
স্টাফ রিপোর্টারঃ কার্তিক মাসের শেষ সপ্তাহ চলছে। প্রকৃতির নিয়মে এ সময়ে শীতের আগমনী বার্তা পাওয়ার কথা থাকলেও বগুড়ার সোনাতলায় এখনো শীতের তেমন দেখা নেই। বরং দিনের বেলায় প্রচণ্ড গরম,মাঝেমধ্যে হঠাৎ বৃষ্টি আর ভোরে ধানের পাতায় জমে থাকা শিশির-সব মিলিয়ে আবহাওয়ার এমন বৈপরীত্যে জনজীবনে দেখা দিয়েছে অস্বস্তি। অন্যদিকে অসময়ের বৃষ্টিতে কৃষকের ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।গ্রামবাংলার প্রচলিত প্রবাদে আছে, “এলো কার্তিক” গা করে শিন শিন।’ কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তন ও প্রকৃতির বৈরী আচরণে যেন সেই চিরচেনা প্রবাদও এখন অনেকটা ম্লান। সকালে মাঠে গেলে ধানের পাতায় শিশির বিন্দু চোখে পড়লেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে গরমের তীব্রতা। এর মধ্যে হঠাৎ বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মেও বিঘ্ন ঘটছে।চিকিৎসকদের মতে,আবহাওয়ার এমন ওঠানামায় সর্দি,জ্বর ও কাশি সহ মৌসুমি নানা রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। এ সময়ে ঠান্ডা খাবার ও পানীয় পরিহার করে গরম ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
এদিকে আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে শীতকালীন আগাম সবজি,ফুলকপি, বাঁধাকপি,সরিষা ও আগাম আলু চাষে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। কৃষকদের ভাষ্য,অতিরিক্ত বৃষ্টিতে সবজির জমিতে পানি জমে গেলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিতে পারে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন চাষিরা।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রকৃতির এমন বিরূপ আচরণে ফসলের স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন,এ সময়ের বৃষ্টিতে সবজি চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিশেষ করে সরিষা ও আগাম আলু চাষে কিছুটা সমস্যা দেখা দিতে পারে।অন্যদিকে রোপা আমন ধান পাকা শুরু হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে গেলে ধান কাটতে বিলম্ব হতে পারে। এতে পাকা ধান মাঠে পড়ে থাকা,ধান কাটার খরচ বৃদ্ধি এবং ফসলের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে কার্তিকের শেষেও শীতের দেখা না মেলা,দিনের প্রচণ্ড গরম ও হঠাৎ বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা।

প্রতিবেদক 


















