
ডোমার প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মেহেদী হাসানকে খুন করে তার লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে তার ভোগদখলিয় সম্পত্তি বেদখল করার অপচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ অবস্থায় মেহেদী হাসান তার রোপন করা ফসল জমি থেকে তুলতে না পারায় জমিতে নষ্ট হচ্ছে লক্ষাধিক টাকার ফসল।
এ ঘটনায় ডোমার থানায় দুটি জিডি ও একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব চিকনমাটি গ্রামের মৃত তহিদার রহমানের একমাত্র ছেলে মেহেদী হাসান। তিনি সোনারায় উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
ওই শিক্ষক হরিণচড়া মৌজার ৩৫ নং জেএল এর ৯০৩ খতিয়ানের ৪০০০ সাবেক দাগে ৩৪ শতক, ৪০১২ সাবেক দাগে ৪৩ শতক, ৪০১৬ সাবেক দাগে এক একর ১৬ শতক মোট ৫ বিঘা ২৮ শতক জমি প্রায় ৪০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে ভোগ দখল করে আসছেন।
ওই শিক্ষকের চাচা মৃত ওয়াছেক আলীর ছেলে আবু নাছের (৫৪) গং গত বছরের ২৫ নভেম্বর লাঠি সোটা, লোহার রড, ধারালো ছোরা নিয়ে ওই জমি দখলের উদ্যোশ্যে যায়। এ সময় স্থানীয় œ লোকজনের উপস্থিতে শিক্ষক মেহেদী হাসানকে খুন জখম করে লাশ গুম করবে বলে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাননাশের হুমকি দেয়। এবং ওই জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষ করার চেষ্টা করে। ওই শিক্ষক প্রানের ভয়ে ওই স্থান থেকে চলে আসেন।
এ অবস্থায় ওই শিক্ষক গত ২৮ নভেম্বরে ও পহেলা ডিসেম্বরে ডোমার থানায় দুটি জিডি করেন। যার নম্বর ১৩১১ ও ৩৫।
এ বিষয়ে কথা বললে ওই এলাকার ইউপি সদস্য জাহানুল ইসলাম সুজন, স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম (৪৩), হামিদ আলী (৪০), ডোমার বাসস্ট্যান্ড মসজিদের ঈমাম হাফেজ তৈয়বুর রহমানসহ (৫০) অনেকে জানান, আমরা প্রায় ৪০/৪২ বছর ধরেই দেখছি, মেহেদী হাসান তার বাবার জমি ভোগ দখল করে আসছেন। ছেলেটা শিক্ষকতা করেন। সে অনেক ভদ্র। একা হওয়ার কারনে এটার সুযোগ ওরা নিচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক মো. মেহেদী হাসান বলেন, প্রায় ৬ বিঘা জমিতে সরিষা করেছি। সরিষাও তুলতে পারছি না, ধানও রোপন করতে পারছি না। তাতে করে আর্থিকভাবে আমি ক্ষতির শিকার হচ্ছি। আসলে আমার সমস্যা হচ্ছে, আমি একা ভাই, ওরা পাচঁ ভাই। এটার সুযোগ নিচ্ছে তারা। তারা সরকারি নিয়ম মেনে আসুক, ওদের জমি হলে আমি ছেড়ে দিব। তারা অন্য চাচার জমিতে যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে কথা বললে অভিযুক্ত মো. আবু নাসের (৫৪) বলেন, ‘আমার বাবা ও আমরা ভাইরা চাকুরির সুবাদে বাহিরে থাকি। এ অবস্থায় তারা বিএস রেকর্ড করে নিয়েছে। কোর্টে মামলা আছে, কোর্টেই ফয়সালা হবে।’
এমন অবস্থায় তদন্তকারী কমৃকর্তা এসআই কাজল কুমার রায় জানান,জিডি মুলে কোর্টের নিকট তদন্তের জন্য আবেদন করেছি,কোর্ট অনুমতি দিলে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিব।
এ ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, যারা দীর্ঘ দিন থেকে জমি ভোগদখল করে আসছেন, যারা ফসল করেছেন, তারাই ফসল কাটবেন। এতে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে আমরা ব্যবস্থা নিব। আর অন্য কারো জমি থাকলে প্রসেস মেইনটেইন করে আসুক, তারাই জমি পাবেন।ছবি আছে ।

প্রতিবেদক 




















