০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুপচাঁচিয়ায় সন্ত্রাসীদের মারপিটে জামাতনেতা গুরুতর আহত বাপ্পা, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ০৬:৪১:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

সুশান্ত মালাকার দুপচাঁচিয়াঃ বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় সন্ত্রাসীদের হামলায় জামায়াতে ইসলামী দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহ-সভাপতি সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪২) কে হত্যা করা হয়েছে। গত (২৫ জুন) বৃহস্পতিবার গুরুতর আহত হয়ে ঢাকায় একটি হাসপাতালে অজ্ঞান অবস্থায় ছিলেন সম্রাট। শনিবার ৪ জুলাই দিনগত রাত পৌণে ১২ টায় চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জামায়াত নেতা সম্রাটের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জামায়াতে ইসলামী বিকেলে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। জানা যায়, দুপচাঁচিয়া উপজেলার ভেলুরচক গ্রামের বাসিন্দা রফিক আকন্দ (৬৮) এর ছোট আব্দুল করিম আকন্দের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত (২৫ জুন) বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১২ টার সময় উভয় পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ছোট ভাই আব্দুল করিম ২০ থেকে ২৫ জন নিয়ে বড় ভাই রফিক আকন্দের ওপর হামলা করে। পিতাকে বাঁচাতে রফিক আকন্দের ছেলে জামায়াত নেতা সম্রাট হোসেন বাপ্পা এগিয়ে গেলে তার ওপরও সন্ত্রাসীদের হামলায় মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান সম্রাট। স্বামী এবং ছেলেকে বাঁচাতে জোসনা বেগম (৬২) এগিয়ে গেলে তাকেও বেদম মারপিট করা হয়। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশিরা ছুটে এসে ধাওয়া দিলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ৩ জনকে উদ্ধার করে প্রথমে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে, সেখান থেকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাপ্পার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে, পরের দিন ঢাকায় স্তানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাতে সম্রাট মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে, এঘটনায় সম্রাটের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে দুপচাঁচিয়া থানায় আব্দুল করিম আকন্দসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোঃ আব্দুল করিম এবং তার স্ত্রী মোছাঃ মিথিলাকে গ্রেফতার করে।

দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তাজমিলুর রহমান বলেন, মূল অভিযুক্তসহ দুই জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের জানিয়েছেন, সম্রাট হত্যার প্রতিবাদে দুপচাঁচিয়ায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। জানাযা শেষে, উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে জামায়াত।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

একটু বৃষ্টিতেই পাকুল্লা হাটে জলাবদ্ধতা ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে দুর্ভোগ,ক্ষতিরমুখে পথচারী ব্যবসায়ীরা 

দুপচাঁচিয়ায় সন্ত্রাসীদের মারপিটে জামাতনেতা গুরুতর আহত বাপ্পা, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

প্রকাশিত: ০৬:৪১:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

সুশান্ত মালাকার দুপচাঁচিয়াঃ বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় সন্ত্রাসীদের হামলায় জামায়াতে ইসলামী দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহ-সভাপতি সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪২) কে হত্যা করা হয়েছে। গত (২৫ জুন) বৃহস্পতিবার গুরুতর আহত হয়ে ঢাকায় একটি হাসপাতালে অজ্ঞান অবস্থায় ছিলেন সম্রাট। শনিবার ৪ জুলাই দিনগত রাত পৌণে ১২ টায় চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জামায়াত নেতা সম্রাটের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জামায়াতে ইসলামী বিকেলে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। জানা যায়, দুপচাঁচিয়া উপজেলার ভেলুরচক গ্রামের বাসিন্দা রফিক আকন্দ (৬৮) এর ছোট আব্দুল করিম আকন্দের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত (২৫ জুন) বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১২ টার সময় উভয় পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ছোট ভাই আব্দুল করিম ২০ থেকে ২৫ জন নিয়ে বড় ভাই রফিক আকন্দের ওপর হামলা করে। পিতাকে বাঁচাতে রফিক আকন্দের ছেলে জামায়াত নেতা সম্রাট হোসেন বাপ্পা এগিয়ে গেলে তার ওপরও সন্ত্রাসীদের হামলায় মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান সম্রাট। স্বামী এবং ছেলেকে বাঁচাতে জোসনা বেগম (৬২) এগিয়ে গেলে তাকেও বেদম মারপিট করা হয়। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশিরা ছুটে এসে ধাওয়া দিলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ৩ জনকে উদ্ধার করে প্রথমে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে, সেখান থেকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাপ্পার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে, পরের দিন ঢাকায় স্তানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাতে সম্রাট মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে, এঘটনায় সম্রাটের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে দুপচাঁচিয়া থানায় আব্দুল করিম আকন্দসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোঃ আব্দুল করিম এবং তার স্ত্রী মোছাঃ মিথিলাকে গ্রেফতার করে।

দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তাজমিলুর রহমান বলেন, মূল অভিযুক্তসহ দুই জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের জানিয়েছেন, সম্রাট হত্যার প্রতিবাদে দুপচাঁচিয়ায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। জানাযা শেষে, উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে জামায়াত।