
শিমুল হাসান, আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ শুক্রবার (১৮ আগস্ট) বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরের চড়কতলা গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মনসা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সনাতন পঞ্জিকা অনুসারে শ্রাবনের শেষ দিনে অর্থাৎ শ্রাবণ সংক্রান্তিতে এই পূজা হয়। এবার শ্রাবণ মাস ছিল ৩২ দিনের এবং সে অনুযায়ী গতকাল ছিল শ্রাবণ সংক্রান্তি। পুরোহিত সুকুমার চৌধুরী জানান, মনসা বিজয় কাব্যে লেখা আছে যে, নাগমাতা কদরু একটি বালিকার মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন, সেই মুহূর্তেই মহাদেব শিবের রশ্মি নির্গত হলে তা থেকে মনসার জন্ম হয়েছিল। এরপর নাগরাজ বাসকী তাকে ভগিনী বলে স্বীকার করে নেয় এবং ছোট থেকেই মা মনসা দেবীকে লালন পালন করে। দেবীরূপে প্রাধান্যলাভ করতে মনসাকে বেশ সংর্ঘষ করতে হয়েছিল। মহাদেব বলেছিল যদি চাঁদসওদাগর তার পূজা করতে রাজি হয় তবেই পৃথিবীতে মনসা প্রচলিত হবে। কিন্তু চাঁদসওদাগর মনসাকে পুজা করতে রাজি হয়না। ফলে মা মনসা পুজা আদায়ের জন্য চাঁদসওদাগরের ৬ পুত্রকে হত্যা এবং ধনসম্পদ থেকে নিঃস্ব করেন। বেহুলা-লক্ষিন্দর কাহিনীর অংশ। লক্ষিন্দরের স্ত্রী বেহুলা ছিল মনসার পরমভক্ত। অনেক চেষ্টা করে বেহুলা চাঁদসওদাগরকে মনসা পূজা করাতে রাজি করেন। তাতেই খুশি হয়ে লক্ষিন্দরসহ চাঁদ সওদাগরের ৬ পুত্রকে জীবিত করেন এবং সব ধনসম্পদ ফিরিয়ে দেন। এরপরই মনসা পুজা জনপ্রিয় হয়ে উঠে। আর তখন থেকেই প্রতি বছর হিন্দু সম্প্রদায় শ্রাবণ মাসের শেষদিন সংক্রান্তিতে মা মনসার পূজা হয়ে আসছে।

প্রতিবেদক 




















