বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) আফসানা ইয়াসমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রোজিনা আক্তার, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সিরাজগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক বিশ্বজিত সাহা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, গণসাক্ষরতা অভিযান ঢাকার কার্যক্রম কর্মকর্তা সিজুল ইসলাম। মতবিনিময় সভার মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণসাক্ষরতা অভিযান ঢাকার কার্যক্রম ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি) এর উপ-পরিচালক (মনিটরিং ও অডিট) কাজী মাসুদুজ্জামান পল।
সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল কালাম আজাদ, প্রোগ্রাম ফর উইমেন ডেভেলপমেন্ট এর নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরা জলি, ধানগড়া ইউনিয়ন কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপের সভাপতি ফরিদুল হক, আলোর প্রদীপ প্রতিবন্ধী সংগঠনের সভাপতি আল আমিন, সামাজিক প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন এর সভাপতি শাহনাজ খাতুন, প্রধান শিক্ষক খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
অংশগ্রহণকারীরা সুপারিশ হিসেবে বলেন, চরাঞ্চলে নদী ভাঙ্গনের কারণে মেয়েদের বাল্যবিবাহ এবং ছেলেদের শিশুশ্রমের প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এটা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; আতœহত্যার প্রবণতা কমাতে কাউন্সেলিং করতে হবে; ইটভাটায় শিশুশ্রম বন্ধে প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ঝরে পড়া সেসব শিশুদের বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে স্কুলে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে; জেলে,ওঁরাও, সাঁওতাল এবং তাঁতীদের সন্তানদের স্কুলগামী করতে ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে; স্থানীয় সরকারকে শিক্ষা মনিটরিংয়ে আরো সক্রিয় করতে হবে; উপজেলা এবং ইউনিয়ন শিক্ষা কমিটির কার্যক্রমকে গতিশীল করতে হবে; ষান্মাসিক আকারে মেয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইভটিজিং, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পুলিশের মতবিনিময় সভা ও পেট্রোল ডিউটি নিশ্চিত করতে হবে; চরের স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক পদায়ন করতে হবে এবং তাঁদের ধরে রাখতে অতিরিক্ত যাতায়াত ভাতা, বিশেষ প্রণোদনা ও আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে; প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভর্তির আগে শিক্ষক, সহপাঠী ও অভিভাবকদের মোটিভেশন দেওয়া, সহায়ক যন্ত্রপাতি (হুইলচেয়ার, শ্রবণ সহায়ক যন্ত্র, সাদা ছড়ি ইত্যাদি) প্রদান করা, প্রতিবন্ধীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা, অবকাঠামো নিশ্চিত এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা; সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দীর্ঘমেয়াদী কার্যক্রম গ্রহণ করে গুরুত্বর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হোমবেইজ পড়াশোনা, থেরাপি এবং যতেœর ব্যবস্থা করা; উপানুষ্ঠানিকের জন্য স্থায়ী শিক্ষা কার্যক্রম থাকতে হবে এবং জনবল বাড়াতে হবে; উপানুষ্ঠানিকসহ বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগে ভোকেশনাল যেসব অষ্টম শ্রেণির সমমানের কোর্স কার্যক্রম চালু করা আছে তাঁদের মুলধারার সঙ্গে যুক্ত করতে নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল ও সনদ প্রদান করতে হবে; প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষার্থী সংকট কাটাতে স্কুলের আওতাভুক্ত অঞ্চলে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম বাড়াতে জিও এবং এনজিওকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে; নদীভাঙ্গন ও চরাঞ্চলে ভ্রাম্যমান বা বিকল্প স্কুলের ব্যবস্থা করতে হবে; সব উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিদ্রুত মিড-ডে মিল চালু করতে হবে; শিশুদের বইয়ের বোঝা কমিয়ে খেলাধুলাসহ আনন্দমুখী শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে; পরিমার্জিত কারিকুলাম বাস্তবায়ন ও ঝরে পড়া রোধে সকল অংশীজনকে যুক্ত করে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে; শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সমস্যা সমাধানে নৌকার ব্যবস্থা করতে হবে এবং সরকারি ইজারাকৃত ঘাটগুলোকে স্কুলের সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নদী পারাপার নিশ্চিত করতে হবে; কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে পুরাতন যন্ত্রপাতি পরিবর্তন করে আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহার উপযোগী করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে দূরত্ব কমাতে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে; নিবন্ধনহীন গড়ে উঠে মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে; চর নিয়ে আলাদা গবেষণা পরিচালনা করতে হবে এবং প্রাপ্ত তত্ত-উপাত্তের ভিত্তিতে নীতি পরিকল্পনা করতে হবে; চরাঞ্চলে আইসিটি ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষার সুফল গ্রহণ করতে হলে ইলেকট্রিসিটি ও নেটওয়ার্ক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে এবং শিখন ঘাটতি পূরণে ও মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে শিক্ষকদের আন্তরিক হতে হবে।
সভায় শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা কর্মকর্তা, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মীসহ অর্ধশতাধিক অংশীজন অংশগ্রহণ করেন।