০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে গৃহছাড়া তবুও ফিরতে চান স্বামীর সংসারে

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ০৫:৫১:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ১৮১ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এক গৃহবধূ। ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম প্রার্থনা রানী মহন্ত। তিনি উপজেলার পশ্চিম করমজা হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা এবং সুশান্ত মহন্তের স্ত্রী।প্রার্থনা রানী জানান,হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী দুই পরিবারের সম্মতিতে হাট করমজা গ্ৰামের মৃত শুশিল মহন্তের ছেলে সুশান্ত মহন্তের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে পলি ও পিংকি নামে দুই কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।অভাব-অনটনের সংসার হলেও অনেক কষ্টের মধ্যেও তাদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল।পরে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দুই মেয়ের বিয়েও দেন তিনি।সে সময় তাদের থাকার মতো নিজস্ব ঘর ছিল না। পরে বাবার বাড়ির আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার-দেনা করে প্রার্থনা রানী করমজা হিন্দুপাড়ায় ইট-সিমেন্ট দিয়ে একটি ঘর নির্মাণ করেন। কিন্তু এরপর থেকেই সংসারে অশান্তি শুরু হয়।প্রার্থনা রানীর অভিযোগ, তার স্বামী প্রায়ই তাকে বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা ধার করে আনার জন্য চাপ দিতেন। টাকা এনে দিতে না পারলেই তাকে মারধর করতেন সুশান্ত মহন্ত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান।এঈ সুযোগে সুশান্ত মহন্ত এক পরকীয়া প্রেমিকাকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ করেন প্রার্থনা। বিষয়টি জানার পর তিনি স্বামীর সংসারে ফিরে গেলে স্বামী ও সতিন মিলে তাকে বেধড়ক মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।পরে তিনি বগুড়ার পারিবারিক জজ আদালতে হাট করমজা গ্রামের মৃত সুশীল মহন্তের ছেলে (স্বামী) সুশান্ত মহন্তকে বিবাদী করে ভরণপোষণ ও খোরপোষের দাবিতে মামলা দায়ের করেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, একসময় প্রার্থনা রানী ও সুশান্ত মহন্তের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল। তবে হঠাৎ করেই সুশান্ত প্রায়ই তার স্ত্রীকে মারধর করতে শুরু করেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রার্থনা নিরাপত্তার জন্য বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর সুশান্ত তার নতুন স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে ওঠেন।এ বিষয়ে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা অতুল চন্দ্র দাস বলেন,বিয়ের বিষয়ে জানার পর আমরা ক’জন মিলে সুশান্তের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তার এবং প্রতিবেশীদের কাছ থেকে শুনে মনে হয়েছে সুশান্ত অত্যন্ত বেপরোয়া আচরণ করছেন। প্রার্থনা রানী আদালতের শরণাপন্ন হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এদিকে সুশান্ত মহন্তের মেয়ে পলি ও পিংকি বলেন, আমাদের বাবা আগে খুব ভালো ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ এক সন্তানের জননীর প্রেমের প্রভাবে সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা বাবার বাড়িতে গেলে আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করা হয়।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

বগুড়ায় অসুস্থ সাংবাদিক মুসা’র শয্যা’র পাশে জাসাস নেতা শফিক ও ছোটন

স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে গৃহছাড়া তবুও ফিরতে চান স্বামীর সংসারে

প্রকাশিত: ০৫:৫১:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এক গৃহবধূ। ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম প্রার্থনা রানী মহন্ত। তিনি উপজেলার পশ্চিম করমজা হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা এবং সুশান্ত মহন্তের স্ত্রী।প্রার্থনা রানী জানান,হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী দুই পরিবারের সম্মতিতে হাট করমজা গ্ৰামের মৃত শুশিল মহন্তের ছেলে সুশান্ত মহন্তের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে পলি ও পিংকি নামে দুই কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।অভাব-অনটনের সংসার হলেও অনেক কষ্টের মধ্যেও তাদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল।পরে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দুই মেয়ের বিয়েও দেন তিনি।সে সময় তাদের থাকার মতো নিজস্ব ঘর ছিল না। পরে বাবার বাড়ির আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার-দেনা করে প্রার্থনা রানী করমজা হিন্দুপাড়ায় ইট-সিমেন্ট দিয়ে একটি ঘর নির্মাণ করেন। কিন্তু এরপর থেকেই সংসারে অশান্তি শুরু হয়।প্রার্থনা রানীর অভিযোগ, তার স্বামী প্রায়ই তাকে বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা ধার করে আনার জন্য চাপ দিতেন। টাকা এনে দিতে না পারলেই তাকে মারধর করতেন সুশান্ত মহন্ত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান।এঈ সুযোগে সুশান্ত মহন্ত এক পরকীয়া প্রেমিকাকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ করেন প্রার্থনা। বিষয়টি জানার পর তিনি স্বামীর সংসারে ফিরে গেলে স্বামী ও সতিন মিলে তাকে বেধড়ক মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।পরে তিনি বগুড়ার পারিবারিক জজ আদালতে হাট করমজা গ্রামের মৃত সুশীল মহন্তের ছেলে (স্বামী) সুশান্ত মহন্তকে বিবাদী করে ভরণপোষণ ও খোরপোষের দাবিতে মামলা দায়ের করেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, একসময় প্রার্থনা রানী ও সুশান্ত মহন্তের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল। তবে হঠাৎ করেই সুশান্ত প্রায়ই তার স্ত্রীকে মারধর করতে শুরু করেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রার্থনা নিরাপত্তার জন্য বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর সুশান্ত তার নতুন স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে ওঠেন।এ বিষয়ে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা অতুল চন্দ্র দাস বলেন,বিয়ের বিষয়ে জানার পর আমরা ক’জন মিলে সুশান্তের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তার এবং প্রতিবেশীদের কাছ থেকে শুনে মনে হয়েছে সুশান্ত অত্যন্ত বেপরোয়া আচরণ করছেন। প্রার্থনা রানী আদালতের শরণাপন্ন হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এদিকে সুশান্ত মহন্তের মেয়ে পলি ও পিংকি বলেন, আমাদের বাবা আগে খুব ভালো ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ এক সন্তানের জননীর প্রেমের প্রভাবে সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা বাবার বাড়িতে গেলে আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করা হয়।