০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুগ্ধখামার স্থাপন,দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে স্বাবলম্বী সোনাতলার নিত্যঘোষ।

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ১০:২৮:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

বিকাশ স্বর্ণকার,সোনাতলাঃ এক সময়ে অভাব ছিল নিত্যঘোষের নিত্য সঙ্গী,তার উপর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় ভিটেমাটি। দারিদ্র্যতার কষাঘাত আর দুশ্চিন্তার বোঝা মাথায় করে পরিবার নিয়ে পাড়ি জমায় অন্যত্র। নিত্যঘোষ বগুড়া সোনাতলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের নামাজখালী গ্ৰামের মৃত নিবারণ ষোঘের ছেলে।নিত্যঘোষ একান্ত আলাপচারিতায় জানান,বিগত ২৪/২৫ বছর পুর্বে খরস্রোতা বাঙালি নদী কেড়ে নেয় সর্বস্ব।চোখের সামনে নদীতে ভেসে যায় আমাদের ঘর সহ আসবাবপত্র।এক কাপড়ে চলে আসি রানীরপাড়ায়। অন্যের জায়গায় ঘর বানিয়ে কোনমতে মাথা গুজি। সেসময় নিকট আত্মীয়ের কাছ থেকে ১টি গরু এবং বাকিতে কিছু দুধ কিনে দই ভরিয়ে গ্ৰামে ঘুরে বিক্রি শুরু করি।ওই সময়ের উপার্জন হতে কিছু অর্থ সঞ্চয় হিসেবে জমিয়ে রাখতাম।পরবর্তিতে গরুর বাছুর এবং জামানো অর্থ সহ ধারদেনায় কয়েকটি গরু কিনে প্রতিপালন শুরু করি। পর্যায়ক্রমে গরুগুলো বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে খামারে ছোট বড় মিলিয়ে গরুর সংখ্যা ২০টি । ফলে দুগ্ধজাত পণ্য তৈরিতে সিংহভাগ দুধ আসেই খামার হতে। এছাড়াও মন খানেক দুধ কিনে নেয় অন্যত্র থেকে।নিত্যঘোষ নিজ খামারের দুধ দিয়ে দই,ঘিরসা,ঘি,রসমালাই তৈরি করে বাজারজাত করেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় সকালে তার কারখানায় গেলে চোখে পড়বে কেউবা কাঁধে ভার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দই কেনার জন্য, কেউবা কার্টুনে খিরসা ভরছেন তবে এসব পণ্য তিনি পাইকারি দরে বিক্রি করেন। নিত্যঘোষ আরো বলেন দুটি কারখানায় ৬টি ঝাঁপিতে গড়ে প্রায় ৪/৫’শ পিচ কাপ,৫০/৬০পিচ সরা ও ১’শ থেকে দেড়’শ পিচ বাটিতে দই ভরানো হয়। তবে স্ত্রী ও সন্তান সহ বেশ কয়েকজন সহযোগীতা করে থাকেন। নিত্যর উৎপাদিত দুগ্ধজাতপণ্য এলাকা ছাপিয়ে উত্তর আঞ্চল সহ যায় রাজধানী ঢাকায়। বিশেষ করে লালামনিরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর,কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও,পঞ্চগড় সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের হোটেল গুলোতে তিনি চুক্তি ভিত্তিক দই দিয়ে থাকেন। বর্তমান নিত্যঘোষের কারখানায় উপার্জনের টাকায় চলছে ১০/১২টি পরিবার। এদিকে প্রতিদিন জমজমাট বেচাকেনায় অতীতের অভাব কাটিয়ে নিত্যঘোষ একজন সফল ব্যবসায়ী হয়েছেন স্বাবলম্বী।নিত্যঘোষের স্বপ্ন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরো বড় পরিসরে গড়বেন খামার,করবেন দই তৈরির কারখানা। যেখানে কাজ পাবে অনেক মানুষ,সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থাপনের।ঘুচে যাবে বেকারত্ব ফিরবে স্বচ্ছলতা অনেক সংসারে।দই কিনতে আসা ইলিয়াস আলী জানান,এখান থেকে দই খিরসা ও রসমালাই নিয়ে গ্ৰামগঞ্জে বিক্রির টাকায় পাওনা পরিশোধ করেও বেশ মুনাফা আসে ঘরে। এবিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন,আমি নিত্য ঘোষের গাভীর খামার ও দই মিষ্টির তৈরির কারখানা পরিদর্শন করেছি। তবে
প্রাণিসম্পদের অগ্রযাত্রায় এইরকম ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বেশি বেশি তৈরি করতে পারলেই প্রাণিসম্পদের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

বগুড়ায় অসুস্থ সাংবাদিক মুসা’র শয্যা’র পাশে জাসাস নেতা শফিক ও ছোটন

দুগ্ধখামার স্থাপন,দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে স্বাবলম্বী সোনাতলার নিত্যঘোষ।

প্রকাশিত: ১০:২৮:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিকাশ স্বর্ণকার,সোনাতলাঃ এক সময়ে অভাব ছিল নিত্যঘোষের নিত্য সঙ্গী,তার উপর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় ভিটেমাটি। দারিদ্র্যতার কষাঘাত আর দুশ্চিন্তার বোঝা মাথায় করে পরিবার নিয়ে পাড়ি জমায় অন্যত্র। নিত্যঘোষ বগুড়া সোনাতলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের নামাজখালী গ্ৰামের মৃত নিবারণ ষোঘের ছেলে।নিত্যঘোষ একান্ত আলাপচারিতায় জানান,বিগত ২৪/২৫ বছর পুর্বে খরস্রোতা বাঙালি নদী কেড়ে নেয় সর্বস্ব।চোখের সামনে নদীতে ভেসে যায় আমাদের ঘর সহ আসবাবপত্র।এক কাপড়ে চলে আসি রানীরপাড়ায়। অন্যের জায়গায় ঘর বানিয়ে কোনমতে মাথা গুজি। সেসময় নিকট আত্মীয়ের কাছ থেকে ১টি গরু এবং বাকিতে কিছু দুধ কিনে দই ভরিয়ে গ্ৰামে ঘুরে বিক্রি শুরু করি।ওই সময়ের উপার্জন হতে কিছু অর্থ সঞ্চয় হিসেবে জমিয়ে রাখতাম।পরবর্তিতে গরুর বাছুর এবং জামানো অর্থ সহ ধারদেনায় কয়েকটি গরু কিনে প্রতিপালন শুরু করি। পর্যায়ক্রমে গরুগুলো বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে খামারে ছোট বড় মিলিয়ে গরুর সংখ্যা ২০টি । ফলে দুগ্ধজাত পণ্য তৈরিতে সিংহভাগ দুধ আসেই খামার হতে। এছাড়াও মন খানেক দুধ কিনে নেয় অন্যত্র থেকে।নিত্যঘোষ নিজ খামারের দুধ দিয়ে দই,ঘিরসা,ঘি,রসমালাই তৈরি করে বাজারজাত করেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় সকালে তার কারখানায় গেলে চোখে পড়বে কেউবা কাঁধে ভার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দই কেনার জন্য, কেউবা কার্টুনে খিরসা ভরছেন তবে এসব পণ্য তিনি পাইকারি দরে বিক্রি করেন। নিত্যঘোষ আরো বলেন দুটি কারখানায় ৬টি ঝাঁপিতে গড়ে প্রায় ৪/৫’শ পিচ কাপ,৫০/৬০পিচ সরা ও ১’শ থেকে দেড়’শ পিচ বাটিতে দই ভরানো হয়। তবে স্ত্রী ও সন্তান সহ বেশ কয়েকজন সহযোগীতা করে থাকেন। নিত্যর উৎপাদিত দুগ্ধজাতপণ্য এলাকা ছাপিয়ে উত্তর আঞ্চল সহ যায় রাজধানী ঢাকায়। বিশেষ করে লালামনিরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর,কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও,পঞ্চগড় সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের হোটেল গুলোতে তিনি চুক্তি ভিত্তিক দই দিয়ে থাকেন। বর্তমান নিত্যঘোষের কারখানায় উপার্জনের টাকায় চলছে ১০/১২টি পরিবার। এদিকে প্রতিদিন জমজমাট বেচাকেনায় অতীতের অভাব কাটিয়ে নিত্যঘোষ একজন সফল ব্যবসায়ী হয়েছেন স্বাবলম্বী।নিত্যঘোষের স্বপ্ন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরো বড় পরিসরে গড়বেন খামার,করবেন দই তৈরির কারখানা। যেখানে কাজ পাবে অনেক মানুষ,সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থাপনের।ঘুচে যাবে বেকারত্ব ফিরবে স্বচ্ছলতা অনেক সংসারে।দই কিনতে আসা ইলিয়াস আলী জানান,এখান থেকে দই খিরসা ও রসমালাই নিয়ে গ্ৰামগঞ্জে বিক্রির টাকায় পাওনা পরিশোধ করেও বেশ মুনাফা আসে ঘরে। এবিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন,আমি নিত্য ঘোষের গাভীর খামার ও দই মিষ্টির তৈরির কারখানা পরিদর্শন করেছি। তবে
প্রাণিসম্পদের অগ্রযাত্রায় এইরকম ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বেশি বেশি তৈরি করতে পারলেই প্রাণিসম্পদের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।