১০:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় নদী ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, মানুষের মাঝে আতঙ্ক

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ০৩:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪
  • ১০১ বার পড়া হয়েছে

বদিউদ-জ্জামান মুকুল : বগুড়ার সোনাতলায় যমুনা ও বাঙ্গালী নদীতে পানি কমার সাথে সাথে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ফলে বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ, গাছপালা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে করে নদীকুলীয় মানুষের মাঝে নদী ভাঙ্গন আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন ভূমিকা নেই।
বগুড়ার সোনাতলায় যমুনা ও বাঙ্গালী নদীতে পানি কমার সাথে সাথে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নের ধারাকান্তপুর, মির্জাপুর, আমতলী, পূর্ব সুজাইতপুর, বালুপাড়া, তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের সরলিয়া, মহবতের পাড়া, খাবুলিয়া, জন্তিয়ার পাড়া, মহেশপাড়া এলাকায় নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ওই এলাকার শতশত বিঘা ফসলি জমি, গাছপালা ও ঘরবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে মানচিত্র থেকে মুছে যেতে বসেছে এলাকাগুলো। এমনকি কিছু কিছু এলাকায় নদী কুলীয় মানুষদেরকে বাড়িঘর ভেঙ্গে নৌকা ও ভটভটি যোগে অন্যত্র নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এদিকে উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের দক্ষিণ বয়ড়া- ঠাকুরপাড়া বুড়ামেলা সড়কটি গত কয়েক বছরে সুখদহ নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় আশপাশের ১৭ টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এ.কে.এম লতিফুল বারী টিম বলেন, যমুনা ও বাঙ্গালী নদীতে পানি কমার সাথে সাথে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এতে করে নদীকুলীয় মানুষের মাঝে নদী ভাঙ্গন আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তেকানী চুকাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বেশীর ভাগ গ্রাম নদীর চরে। প্রকৃতির সাথে লড়াই সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয় তাদের। নদী ভাঙ্গন তাদের নিত্য সংঙ্গী। এবার নদীতে পানি কমার সাথে সাথে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তেমন কোন ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন বলেন, নদীতে পানি কমার পর কিছু কিছু এলাকায় ভাঙ্গনের কথা শুনা যাচ্ছে। নদী ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নিবে।
এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন এসও বলেন, এটা একটা ব্যয় বহুল প্রকল্প। যমুনা নদীর ভাঙ্গন রোধে কোন বরাদ্দ নেই। এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হকের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলার বাঙ্গালী নদীর ১৯ টি পয়েন্টে প্রায় ৪শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। সুখদহ নদীর ৭শ’ মিটার (জোড়গাছা ইউনিয়নের দক্ষিণ বয়ড়া- ঠাকুরপাড়া বুড়ামেলা) সড়কটি পুনরায় করা সহ ভাঙ্গন রোধে সিসি ব্লক স্থাপনে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

মহাস্থান মাজার জামে মসজিদে সাবেক এমপি মরহুম সাইদ ইস্কান্দার এর আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল 

সোনাতলায় নদী ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, মানুষের মাঝে আতঙ্ক

প্রকাশিত: ০৩:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪

বদিউদ-জ্জামান মুকুল : বগুড়ার সোনাতলায় যমুনা ও বাঙ্গালী নদীতে পানি কমার সাথে সাথে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ফলে বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ, গাছপালা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে করে নদীকুলীয় মানুষের মাঝে নদী ভাঙ্গন আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন ভূমিকা নেই।
বগুড়ার সোনাতলায় যমুনা ও বাঙ্গালী নদীতে পানি কমার সাথে সাথে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নের ধারাকান্তপুর, মির্জাপুর, আমতলী, পূর্ব সুজাইতপুর, বালুপাড়া, তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের সরলিয়া, মহবতের পাড়া, খাবুলিয়া, জন্তিয়ার পাড়া, মহেশপাড়া এলাকায় নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ওই এলাকার শতশত বিঘা ফসলি জমি, গাছপালা ও ঘরবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে মানচিত্র থেকে মুছে যেতে বসেছে এলাকাগুলো। এমনকি কিছু কিছু এলাকায় নদী কুলীয় মানুষদেরকে বাড়িঘর ভেঙ্গে নৌকা ও ভটভটি যোগে অন্যত্র নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এদিকে উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের দক্ষিণ বয়ড়া- ঠাকুরপাড়া বুড়ামেলা সড়কটি গত কয়েক বছরে সুখদহ নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় আশপাশের ১৭ টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এ.কে.এম লতিফুল বারী টিম বলেন, যমুনা ও বাঙ্গালী নদীতে পানি কমার সাথে সাথে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এতে করে নদীকুলীয় মানুষের মাঝে নদী ভাঙ্গন আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তেকানী চুকাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বেশীর ভাগ গ্রাম নদীর চরে। প্রকৃতির সাথে লড়াই সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয় তাদের। নদী ভাঙ্গন তাদের নিত্য সংঙ্গী। এবার নদীতে পানি কমার সাথে সাথে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তেমন কোন ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন বলেন, নদীতে পানি কমার পর কিছু কিছু এলাকায় ভাঙ্গনের কথা শুনা যাচ্ছে। নদী ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নিবে।
এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন এসও বলেন, এটা একটা ব্যয় বহুল প্রকল্প। যমুনা নদীর ভাঙ্গন রোধে কোন বরাদ্দ নেই। এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হকের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলার বাঙ্গালী নদীর ১৯ টি পয়েন্টে প্রায় ৪শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। সুখদহ নদীর ৭শ’ মিটার (জোড়গাছা ইউনিয়নের দক্ষিণ বয়ড়া- ঠাকুরপাড়া বুড়ামেলা) সড়কটি পুনরায় করা সহ ভাঙ্গন রোধে সিসি ব্লক স্থাপনে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।