১১:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়া দুপচাঁচিয়ায় আলোচিত পিন্টু হত্যার রহস্য উন্মোচন,বন্ধুর হাতেই প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর 

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ০২:১১:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় আলোচিত ব্যবসায়ী পিন্টু আকন্দ (৩৮) অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। অনলাইনে জুয়া খেলার মুদ্রা ও বিটকয়েন কেনাবেচার ১০লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের হাতেই খুন হন তিনি।এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন মাইক্রোবাস চালক সানোয়ার (৪০), সাকিব (৩৫), এনামুল (৩৮) ও বাবলু মিয়া (৪০)। এর মধ্যে এনামুল ও বাবলু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর দুইজন সানোয়ার ও সাকিব বর্তমানে পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন। তবে মূল পরিকল্পনাকারী আসামিরা এখনও পলাতক।
পুলিশ জানায়, গত ২২ ডিসেম্বর রাত সোয়া ৯টার দিকে দুপচাঁচিয়া বাজার এলাকার লোটো শো-রুম থেকে পিন্টু আকন্দকে টেনে-হেঁচড়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওই রাতেই আদমদিঘী উপজেলার কোমারভোগ গ্রামের একটি রাস্তা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় মাইক্রোবাসসহ চালক সানোয়ারকে আটক করা হয়।তদন্তে জানা যায়, নিহত পিন্টু আকন্দ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জুয়েল ও সজিবের মাধ্যমে অনলাইনে জুয়া খেলার অ্যাপ, সফটওয়্যার ও বিটকয়েন কেনাবেচা করতেন। সম্প্রতি ১০ লাখ টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য দুই সপ্তাহ আগে শালিস বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি।গ্রেফতারকৃতদের জবানবন্দি অনুযায়ী, সাকিব ডিবি পুলিশের পরিচয়ে রাজশাহী যাওয়ার কথা বলে মাইক্রোবাস ভাড়া করেন। পরে জুয়েল, সজিব, মুক্তার ও জোবায়ের মিলে পিন্টু আকন্দকে শো-রুম থেকে তুলে নেয়। পরিকল্পনা ছিল তাকে আটকে রেখে টাকা আদায় করা। তবে মাইক্রোবাসে তোলার পর পিন্টু চিৎকার শুরু করলে তার মুখ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে ফেলা হয়। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু ঘটে।
পরে মরদেহ ফেলার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করার সময় গাড়ির মালিক জিপিএসের মাধ্যমে সন্দেহজনক গতিবিধি বুঝে মাইক্রোবাস বন্ধ করে দেন। এতে আসামিরা গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়।দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন জানান, নিহতের স্ত্রী সাবিনাজ বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

বগুড়ায় অসুস্থ সাংবাদিক মুসা’র শয্যা’র পাশে জাসাস নেতা শফিক ও ছোটন

বগুড়া দুপচাঁচিয়ায় আলোচিত পিন্টু হত্যার রহস্য উন্মোচন,বন্ধুর হাতেই প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর 

প্রকাশিত: ০২:১১:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় আলোচিত ব্যবসায়ী পিন্টু আকন্দ (৩৮) অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। অনলাইনে জুয়া খেলার মুদ্রা ও বিটকয়েন কেনাবেচার ১০লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের হাতেই খুন হন তিনি।এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন মাইক্রোবাস চালক সানোয়ার (৪০), সাকিব (৩৫), এনামুল (৩৮) ও বাবলু মিয়া (৪০)। এর মধ্যে এনামুল ও বাবলু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর দুইজন সানোয়ার ও সাকিব বর্তমানে পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন। তবে মূল পরিকল্পনাকারী আসামিরা এখনও পলাতক।
পুলিশ জানায়, গত ২২ ডিসেম্বর রাত সোয়া ৯টার দিকে দুপচাঁচিয়া বাজার এলাকার লোটো শো-রুম থেকে পিন্টু আকন্দকে টেনে-হেঁচড়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওই রাতেই আদমদিঘী উপজেলার কোমারভোগ গ্রামের একটি রাস্তা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় মাইক্রোবাসসহ চালক সানোয়ারকে আটক করা হয়।তদন্তে জানা যায়, নিহত পিন্টু আকন্দ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জুয়েল ও সজিবের মাধ্যমে অনলাইনে জুয়া খেলার অ্যাপ, সফটওয়্যার ও বিটকয়েন কেনাবেচা করতেন। সম্প্রতি ১০ লাখ টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য দুই সপ্তাহ আগে শালিস বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি।গ্রেফতারকৃতদের জবানবন্দি অনুযায়ী, সাকিব ডিবি পুলিশের পরিচয়ে রাজশাহী যাওয়ার কথা বলে মাইক্রোবাস ভাড়া করেন। পরে জুয়েল, সজিব, মুক্তার ও জোবায়ের মিলে পিন্টু আকন্দকে শো-রুম থেকে তুলে নেয়। পরিকল্পনা ছিল তাকে আটকে রেখে টাকা আদায় করা। তবে মাইক্রোবাসে তোলার পর পিন্টু চিৎকার শুরু করলে তার মুখ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে ফেলা হয়। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু ঘটে।
পরে মরদেহ ফেলার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করার সময় গাড়ির মালিক জিপিএসের মাধ্যমে সন্দেহজনক গতিবিধি বুঝে মাইক্রোবাস বন্ধ করে দেন। এতে আসামিরা গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়।দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন জানান, নিহতের স্ত্রী সাবিনাজ বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।