০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় ২ মাস আগে ছিনতাই হওয়া  অটোরিক্সা উদ্ধার গ্রেফতারঃ ৫

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ০২:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুলাই ২০২৩
  • ৬৭ বার পড়া হয়েছে
শাফায়াত সজল,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়া সদরের নিশিন্দারা ইউনিয়নের ঠেঙ্গামারাস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে থেকে অটোরিক্সা ভাড়া নেয় ৩ যুবক। গন্তব্যস্থল হলো শাখারিয়া ইউনিয়নের পল্লীমঙ্গল হাট। অটোরিকশা চালক সরল বিশ্বাসে গত (১৫-০৫-২৩) রাত্রি আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটের সময় ৩ যুবককে নিয়ে রওনা দেন গন্তব্যস্থলের দিকে। কিন্তু যাত্রীরা যে প্রকৃতপক্ষে পেশাদার ছিনতাইকারী তা কিন্তু চালক ঘুনাক্ষরেও বুঝতে পারেনি। তাতে যা হবার ছিলো তাই হলো। যখন তিনি বুঝতে পারলেন ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। গাড়ী যখন যাত্রীবেশী ছিনতাইকারীদের নিয়ে শেখেরকোলা বালাকৈগাড়ী কাঠাঁলতলা ব্রীজ নামক জায়গাটিতে পৌঁছায় তখন ব্রীজের কাছে আগে থেকেই সিএনজিতে বসে উৎপেতে থাকা অপর ছিনতাইকারীরা অপেক্ষা করছিলো।
যখনই অটোচালক সিএনজির কাছাকাছি পৌঁছে যায় ঠিক তখনই অটোতে থাকা ছিনতাইকারীরা চালক আমজাদকে এলোপাথাড়ি ভাবে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে আহত করে। আমজাদ প্রাণভয়ে আশেপাশের লোকজনকে ডাকতে থাকে এবং গ্রামের দিকে দৌঁড়াতে থাকে। এদিকে ছিনতাইকারীরা সুযোগ বুঝে অটোরিক্সাটি নিয়ে পল্লীমঙ্গল দিকে চলে যায়। পরে আহত আমজাদ হোসেনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং ভীতিকর পরিবেশ তৈরী হয়। পরবর্তীতে আমজাদ হোসেন সুস্থ হয়ে বাদী হয়ে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বিপিএম পিপিএম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আকতার পিপিএম এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরাফত ইসলাম ও বগুড়া সদর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইহান ওলিউল্লাহ এর নেতৃত্বে সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর (এস আই) রাসেল আহমেদ, এএআই আব্দুল মতিন সহ সঙ্গীয় ফোর্স বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল (২২-০৭-২৩) শনিবার বগুড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ মাস পূর্বে ছিনতাই হওয়া অটোরিক্সাতে অবস্থানকারী ০৩ ছিনতাইকারীদের সন্দেহভাজন হিসাবে আটক করে আভিযানিক দলটি।
আটককৃতরা হলো হলো বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের বাগানবাড়ী এলাকার ছানোয়ার মোল্লার পুত্র জীবন মোল্লা (২৪), একই এলাকার জহুরুল ইসলাম এর পুত্র নাজমুল ওরফে লাভলু (২৬) এর আদি সাং সোনাতলা উপজেলার হলিদাবগা গ্রামে, উত্তর গোদারপাড়া এলাকার মৃত মোখলেছুর রহমান এর পুত্র সোহেল রানা (৩৬)। তাদের স্বীকারোক্তী মোতাবেক চোরাইমাল বিক্রয়ের সাথে জড়িত চোরাকারবারি এরুলিয়া ইউনিয়নের জিলাদারপাড়া গ্রামের রায়হান আলীর পুত্র রুহুল আমিন রকি (২৭) এবং গাবতলী  থানাধীন ধোড়া সরকারবাড়ী গ্রামের দুলাল সরকারের পুত্র ইউসুফ আলী (২২)। পুলিশ চোরাকারবারি রুহুল আমিন রকির নিকট থেকে চোরাই অটোরিক্সাটি উদ্ধার করে।
আসামীদের বিরুদ্ধে ছিনতাই আইনের ৩৯৪ ধারায় মামলা দায়ের পূর্বক আজ (২৩-০৭-২৩) রবিবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য আসামীদের মধ্য জীবন মোল্লা, নাজমুল ওরফে লাভলু এবং সোহেল রানা আন্তঃজেলা ছিনতাই চক্রের সক্রিয় সদস্য অপরদিকে রুহুল আমিন রকি ও ইউসুফ চোরাকারবারির সাথে জড়িত। আসামী নাজমুলের ওরফে লাভলুর বিরুদ্ধে ১টি অপহরণ, ১টি চুরি ও ১টি মাদক মামলা সহ মোট ৩টি মামলা রয়েছে। এবং আসামী জীবন ও সোহেলের বিরুদ্ধে ১টি করে ছিনতাই মামলা রয়েছে। উক্ত অটোরিক্সা উদ্ধারের ঘটনায় সদর থানা পুলিশ সহ জেলা পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন সুধীমহল, অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

মহাস্থান মাজার জামে মসজিদে সাবেক এমপি মরহুম সাইদ ইস্কান্দার এর আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল 

বগুড়ায় ২ মাস আগে ছিনতাই হওয়া  অটোরিক্সা উদ্ধার গ্রেফতারঃ ৫

প্রকাশিত: ০২:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুলাই ২০২৩
শাফায়াত সজল,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়া সদরের নিশিন্দারা ইউনিয়নের ঠেঙ্গামারাস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে থেকে অটোরিক্সা ভাড়া নেয় ৩ যুবক। গন্তব্যস্থল হলো শাখারিয়া ইউনিয়নের পল্লীমঙ্গল হাট। অটোরিকশা চালক সরল বিশ্বাসে গত (১৫-০৫-২৩) রাত্রি আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটের সময় ৩ যুবককে নিয়ে রওনা দেন গন্তব্যস্থলের দিকে। কিন্তু যাত্রীরা যে প্রকৃতপক্ষে পেশাদার ছিনতাইকারী তা কিন্তু চালক ঘুনাক্ষরেও বুঝতে পারেনি। তাতে যা হবার ছিলো তাই হলো। যখন তিনি বুঝতে পারলেন ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। গাড়ী যখন যাত্রীবেশী ছিনতাইকারীদের নিয়ে শেখেরকোলা বালাকৈগাড়ী কাঠাঁলতলা ব্রীজ নামক জায়গাটিতে পৌঁছায় তখন ব্রীজের কাছে আগে থেকেই সিএনজিতে বসে উৎপেতে থাকা অপর ছিনতাইকারীরা অপেক্ষা করছিলো।
যখনই অটোচালক সিএনজির কাছাকাছি পৌঁছে যায় ঠিক তখনই অটোতে থাকা ছিনতাইকারীরা চালক আমজাদকে এলোপাথাড়ি ভাবে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে আহত করে। আমজাদ প্রাণভয়ে আশেপাশের লোকজনকে ডাকতে থাকে এবং গ্রামের দিকে দৌঁড়াতে থাকে। এদিকে ছিনতাইকারীরা সুযোগ বুঝে অটোরিক্সাটি নিয়ে পল্লীমঙ্গল দিকে চলে যায়। পরে আহত আমজাদ হোসেনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং ভীতিকর পরিবেশ তৈরী হয়। পরবর্তীতে আমজাদ হোসেন সুস্থ হয়ে বাদী হয়ে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বিপিএম পিপিএম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আকতার পিপিএম এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরাফত ইসলাম ও বগুড়া সদর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইহান ওলিউল্লাহ এর নেতৃত্বে সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর (এস আই) রাসেল আহমেদ, এএআই আব্দুল মতিন সহ সঙ্গীয় ফোর্স বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল (২২-০৭-২৩) শনিবার বগুড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ মাস পূর্বে ছিনতাই হওয়া অটোরিক্সাতে অবস্থানকারী ০৩ ছিনতাইকারীদের সন্দেহভাজন হিসাবে আটক করে আভিযানিক দলটি।
আটককৃতরা হলো হলো বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের বাগানবাড়ী এলাকার ছানোয়ার মোল্লার পুত্র জীবন মোল্লা (২৪), একই এলাকার জহুরুল ইসলাম এর পুত্র নাজমুল ওরফে লাভলু (২৬) এর আদি সাং সোনাতলা উপজেলার হলিদাবগা গ্রামে, উত্তর গোদারপাড়া এলাকার মৃত মোখলেছুর রহমান এর পুত্র সোহেল রানা (৩৬)। তাদের স্বীকারোক্তী মোতাবেক চোরাইমাল বিক্রয়ের সাথে জড়িত চোরাকারবারি এরুলিয়া ইউনিয়নের জিলাদারপাড়া গ্রামের রায়হান আলীর পুত্র রুহুল আমিন রকি (২৭) এবং গাবতলী  থানাধীন ধোড়া সরকারবাড়ী গ্রামের দুলাল সরকারের পুত্র ইউসুফ আলী (২২)। পুলিশ চোরাকারবারি রুহুল আমিন রকির নিকট থেকে চোরাই অটোরিক্সাটি উদ্ধার করে।
আসামীদের বিরুদ্ধে ছিনতাই আইনের ৩৯৪ ধারায় মামলা দায়ের পূর্বক আজ (২৩-০৭-২৩) রবিবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য আসামীদের মধ্য জীবন মোল্লা, নাজমুল ওরফে লাভলু এবং সোহেল রানা আন্তঃজেলা ছিনতাই চক্রের সক্রিয় সদস্য অপরদিকে রুহুল আমিন রকি ও ইউসুফ চোরাকারবারির সাথে জড়িত। আসামী নাজমুলের ওরফে লাভলুর বিরুদ্ধে ১টি অপহরণ, ১টি চুরি ও ১টি মাদক মামলা সহ মোট ৩টি মামলা রয়েছে। এবং আসামী জীবন ও সোহেলের বিরুদ্ধে ১টি করে ছিনতাই মামলা রয়েছে। উক্ত অটোরিক্সা উদ্ধারের ঘটনায় সদর থানা পুলিশ সহ জেলা পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন সুধীমহল, অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।