০৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় বোরো ধানে বৃষ্টির থাবা,ক্ষতির মুখে কৃষকের ঘামঝরা ফসল 

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ০১:৪১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ৬৯ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়া সোনাতলা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবের পর থেকে টানা ভারী বৃষ্টি ও রোদহীন আবহাওয়ায় কৃষকের ঘামঝরা ফসল বোরো ধান নষ্টের মুখে। এতে করে লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার হাজারো কৃষক।কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে,উপজেলায় প্রায় ১০০ হেক্টর এর বেশি জমির ধান ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্ৰস্থ হয়েছে। যদিও চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ফলন ভালো হওয়ার আশা ছিল,তবে এখনো বড় একটি অংশ মাঠে রয়ে গেছে,যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রাতের ঘুম হারিয়ে গেছে কৃষকের।সরেজমিনে দেখা যায়,অনেক জমির ধান হেলে পানিতে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে পানিতে নেমেই ধান কাটছেন। অনেকের দাবি,বৃষ্টির কারণে ধান ভিজে নষ্ট হওয়ার পথে,কোথাও আবার পুরো জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ফসল কাটতে সমসাময়িক এর দ্বিগুণ খরচ সহ দুর্ভোগ চরমে।এদিকে ধান কাটার পর দেখা দিয়েছে নতুন সমস্যা। টানা রোদ না থাকায় ধান শুকানো যাচ্ছে না। ফলে অঙ্কুর গজানোর আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।পাশাপাশি শ্রমিক সংকটে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।বাজার পরিস্থিতিও কৃষকদের পক্ষে নয়। বেপারীরা ধান কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না,আর কিনলেও দাম দিচ্ছে ৭০০টাকা থেকে ৮০০টাকা প্রতিমন।যা কৃষকদের জন্য চরম লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।যেসব কৃষক আগেই ধান কেটেছেন, তারাও বিপাকে পড়েছেন রোদ না থাকায় ধান শুকাতে না পেরে। অন্যদিকে যারা এখনো ধান কাটতে পারেননি,তাদের জমিতে জমে থাকা পানিতে ধান ঝরে পড়া,পচন ধরা এবং উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা নতুন করে দেখা দিয়েছে।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছেন,যেসব জমিতে ধান হেলে পড়েছে সেসব ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলে সংরক্ষণ করতে পারলে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। অথবা আক্রান্ত কয়েকটি ধান গাছ একত্রে বেধে রাখলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা কম। এদিকে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে।যেন কৃষকের সোনালী স্বপ্ন কালো মেঘে ঢেকে গেছে। তবে এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে চালের দাম বাড়ার আশঙ্কাও রয়েই যায়। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি প্রণোদনা ও ভর্তুকির দাবি জানিয়েছেন।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

বগুড়ায় ছাদের পানির পাইপ ভাঙাকে কেন্দ্র করে বিরোধ,হুমকির অভিযোগ 

বগুড়ায় বোরো ধানে বৃষ্টির থাবা,ক্ষতির মুখে কৃষকের ঘামঝরা ফসল 

প্রকাশিত: ০১:৪১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়া সোনাতলা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবের পর থেকে টানা ভারী বৃষ্টি ও রোদহীন আবহাওয়ায় কৃষকের ঘামঝরা ফসল বোরো ধান নষ্টের মুখে। এতে করে লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার হাজারো কৃষক।কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে,উপজেলায় প্রায় ১০০ হেক্টর এর বেশি জমির ধান ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্ৰস্থ হয়েছে। যদিও চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ফলন ভালো হওয়ার আশা ছিল,তবে এখনো বড় একটি অংশ মাঠে রয়ে গেছে,যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রাতের ঘুম হারিয়ে গেছে কৃষকের।সরেজমিনে দেখা যায়,অনেক জমির ধান হেলে পানিতে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে পানিতে নেমেই ধান কাটছেন। অনেকের দাবি,বৃষ্টির কারণে ধান ভিজে নষ্ট হওয়ার পথে,কোথাও আবার পুরো জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ফসল কাটতে সমসাময়িক এর দ্বিগুণ খরচ সহ দুর্ভোগ চরমে।এদিকে ধান কাটার পর দেখা দিয়েছে নতুন সমস্যা। টানা রোদ না থাকায় ধান শুকানো যাচ্ছে না। ফলে অঙ্কুর গজানোর আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।পাশাপাশি শ্রমিক সংকটে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।বাজার পরিস্থিতিও কৃষকদের পক্ষে নয়। বেপারীরা ধান কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না,আর কিনলেও দাম দিচ্ছে ৭০০টাকা থেকে ৮০০টাকা প্রতিমন।যা কৃষকদের জন্য চরম লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।যেসব কৃষক আগেই ধান কেটেছেন, তারাও বিপাকে পড়েছেন রোদ না থাকায় ধান শুকাতে না পেরে। অন্যদিকে যারা এখনো ধান কাটতে পারেননি,তাদের জমিতে জমে থাকা পানিতে ধান ঝরে পড়া,পচন ধরা এবং উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা নতুন করে দেখা দিয়েছে।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছেন,যেসব জমিতে ধান হেলে পড়েছে সেসব ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলে সংরক্ষণ করতে পারলে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। অথবা আক্রান্ত কয়েকটি ধান গাছ একত্রে বেধে রাখলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা কম। এদিকে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে।যেন কৃষকের সোনালী স্বপ্ন কালো মেঘে ঢেকে গেছে। তবে এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে চালের দাম বাড়ার আশঙ্কাও রয়েই যায়। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি প্রণোদনা ও ভর্তুকির দাবি জানিয়েছেন।