সুলতান আহম্মেদ সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় সশস্ত্র হামলায় ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী নিহত হওয়ার ৪৮ দিনের মাথায় আহত সালাহ উদ্দিনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাঘাটা উপজেলা শাখা।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে বোনারপাড়া এলাকায় আয়োজিত কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সমাবেশ থেকে মামলার প্রধান আসামি মুকুল, পলাশসহ অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২১ জুন বোনারপাড়া এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী নিহত হন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুব বিভাগের কর্মী সালাহ উদ্দিন। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় ৪৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্বজন ও দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
একই হামলায় একজন ঘটনাস্থলে নিহত এবং অপরজন দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যাওয়ায় ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছাত্রশিবিরের নেতারা বলছেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং রাজনৈতিক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বিক্ষোভে ক্ষোভ, প্ল্যাকার্ডে বিচারের দাবি
শনিবার বিকেলে বোনারপাড়া এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল। পরে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে নেতাকর্মীরা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন।
মিছিলে বহন করা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—‘জাস্টিস ফর শহীদ সাইফুল্লাহ’, ‘খুনি মুকুলের ফাঁসি চাই’, ‘খুনি পলাশের ফাঁসি চাই’ এবং ‘সালাহ উদ্দিনের খুনিদের দ্রুত ফাঁসি চাই’। এসব স্লোগানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে সশস্ত্র হামলার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও সব আসামিকে আইনের আওতায় আনা না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে। তাঁরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিলেন, হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানান।
কয়েকজন গ্রেপ্তার, বাকিদের গ্রেপ্তারের দাবি
সমাবেশে বক্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ প্রধান আসামি মুকুলসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলার অন্যান্য আসামি ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে যাদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের ভিত্তিতে কাউকে ছাড় দেওয়া কিংবা নিরপরাধ কাউকে হয়রানি—দুটিই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষভাবে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাব যাতে কাজ না করে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি মামলার তদন্ত, গ্রেপ্তার ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি জানান তাঁরা।
ঘটনার নেপথ্য উদঘাটনের দাবি
সমাবেশে বক্তারা হামলার নেপথ্যের কারণ উদঘাটনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁদের দাবি, শুধু হামলাকারীদের শনাক্ত করলেই হবে না; হামলার পরিকল্পনা, অর্থায়ন, নির্দেশদাতা কিংবা সহযোগীদের কেউ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও চিহ্নিত করতে হবে।
তবে এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বক্তব্য ও অভিযোগের পাশাপাশি তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণই ঘটনার প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
পরিবারের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি
নিহত সালাহ উদ্দিন ও সাইফুল্লাহ বারীর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান সমাবেশের বক্তারা। তাঁরা বলেন, দুই পরিবারের সদস্যরা যাতে কোনো ধরনের চাপ, ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।
সমাবেশে গাইবান্ধা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল কবির রানা, সাঘাটা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইব্রাহিম হোসাইন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের গাইবান্ধা জেলা সভাপতি ও সেক্রেটারি, সাঘাটা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে কোনো ধরনের গড়িমসি তাঁরা মেনে নেবেন না। তবে বিচারপ্রক্রিয়া যেন আইন ও আদালতের নির্ধারিত নিয়ম অনুসারেই পরিচালিত হয়, সে দাবিও জানান তাঁরা।
সমাবেশ শেষে নিহত সালাহ উদ্দিন ও সাইফুল্লাহ বারীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে ভবিষ্যতেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
তদন্ত ও পুলিশের বক্তব্য:
এ ঘটনায় পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি, মামলায় মোট আসামির সংখ্যা, এ পর্যন্ত কতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা প্রয়োজন। এতে ঘটনার দুই পক্ষের বক্তব্য ও আইনগত অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।
প্রতিষ্ঠাতাঃ মিজানুর রহমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ বাবু, মোবাইল : ০১৭১১৪১২৮৯৮,
সৈয়দ আহম্মদ কলেজ, সোনাতলা, বগুড়া।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ।। দৈনিক বগুড়া মেইল