
স্টাফ রিপোর্টারঃ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার প্রবাসী যুবক সাহেদ আহমেদ আশিক (৩৫)। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বামীকে হারানোর আশঙ্কা, দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারানোর শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী কাকলী বেগম।
নিহত সাহেদ আহমেদ আশিক শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা এলাকার রফিকুল ইসলাম মিঠুর ছেলে। তাঁর দুই ছেলে সন্তানের বয়স যথাক্রমে ৯ ও ৪ বছর।
রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে সাহেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাইফুর রহমান।মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী,শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হন। তাঁদের একজন সাহেদ আহমেদ আশিক।
ছুটি কাটিয়ে সৌদিতে ফিরেই মর্মান্তিক পরিণতি
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক মাসের ছুটি কাটিয়ে গত শুক্রবার (৯ই অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সৌদি আরবের উদ্দেশে বাড়ি থেকে রওনা হন সাহেদ। তাঁর কর্মস্থল ছিল জেদ্দায়। রিয়াদ হয়ে সেখানেই যাওয়ার কথা ছিল তাঁর।সাহেদের ভাই মাসুম রানা জানান, রিয়াদে পৌঁছানোর পর স্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয় সাহেদের। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, রিয়াদে পৌঁছেছেন এবং সেখান থেকে জেদ্দায় যেতে আরও প্রায় দেড় ঘণ্টা লাগবে। জেদ্দায় পৌঁছে আবার ফোন করবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।কিন্তু এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ভাইয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠায় ছিলেন।
মাসুম রানা বলেন, তাঁরা সরকারের কাছে তাঁর ভাইয়ের বিষয়ে সঠিক তথ্য জানানো এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
স্বামীকে হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কায় স্ত্রী
সাহেদের স্ত্রী কাকলী বেগমের জীবনে নেমে এসেছে গভীর অনিশ্চয়তা। স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। তাঁর মৃত্যুতে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে কীভাবে জীবন চলবে, সেই দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছেন তিনি।
কাকলী বেগম জানান, তাঁর স্বামী ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। কিন্তু সৌদি আরবে যুদ্ধের খবর শুনে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ার আগেই কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, তাঁর স্বামী যদি সত্যিই মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। তাঁর স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র ভরসা।পরিবার সূত্রে জানা গেছে,সাহেদের বাবা রফিকুল ইসলাম সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তাঁর মা শাহেরা আক্তারও ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে গেছেন। কিন্তু ছেলের সঙ্গে মা-বাবার দেখা হওয়ার আগেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক ঘটনা।দুই শিশুসন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান
মাদলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান জানান,দাপ্তরিক ভাবে নিশ্চিত হওয়ার আগেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তাঁরা সাহেদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে যাওয়া মায়ের সঙ্গে সাহেদের দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু সেই দেখা আর হলো না।তিনি বলেন, সাহেদের ৯ ও ৪ বছর বয়সী দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে। বাবাকে হারিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সাহেদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁর দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইউএনও
শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাইফুর রহমান জানান, আনুষ্ঠানিক চিঠি না পেলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সাহেদ আহমেদ আশিকের মৃত্যুর বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে রিয়াদের বিমানবন্দরে হুথি গোষ্ঠীর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশিসহ মোট ১২ জন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদক 


















