০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

দারিদ্র্যকে জয় করে এসএসসিতে অপূর্বর ১১৮৯, স্বপ্ন এখন ডাক্তার হওয়ার।

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ১১:৫০:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

বিকাশ স্বর্ণকার,সোনাতলাঃ অভাব যেন তার মেধার কাছে হার মেনেছে। টিনশেডের জরাজীর্ণ ঘরে বসেই নিজের স্বপ্নকে বড় করে দেখেছে সে। টিউশনির মাধ্যমে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করে এগিয়েছে তার পথচলা। সেই অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী অপূর্ব সরকার এবার এসএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ২৫০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছে ১ হাজার ১৮৯ নম্বর।অপূর্ব সরকার বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামের পরিতোষ চন্দ্র সরকারের ছেলে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তার বাবা একসময় গ্রামাঞ্চলের মানুষের রেডিও-টেলিভিশন মেরামতের কাজ করে সংসার চালাতেন। কালের বিবর্তনে রেডিও-টেলিভিশনের ব্যবহার কমে যাওয়ায় সেই কাজও এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। ফলে অনিশ্চিত আয়ের ওপর নির্ভর করেই কোনো রকমে চলছে তাদের সংসার।জীর্ণ টিনশেড ঘরই তাদের বসবাসের ঠিকানা। সংসারে অভাব থাকলেও অপূর্বর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহে কখনো ভাটা পড়েনি। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই নিজের পড়াশোনার খরচের একটি অংশ জোগাতে টিউশনি শুরু করে সে। অন্য শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে যে অর্থ পেত, তা দিয়েই নিজের বই-খাতা, প্রাইভেট পড়াসহ শিক্ষার প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর চেষ্টা করত।
অপূর্বর মা জানান, পরিবারের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে সন্তানদের প্রয়োজন মতো খাবার ও লেখাপড়ার খরচ জোগানো সম্ভব হয় না। তারপরও অপূর্বর পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখে তারা তাকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন,সরকার কিংবা সমাজের বিত্তবান ও শিক্ষানুরাগী মানুষ যদি তার ছেলের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অপূর্বর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হবে।অপূর্বর স্বপ্ন ভবিষ্যতে একজন চিকিৎসক হওয়া। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে তাকে পাড়ি দিতে হবে দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের পথ। তাই নিজের মেধা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষ, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছে সে।
স্থানীয় বাসিন্দা গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন,অপূর্বর আচরণ ভালো,সে অত্যন্ত মেধাবী ও ভদ্র ছেলে। তার মতো একজন শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হলে ভবিষ্যতে সে শুধু নিজের পরিবার নয়, পুরো গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করতে পারবে।অপূর্বর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও তার মেধা ও ভালো আচরণের প্রশংসা করে বলেন,সে অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। তার মতো শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সমাজের বিত্তবান মানুষ ও প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা পেলে অপূর্ব ভবিষ্যতে এলাকার জন্য সুনাম বয়ে আনতে পারবে।অপূর্বর কাছে পড়তে আসা ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়,অপূর্ব খুব ভালোভাবে পড়ান এবং অত্যন্ত যত্নসহকারে তাদের পড়াশোনা করান। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ নজমুল ইসলাম বলেন,সে যে নম্বর পেয়েছে আপাতদৃষ্টিতে প্রসংসনীয়।আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।সমাজের সহৃদয় মানুষ ও রাষ্ট্র যদি তার পাশে দাঁড়ায়, তাহলে হয়তো নগরপাড়ার এই টিনশেড ঘর থেকেই একদিন বেরিয়ে আসবে একজন সফল চিকিৎসক,যিনি নিজের পরিবার, গ্রাম ও এলাকার মানুষের মুখ উজ্জ্বল করবেন।

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

আদমদীঘিতে ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করেন সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু

দারিদ্র্যকে জয় করে এসএসসিতে অপূর্বর ১১৮৯, স্বপ্ন এখন ডাক্তার হওয়ার।

প্রকাশিত: ১১:৫০:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

বিকাশ স্বর্ণকার,সোনাতলাঃ অভাব যেন তার মেধার কাছে হার মেনেছে। টিনশেডের জরাজীর্ণ ঘরে বসেই নিজের স্বপ্নকে বড় করে দেখেছে সে। টিউশনির মাধ্যমে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করে এগিয়েছে তার পথচলা। সেই অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী অপূর্ব সরকার এবার এসএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ২৫০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছে ১ হাজার ১৮৯ নম্বর।অপূর্ব সরকার বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামের পরিতোষ চন্দ্র সরকারের ছেলে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তার বাবা একসময় গ্রামাঞ্চলের মানুষের রেডিও-টেলিভিশন মেরামতের কাজ করে সংসার চালাতেন। কালের বিবর্তনে রেডিও-টেলিভিশনের ব্যবহার কমে যাওয়ায় সেই কাজও এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। ফলে অনিশ্চিত আয়ের ওপর নির্ভর করেই কোনো রকমে চলছে তাদের সংসার।জীর্ণ টিনশেড ঘরই তাদের বসবাসের ঠিকানা। সংসারে অভাব থাকলেও অপূর্বর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহে কখনো ভাটা পড়েনি। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই নিজের পড়াশোনার খরচের একটি অংশ জোগাতে টিউশনি শুরু করে সে। অন্য শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে যে অর্থ পেত, তা দিয়েই নিজের বই-খাতা, প্রাইভেট পড়াসহ শিক্ষার প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর চেষ্টা করত।
অপূর্বর মা জানান, পরিবারের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে সন্তানদের প্রয়োজন মতো খাবার ও লেখাপড়ার খরচ জোগানো সম্ভব হয় না। তারপরও অপূর্বর পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখে তারা তাকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন,সরকার কিংবা সমাজের বিত্তবান ও শিক্ষানুরাগী মানুষ যদি তার ছেলের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অপূর্বর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হবে।অপূর্বর স্বপ্ন ভবিষ্যতে একজন চিকিৎসক হওয়া। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে তাকে পাড়ি দিতে হবে দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের পথ। তাই নিজের মেধা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষ, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছে সে।
স্থানীয় বাসিন্দা গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন,অপূর্বর আচরণ ভালো,সে অত্যন্ত মেধাবী ও ভদ্র ছেলে। তার মতো একজন শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হলে ভবিষ্যতে সে শুধু নিজের পরিবার নয়, পুরো গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করতে পারবে।অপূর্বর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও তার মেধা ও ভালো আচরণের প্রশংসা করে বলেন,সে অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। তার মতো শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সমাজের বিত্তবান মানুষ ও প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা পেলে অপূর্ব ভবিষ্যতে এলাকার জন্য সুনাম বয়ে আনতে পারবে।অপূর্বর কাছে পড়তে আসা ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়,অপূর্ব খুব ভালোভাবে পড়ান এবং অত্যন্ত যত্নসহকারে তাদের পড়াশোনা করান। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ নজমুল ইসলাম বলেন,সে যে নম্বর পেয়েছে আপাতদৃষ্টিতে প্রসংসনীয়।আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।সমাজের সহৃদয় মানুষ ও রাষ্ট্র যদি তার পাশে দাঁড়ায়, তাহলে হয়তো নগরপাড়ার এই টিনশেড ঘর থেকেই একদিন বেরিয়ে আসবে একজন সফল চিকিৎসক,যিনি নিজের পরিবার, গ্রাম ও এলাকার মানুষের মুখ উজ্জ্বল করবেন।