০২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

৪৮ দিন ধরে ইউএনও শূন্য সাঘাটা, প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ০১:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ শূন্য থাকায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা ও দাপ্তরিক কাজে ধীরগতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় এবং জনসাধারণের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ পদ শূন্য থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকি, ভূমি প্রশাসনে সমন্বয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা। ইউএনও পদে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকলে এসব কার্যক্রমের কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমন্বয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের এ পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকলে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রয়োজনে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি সেবা, উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি জরুরি।
সাঘাটা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের, জনসংখ্যা ও সরকারি সেবার পরিধি বিবেচনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পদে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় কোন কোন দাপ্তরিক কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে, ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও তা একটা উপজেলার নাগরিক সেবার জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি জিরুরি কোনো কাজ অথবা সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হলেই কেবল আসেন। উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বা সিদ্ধান্ত দিনের পর দিন অপেক্ষমাণ থেকেই যাচ্ছে।
সাঘাটা উপজেলা প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং জনসাধারণের সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদায়নের দাবি উঠেছে স্থানীয় ভাবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এ পদে নিয়মিত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দাপ্তরিক সমন্বয় ও উন্নয়ন কার্যক্রমের তদারকি আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।
অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে,সে ক্ষেত্রে জনভোগান্তি একটু হবেই। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার পদায়নের বিষয়টি জানতে জেলা প্রশাসক মোবাইল ফোনে ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
এখন প্রশ্ন—সাঘাটার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় দীর্ঘদিন ইউএনও পদ শূন্য থাকার কারণ কী? কবে নাগাদ এ পদে নিয়মিত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে? জনসেবার স্বার্থে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

নওগাঁয় বিএসটিআইয়ের অভিযানে সরিষার তেল বাজারজাত করায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা

৪৮ দিন ধরে ইউএনও শূন্য সাঘাটা, প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা

প্রকাশিত: ০১:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ শূন্য থাকায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা ও দাপ্তরিক কাজে ধীরগতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় এবং জনসাধারণের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ পদ শূন্য থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকি, ভূমি প্রশাসনে সমন্বয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা। ইউএনও পদে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকলে এসব কার্যক্রমের কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমন্বয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের এ পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকলে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রয়োজনে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি সেবা, উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি জরুরি।
সাঘাটা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের, জনসংখ্যা ও সরকারি সেবার পরিধি বিবেচনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পদে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় কোন কোন দাপ্তরিক কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে, ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও তা একটা উপজেলার নাগরিক সেবার জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি জিরুরি কোনো কাজ অথবা সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হলেই কেবল আসেন। উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বা সিদ্ধান্ত দিনের পর দিন অপেক্ষমাণ থেকেই যাচ্ছে।
সাঘাটা উপজেলা প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং জনসাধারণের সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদায়নের দাবি উঠেছে স্থানীয় ভাবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এ পদে নিয়মিত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দাপ্তরিক সমন্বয় ও উন্নয়ন কার্যক্রমের তদারকি আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।
অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে,সে ক্ষেত্রে জনভোগান্তি একটু হবেই। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার পদায়নের বিষয়টি জানতে জেলা প্রশাসক মোবাইল ফোনে ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
এখন প্রশ্ন—সাঘাটার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় দীর্ঘদিন ইউএনও পদ শূন্য থাকার কারণ কী? কবে নাগাদ এ পদে নিয়মিত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে? জনসেবার স্বার্থে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।