ করার পিছনে তিনি (প্রধান শিক্ষক) দায়ী বলে উঠে আসে। তাছাড়া সদ্য পদত্যাগকারীরাও লিখিতভাবে জানান।
আবার অনেকে বলেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক নিয়োগ বানিজ্যের সাথে সরাসরি জড়িত। তিনি আরো অবৈধভাবে সুবিধা নেয়ার জন্য ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের পদত্যাগ নাটক সৃস্টি করেছেন। ফলে তার কঠোর শাস্তি দাবী করা হয়। পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবারো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্বাচিত করার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অপর দিকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ১০সদস্য’র মধ্যে ৭সদস্যই একযোগে পদত্যাগ করায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা শিক্ষা অফিসার হযরত আলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
এর মধ্যে পদত্যাগকারী ৭সদস্য হলো মহিলাসহ ৫জন অভিভাবক সদস্য ও ২জন শিক্ষক প্রতিনিধি। কমিটির সভা না করা এবং বিদ্যালয়ের অন্যান্য কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়া ও সদস্যদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ এনে ওই ৭সদস্য গত ১৪জুন/২৩ সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর প্রেক্ষিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিদ্যালয় পরিদর্শক এ ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার হযরত আলীকে দায়িত্ব দেন।
উল্লেখ্য, পদত্যাগ করা কমিটি অনেক নাটকীয় ভাবে এবং অত্যান্ত গোপনে হয়েছিল। এমন কি এই কমিটি করাকালে দীর্ঘ দিন প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যালয়ে আসেননি। কমিটি প্রকাশ না করে খুব গোপনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৪জনকে নিয়োগ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি (প্রধান শিক্ষক) প্রকাশ্যে বিদ্যালয়ে আসেন। অবশ্য ওই সময় এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন না। তবে এলাকার অনেকে বলছেন, পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক নিয়োগ বানিজ্য করতেই নানা কৌশল অবলম্ব করছেন। যদিও তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে ছিলেন। এ সব কারনেই এলাকাবাসি প্রধান শিক্ষকের উপর ক্ষুব্ধ হন। নানা সমস্যা ও অনিয়ম এবং চলমান বহু ঘটনা থাকাকালিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক দিনে না গিয়ে মধ্যরাতে রহস্যজনকভাবে বিদ্যালয়ে যাওয়ায় এমন ঘটনার সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ায় ৩সেপ্টেম্বর রবিবার জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার ওই প্রধান শিক্ষককে কারন দর্শানো নোটিশ দিয়েছেন। যা দিন দিনের মধ্যে জবাব দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার রাতে নানা ঘটনা ঘটলেও মঙ্গলবার তাকে বিদ্যালয়ে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক এর সাথে সরাসরি কথা বললে তিনি রাতের ঘটনার বিষয়ে তেমন কিছু বলতে না চাইলেও তাকে কারন দর্শানো নোটিশ দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সনাতন চন্দ্র সরকারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, রাতে তাকে উদ্ধার করে মুচলিকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।