স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়া সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নের সাতবেকি খেয়াঘাটে বাঙালী নদীর ওপর এলাকাবাসীর উদ্দ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে
৩০০মিটার দৈর্ঘ্যের বাঁশ ও ড্রাম দিয়ে নির্মিত হলো একটি সাঁকো।সহজেই নদী পারাপারে সাঁকোটি নির্মাণে লাঘব হলো জনদুর্ভোগ। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে নদীর দু’পাড়ের মানুষজন। যদিও এই স্থানে ১২মাস গহীন পানি থাকে। নদী পারাপার একমাত্র ভরসাই একটি ডিঙ্গি নৌকা। এ ঘাটে ডিঙ্গি নৌকাই পার্শবর্তী সাতবেকি, মোনারপটল,উত্তর করমজা,হরিখালী, হাঁসরাজ,দড়ি হাঁসরাজ, বেড়াডাঙ্গা হাঁসরাজ, পশ্চিম তেকানী,পূর্ব তেকানী,পশ্চিম পদ্মপাড়া, শিচারপাড়া,খিতারেরপাড়া ও রংরারপাড়া-সহ বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ প্রতি নিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হতো। নদীর পূর্ব পাশে রয়েছে সাতবেকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,হাট-বাজার,ইউনিয়ন পরিষদ,পোস্ট অফিস, অনেক ফসলী জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এদিকে নদীর পশ্চিম পাশে রয়েছে ৩টি আবাসন প্রকল্প (কথিত গুচ্ছগ্রাম),ভেলুরপাড়ায় অবস্থিত রেলস্টেশন,ডক্টর এনামুল হক ডিগ্রি কলেজ-সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,ব্যাংক,এনজিও,হাট-বাজারসহ অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।তবে এতদিন জমির ফসল ঘরে তুলতে চরম দুর্ভোগে পরতে হতো দুপারের বাসিন্দাদের ঘাটটিতে ব্রীজ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পরতো। নৌকাযোগে পারাপার হতে গিয়ে ইতিপূর্বে নৌকা ডুবির মতো ঘটনাও ঘটেছে। ফলে এসব থেকে পরিত্রাণ পেতেই এলাকার জনসাধারণের উদ্দ্যোগেই এবং চলাচলের সুবিধার্থে ঘাটে প্রায় আড়াই মাস আগে এখানে একটি সাঁকো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন যুবসমাজ। তবে এমন সিদ্ধান্তে এলাকার জনসাধারণ সমর্থন সহ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।এর প্রেক্ষিতে পাকুল্লা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর আমিরুল ইসলাম,যুবকদের মধ্যে শিমুল,রিতু,সাদিক ও আব্দুর রাজ্জাক-সহ অনেকে টাকা,বাঁশ,ড্রাম,লোহা ইত্যাদি সংগ্রহ করে বাঙালী নদীর ওপর সাতবেকি খেয়াঘাটে প্রায় ৩০০ফুট দৈর্ঘ্যে একটি সাঁকো নির্মাণ করেন। দেড় লক্ষা টাকা ব্যয়ে আড়াই মাস সময় লেগেছে। সাঁকো দৃশ্যমান হওয়ার জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে উদ্ধোধনের পর থেকে অনায়াসে সাধারণ জনতা পারাপার হচ্ছে। সাঁকোর সৌন্দর্য ফুটে তুলতে লটকানো হয় নানা রঙের বেলুন। সাঁকোটি দেখার জন্য দুই পাড়ে নদীর তীরে উপস্থিত হয় নানা বয়সের বিভিন্ন এলাকার অনেক নর-নারী। অনেকে শখ করে নবনির্মিত সাঁকোর ওপর দিয়ে যাতায়াত করেন। দর্শনার্থীরা উদ্যোক্তাদের ধন্যবান দেন। কিন্তু এ সাঁকো নির্মাণ করাই শেষ কথা নয়। সাঁকোটি হয়তো বর্ষাকালে বন্যায় পানির স্রোতে ভেঙ্গে ভেসে যেতে পারে। এতে আবারো নদী পারাপারে দুর্ভোগের শিকার হবেন জনসাধারণ। সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয়দের দাবী স্থায়ীভাবে পাকা ব্রীজ কিংবা লৌহ ব্রীজ নির্মাণের। এতে নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দা সহ সাধারণ জনতার যাতায়াতে সুবিধা হবে। কৃষি,ব্যবসা,শিক্ষা-সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়ন হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকৃতি প্রামানিক জানান, সাঁতবেকি খেয়াঘাটে সাঁকো নির্মাণ বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। সেখানে স্থায়ীভাবে একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে জনসাধারণের জন্য উপকার হবে। এ ব্যাপারে আমি উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিবো। উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আতিকুর রহমান তালুকদার বলেন, সাকবেকি খেয়াঘাটে ব্রীজ নির্মাণ করার মতো হলে পরবর্তীতে সেখানে একটি আরসিসি গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ করার ব্যবস্থা নেয়া হবে
প্রতিষ্ঠাতাঃ মিজানুর রহমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ বাবু, মোবাইল : ০১৭১১৪১২৮৯৮,
সৈয়দ আহম্মদ কলেজ, সোনাতলা, বগুড়া।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ।। দৈনিক বগুড়া মেইল