
মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ সোমবার (২০এপ্রিল/২৬) বেলা পৌনে ১২টায় দেশের ১৩তম মহানগর হিসেবে বগুড়া পৌরসভা ভবনে সিটি করপোরেশনের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে করে দেড়শত বছরের পুরোনো বগুড়া পৌরসভার কার্যক্রম বিলুপ্ত হয়ে গেল। এর পর সিটি করপোরেশন চত্বরে গাছ রোপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আজ বগুড়া পৌরসভার আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি করপোরেশন হিসেবে যাত্রা শুরু হয়ে গেল। কিন্তু আমাদের নিজের শহর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তিনি বলেন, আসার পথে স্টেশন রোডে দেখলাম দুপাশেই ময়লা। এ বিষয়ে প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি, প্রশাসন তাদেরটা করবে। নিজের ঘর নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখতে হবে। যাঁরা সিটি করপোরেশনে বসবাস করবেন, নিজেদের যতœ নিজেদের নিতে হবে। বগুড়াকে মডেল শহর হিসেবে গড়ে তুলতে গেলে সরকার একা নয়, শহরের মানুষদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সকাল ৬টায় ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল ১০টা তিনি বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলা বগুড়ায় এটি তার প্রথম সফর। সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর স্ত্রী ডাঃ জুবাইদা রহমান ছিলেন।
বগুড়া সার্কিট হাউসে কিছু সময় বিশ্রামের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে জেলা আইনজীবী সমিতির (বার সমিতি) নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন এবং জেলা ও দায়রা জজ এর কনফারেন্স কক্ষে সারা দেশে একযোগে ই-বেইলবন্ড (অনলাইনে জামিননামা দাখিল) কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে তিনি বগুড়া পৌর ভবনে ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’-এর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন। এরপর সড়ক পথে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পৈতৃক বাড়ি জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে যান। সেখানে জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম এর টিকা ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কমিটির সাথে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর পর শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলী কার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে যোগদান করে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ জেড জাহিদ হোসেন এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমীন পুতুল এমপি, বগুড়া সদর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন, সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, স্থানীয় নশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রোকন তালুকদার। পরে প্রধানমন্ত্রী বাগবাড়ীর চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। শেষে পৈতৃক বাড়ি বাগবাড়ী জিয়া বাড়িতে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে পরিদর্শনের পর বিকেলে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির হিসেবে ভাষণ দেন। জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এমপির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক (ভারঃ) মোশারফ হোসেন এমপির পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন এবং উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয়, জেলা, শহর ও উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতৃবৃন্দ।
সন্ধ্যায় নবনির্মিত বগুড়া প্রেসক্লাব ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া তিনি বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের পুনঃনিমার্ণ কাজের উদ্বোধন করেন। এর পর সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করে পথেমধ্যে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) কিছুক্ষণ যাত্রাবিরতি করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বগুড়ার সন্তান আপনাদের সন্তান। আগে শুধু বগুড়ার কাজ দেখতাম। এখন সারা দেশের মানুষ দায়িত্ব দিয়েছে। ফলে এখন সারা দেশের কাজ দেখতে হচ্ছে এবং দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। আপনারা দোয়া করবেন, বগুড়ার মানুষের মতো সারা দেশের মানুষের জন্য যেন কাজ করতে পারি, কম বেশি সমস্যার সমাধান করতে পারি ইনশাআল্লাহ।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় আগমনে বিপুল উৎসাহ উদ্দিন দেখা দেয় সকল পেশার মানুষের মধ্যে। সাজ সাজ রব সৃস্টি হয় জেলা জুড়ে। এক নজর তাঁকে দেখার জন্য নারী-পুরুষ হুমড়ী খেয়ে পড়েন।

প্রতিবেদক 




















