
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের রান্নাঘরে এখন আর শুধু বিদেশি ব্র্যান্ডের দাপট নেই। দেশীয় ব্র্যান্ড ‘নোয়া’ (NOAH) আজ হয়ে উঠেছে আস্থার প্রতীক। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বগুড়া দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়ার সন্তান রাজু পোদ্দার-এর নেতৃত্বে পোদ্দার পরিবারের তিন প্রজন্মের নিরলস পরিশ্রম ও দূরদর্শী উদ্যোগ। তালোড়া থেকে যাত্রা এই সাফল্যের শুরু দেশভাগেরও আগে। ১৯২০ সালে ভারতের রাজস্থান থেকে বগুড়ায় এসে ব্যবসা শুরু করেন নন্দলাল পোদ্দার। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও তার ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা ছিল অসাধারণ।
প্রথমে চাল ও তেলের কল দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও সময়ের চাহিদা বুঝে ১৯৬৮ সালে তালোড়া পৌরসভায় অ্যালুমিনিয়াম শিল্প গড়ে তোলেন তিনি। ‘সূর্য মার্কা’ ব্র্যান্ডে তৈরি হতো অ্যালুমিনিয়ামের পাতিল ও বাসনপত্র, যা দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।উত্তরসূরিদের হাতে বিস্তার
নন্দলাল পোদ্দারের উত্তরসূরিরা এই শিল্পকে আরও বিস্তৃত করেন। বর্তমানে রাজু পোদ্দার-এর নেতৃত্বে ‘নোয়া গ্রুপ’ পরিচালিত হচ্ছে। তার সঙ্গে কাজ করছেন ভাই পবণ পোদ্দার ও গোকুল কুমার পোদ্দারসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।মেইড ইন বাংলাদেশ’: এক নীরব বিপ্লব
২০০৩-০৪ সালের দিকে যখন বাজারে ভারতীয় ব্র্যান্ডের আধিপত্য ছিল, তখন রাজু পোদ্দার দেশেই বিশ্বমানের প্রেসার কুকার তৈরির উদ্যোগ নেন। বিদেশি কারিগর এনে দেশীয় শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।তবে শুরুতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় মানুষের মানসিকতা। ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’দেখে অনেকেই পণ্য নিতে চাইতেন না। ফলে কিছু সময় সিল ছাড়া পণ্য বিক্রি করতে হয়।কিন্তু গুণগত মানে আস্থা তৈরি হওয়ার পর আবার গর্বের সঙ্গে পণ্যে যুক্ত করা হয়—
Made in Bangladesh’
আজ এটি ক্রেতাদের কাছে আস্থার প্রতীক। দেশ থেকে বিশ্ববাজারে উত্তরবঙ্গে গ্যাস সংকট থাকায় প্রেসার কুকার ও ইলেকট্রিক কেটলির চাহিদা বেশি এই বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে নোয়া দ্রুত বাজার বিস্তার করে।বর্তমানে:
ভারত (কলকাতা), নেপাল ও ভুটানে পণ্য রপ্তানি হচ্ছে
ইউরোপের বাজারে প্রবেশের জন্য কাজ চলছে
আমদানিনির্ভরতা প্রায় ৯৯% কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখছে।

প্রতিবেদক 













