০৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় এইচএসসিতে ভয়াবহ ফল বিপর্যয়, ফেল ১ হাজার ৪৫ শিক্ষার্থী

  • প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ০২:৪১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার, সোনাতলা (বগুড়া):
বগুড়ার সোনাতলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। উপজেলার ছয়টি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ৪২৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩৮৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৪৫ জন। পাসের হার মাত্র ২৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র একজন শিক্ষার্থী। এমন ফলাফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে হতাশা দেখা দিয়েছে।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, সরকারি নাজির আখতার কলেজ থেকে ৫৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২২২ জন। সরকারি সোনাতলা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২৩১ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩০ জন। সোনাতলা মহিলা কলেজে ২৭১ জনের মধ্যে ৮০ জন, ডক্টর এনামুল হক ডিগ্রি কলেজে ১৮৭ জনের মধ্যে ৩৯ জন এবং আব্দুল মান্নান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে ৫৩ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র আটজন। সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজ। এ কলেজের ১০৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র চারজন।
অন্যদিকে, উপজেলার মাদ্রাসাগুলোতে তুলনামূলক ভালো ফলাফল হয়েছে। সোনাতলা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার ৬৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে একজনসহ পাস করেছে ৬০ জন। জাহানারাবাদ আলিম মাদ্রাসায় ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন এবং সৈয়দ আহম্মেদ ফাজিল মাদ্রাসায় ২২ জনের মধ্যে ১৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
কলেজসংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অনিয়মিত উপস্থিতি, আর্থিক অসচ্ছলতা, পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণের অভাব ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাসহ নানা কারণে ফলাফলে এমন বিপর্যয় ঘটেছে।
সরকারি নাজির আখতার কলেজের অধ্যক্ষ জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, ডক্টর এনামুল হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের কলেজে উপস্থিতির প্রবণতা কমে যাওয়ায় পাঠদান ও পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকায় পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, এ ফলাফলের দায় শুধু শিক্ষার্থীদের নয়; শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিরও রয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত শিক্ষক সংকট নিরসন, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বাড়ানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আগামীতে উপজেলার শিক্ষার মান আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে

Tags:

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক সম্পর্কে

শিরোনাম

সান্তাহার থেকে গাবতলীর তিন এলএসডিতে গেল শুধু কাগজ, অর্ধকোটি টাকার সরকারি চাল ব্যবসায়ীর গুদামে

সোনাতলায় এইচএসসিতে ভয়াবহ ফল বিপর্যয়, ফেল ১ হাজার ৪৫ শিক্ষার্থী

প্রকাশিত: ০২:৪১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার, সোনাতলা (বগুড়া):
বগুড়ার সোনাতলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। উপজেলার ছয়টি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ৪২৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩৮৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৪৫ জন। পাসের হার মাত্র ২৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র একজন শিক্ষার্থী। এমন ফলাফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে হতাশা দেখা দিয়েছে।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, সরকারি নাজির আখতার কলেজ থেকে ৫৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২২২ জন। সরকারি সোনাতলা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২৩১ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩০ জন। সোনাতলা মহিলা কলেজে ২৭১ জনের মধ্যে ৮০ জন, ডক্টর এনামুল হক ডিগ্রি কলেজে ১৮৭ জনের মধ্যে ৩৯ জন এবং আব্দুল মান্নান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে ৫৩ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র আটজন। সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজ। এ কলেজের ১০৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র চারজন।
অন্যদিকে, উপজেলার মাদ্রাসাগুলোতে তুলনামূলক ভালো ফলাফল হয়েছে। সোনাতলা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার ৬৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে একজনসহ পাস করেছে ৬০ জন। জাহানারাবাদ আলিম মাদ্রাসায় ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন এবং সৈয়দ আহম্মেদ ফাজিল মাদ্রাসায় ২২ জনের মধ্যে ১৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
কলেজসংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অনিয়মিত উপস্থিতি, আর্থিক অসচ্ছলতা, পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণের অভাব ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাসহ নানা কারণে ফলাফলে এমন বিপর্যয় ঘটেছে।
সরকারি নাজির আখতার কলেজের অধ্যক্ষ জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, ডক্টর এনামুল হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের কলেজে উপস্থিতির প্রবণতা কমে যাওয়ায় পাঠদান ও পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকায় পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, এ ফলাফলের দায় শুধু শিক্ষার্থীদের নয়; শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিরও রয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত শিক্ষক সংকট নিরসন, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বাড়ানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আগামীতে উপজেলার শিক্ষার মান আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে