১১:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় রথযাত্রা উৎসব পরিনত হয় সম্প্রীতি ও ভক্তির মিলনমেলায় 

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ০২:২৮:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলায় রথযাত্রা উৎসবটি পরিনত হয় সম্প্রীতি ও ভক্তির মিলনমেলায়।এই উপজেলায় চিল্লিপাড়া ও গড়চৈতন্যপুরে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৬ই জুলাই) দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান,পূজা, হোমযজ্ঞ,ভজন-কীর্তন ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উৎসবটি উদযাপিত হয়।অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে পৌর এলাকার গড় চৈতন্যপুর থেকে সুসজ্জিত রথ রশি দিয়ে টেনে সোনাতলা কেন্দ্রীয় মন্দিরে নিয়ে আসেন ভক্তরা। এ সময় কীর্তনের সুর,শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। রথযাত্রাকে ঘিরে রাস্তার দু’ধারে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।একই দিনে উপজেলার চিল্লিপাড়া এলাকায়ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় দুই শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ অংশ নেন। ভক্তিমূলক কীর্তন পরিবেশনের মধ্য দিয়ে রথ টেনে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।আয়োজকরা জানান,পূজা-অর্চনা ও হোমযজ্ঞ শেষে শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মাধ্যমে রথযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। রথটি ফুল দিয়ে নান্দনিকভাবে সাজানো হয়, যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।আয়োজকদের ভাষ্য, রথযাত্রা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ভগবান শ্রীজগন্নাথ, বলরাম ও দেবী সুভদ্রার এই রথযাত্রা মানুষের মধ্যে ভক্তি,প্রেম,মানবতা,সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করে। রথের দড়ি টানার মাধ্যমে মানুষ প্রতীকীভাবে অহংকার, হিংসা,লোভ ও বিভেদ পরিহার করে সত্য,ন্যায় ও ধর্মের পথে চলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।তারা আরও বলেন, ভগবান শ্রীজগন্নাথের আশীর্বাদে সমাজে শান্তি, সুখ,সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হোক। হিংসা-বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা দূর হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানবিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক,এই প্রত্যাশাই রথযাত্রার মূল বার্তা।উৎসবকে ঘিরে সোনাতলার বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ-উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়। এসময় দুই মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিকাশ স্বর্ণকার ও সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন সাহা উপস্থিত ছিলেন।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

একটু বৃষ্টিতেই পাকুল্লা হাটে জলাবদ্ধতা ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে দুর্ভোগ,ক্ষতিরমুখে পথচারী ব্যবসায়ীরা 

সোনাতলায় রথযাত্রা উৎসব পরিনত হয় সম্প্রীতি ও ভক্তির মিলনমেলায় 

প্রকাশিত: ০২:২৮:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলায় রথযাত্রা উৎসবটি পরিনত হয় সম্প্রীতি ও ভক্তির মিলনমেলায়।এই উপজেলায় চিল্লিপাড়া ও গড়চৈতন্যপুরে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৬ই জুলাই) দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান,পূজা, হোমযজ্ঞ,ভজন-কীর্তন ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উৎসবটি উদযাপিত হয়।অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে পৌর এলাকার গড় চৈতন্যপুর থেকে সুসজ্জিত রথ রশি দিয়ে টেনে সোনাতলা কেন্দ্রীয় মন্দিরে নিয়ে আসেন ভক্তরা। এ সময় কীর্তনের সুর,শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। রথযাত্রাকে ঘিরে রাস্তার দু’ধারে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।একই দিনে উপজেলার চিল্লিপাড়া এলাকায়ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় দুই শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ অংশ নেন। ভক্তিমূলক কীর্তন পরিবেশনের মধ্য দিয়ে রথ টেনে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।আয়োজকরা জানান,পূজা-অর্চনা ও হোমযজ্ঞ শেষে শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মাধ্যমে রথযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। রথটি ফুল দিয়ে নান্দনিকভাবে সাজানো হয়, যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।আয়োজকদের ভাষ্য, রথযাত্রা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ভগবান শ্রীজগন্নাথ, বলরাম ও দেবী সুভদ্রার এই রথযাত্রা মানুষের মধ্যে ভক্তি,প্রেম,মানবতা,সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করে। রথের দড়ি টানার মাধ্যমে মানুষ প্রতীকীভাবে অহংকার, হিংসা,লোভ ও বিভেদ পরিহার করে সত্য,ন্যায় ও ধর্মের পথে চলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।তারা আরও বলেন, ভগবান শ্রীজগন্নাথের আশীর্বাদে সমাজে শান্তি, সুখ,সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হোক। হিংসা-বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা দূর হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানবিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক,এই প্রত্যাশাই রথযাত্রার মূল বার্তা।উৎসবকে ঘিরে সোনাতলার বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ-উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়। এসময় দুই মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিকাশ স্বর্ণকার ও সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন সাহা উপস্থিত ছিলেন।