
মোহাম্মদ আফজাল ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি
শস্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় চলতি রোপা আমন মৌসুমে বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার পাশাপাশি রোগবালায় খুব একটা না হওয়াই পাকা ধানের শীষে যেনো দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। এ কারণে মাঠে ধান কাটা ও মাড়াই কাজে পুরো দমে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।
সোমবার(২০ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার উমার ইউনিয়ন, আড়ানগর, আগ্রাদ্বীগুন, আলমপুর ইউনিয়ন, খেলনা, ইসবপুর, জাহানপুর, ধামইরহাট ইউনিয়নে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এসব এলাকায় ধান কাটা ও মাড়াই কাজে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকদের ব্যস্ততার লক্ষ্য করা গেছে। কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে সঠিক সময়ে চাড়া রোপন, সার, বিষ ছিটানোসহ নিয়মিত পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উপজেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকরা হাট-বাজারে যেন ভালো দাম পান এমনটা নিশ্চিত করতে উপজেলা কৃষি অফিসসহ-সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে উপজেলায় ২০ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় জাতের ধান ৪৫০ হেক্টর, ২৬০ হেক্টর হাইব্রিড ও ২০ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে উফশী (উচ্চ ফলনশীল) ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৯৪, বিনা ধান-১৭, স্বর্ণা ও জিরাশাইল জাত উল্লেখযোগ্য। ফলন ভালো হওয়ায় এ বছর ২০ হাজার ৭৩৫ হেক্টর মেট্রিক টন ধান অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শিলা বৃষ্টিসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে হাইব্রিড জাতের ধান থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক ফলন অর্জিত হবে।
আগ্রাদ্বীগুন এলাকার কৃষক মোজাফফর রহমান বলেন, ‘প্রায় ৭ বিঘা জমিতে বিনাধান-১৭ জাতের ধান চাষাবাদ করেছেন। এতে সার, বিষ, পানি ও লেবার খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এতে ধান পেয়েছেন ২৮ মন করে মোট ৭০ মন ধান। এগুলোর মধ্যে কাটনিওয়ালাকে দিতে হয়েছে ৪ হাজার টাকা ও ধান মাড়াই শ্রমিককে দিতে হয়েছে ২০ কেজি ধান। হাট-বাজারে ১৩০০ টাকা মন কেজি দরে বিক্রি করেছেন। এতে করে তিনি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক আল জুবায়ের সময়ের আলোকে বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে দূরদূরান্ত থেকে আসা শ্রমিকদের ধান কাটার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। এ কারণে শ্রমিক সংকট না থাকায় আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা ও মারাইয়ের কাজ শেষ হবে। হাট-বাজারে নিয়মিত মনিটরিং এর মাধ্যমে আমনের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করায় অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা।’

প্রতিবেদক 




















