
স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার রেলগেট এলাকায় অবস্থিত স্মরণিকা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি, নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।সোমবার (২৮শে সেপ্টেম্বর) বিকেল হতে ঘন্টা খানেক ধরে নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল মিয়ার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে স্মরণিকা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি, নিষিদ্ধ রাসায়নিক হাইড্রোজ ব্যবহার করে মিষ্টি প্রস্তুত, প্রস্তুতকৃত খাদ্য অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মেঝেতে সংরক্ষণ,মিষ্টান্ন তৈরির স্থানে কুকুর-বিড়ালের প্রবেশ, খাদ্য প্রস্তুতিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ ব্যবহার এবং খাদ্যকর্মীদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।এসব অপরাধ স্বীকার করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন,২০০৯-এর ৪২ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বগুড়া জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে হোটেল মালিকের কাছে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।এদিকে স্থানীয় কয়েকজন গ্রাহক ও বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন,হোটেলটির সামনের অংশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন মনে হলেও খাবার প্রস্তুতের স্থান ও রান্নাঘরের পরিবেশ নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাদের দাবি, খাবার তৈরির স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।কয়েকজন গ্রাহক আরও অভিযোগ করেন,স্মরণিকা হোটেল থেকে মিষ্টি কেনার সময় প্যাকেটের ওজনও মিষ্টির ওজনের সঙ্গে যোগ করা হয়। এতে প্রতি কেজি মিষ্টিতে প্রায় ১০০ গ্রাম পর্যন্ত কম পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাওয়া যায়নি বলে তাদের দাবি।
স্থানীয়দের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা ও জরিমানা নয়,পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হলে খাদ্যের মান ও পরিবেশ উন্নত হতে পারে। একই সঙ্গে মিষ্টি ও অন্যান্য খাবার বিক্রির ক্ষেত্রে সঠিক ওজন নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তাদের স্বার্থে খাদ্য প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রতিবেদক 



















