সুশান্ত মালাকার,দুপচাঁচিয়াঃ "চৈত্রের প্রাতে
বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জীর,ধরণীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা" প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতার আগমন বার্তা।এই কবিতার মতোই চারদিকে ধ্বনিত হচ্ছে দেবী আগমনের বার্তা। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মহাষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বাসন্তী পূজা। চণ্ডীপাঠ ও বোধনের মধ্য দিয়ে এদিন দেবীর পূজা ও বাসন্তী উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল থেকে মহাসপ্তমীর পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে মূল আনুষ্ঠানিকতা। এর আগের দিন সন্ধ্যায় বেলতলায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস সম্পন্ন হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই আচার শেষে দেবী ঘটে (পাত্রবিশেষ) আগমন করেন এবং পরবর্তীতে নবপত্রিকা সহ মূল মন্দিরে স্থাপন করা হয়।চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে আয়োজিত এই পূজার মাধ্যমে শুরু হয় দেবীপক্ষ। এটি বাঙালির আদি দুর্গাপূজা হিসেবে পরিচিত, যা চলবে আগামী শনিবার (২৮ মার্চ) পর্যন্ত। পাঁচদিনব্যাপী এই পূজার মূল আচার শুরু হয় মহাষষ্ঠীতে আবাহনের মাধ্যমে এবং শেষ হয় বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে।উপজেলার কইল পূর্বপাড়া বাসন্তী মন্দিরের পুরোহিত শ্রী মনোরঞ্জন চন্দ্র সরকার জানান, দেবীপতি মহাদেবের প্রিয় বিল্ববৃক্ষের নিচে দেবীর আবাহনের মধ্য দিয়েই পূজার সূচনা হয়। ভক্তরা দশমী পর্যন্ত যথাযথ বিধি অনুসারে পূজা সম্পন্ন করার সংকল্প গ্রহণ করেন।অন্যদিকে কইল নিমতলা বাসন্তী মন্দিরের পুরোহিত শ্রী কানু কোমল সরকার বলেন, চৈত্র মাসে অনুষ্ঠিত এই পূজাকেই বাসন্তী পূজা বলা হয়। তিনি জানান, ত্রেতাযুগে রামচন্দ্র আশ্বিন মাসে দেবীর অকালবোধন করেছিলেন, যা বর্তমানে শারদীয় দুর্গাপূজা নামে পরিচিত এবং বাঙালিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত।ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সত্যযুগে রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য ঋষি মেধসের নির্দেশে প্রথম মর্ত্যে বাসন্তী পূজার প্রচলন করেন। ঐতিহ্যগতভাবে এই পূজা বসন্তকালেই অনুষ্ঠিত হয়।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহাঅষ্টমী ও সন্ধিপূজা, শুক্রবার (২৭ মার্চ) মহানবমী এবং শনিবার (২৮ মার্চ) দর্পণ বিসর্জন ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ বছরের বাসন্তী উৎসব।
বিশ্বাস অনুযায়ী, এ বছর দেবীর আগমন হয়েছে নৌকায়, যা শস্যবৃদ্ধি ও জলবৃদ্ধির প্রতীক। তবে দেবীর গমন হবে ঘোড়ায়, যা শাস্ত্রমতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করে।
কইল নিমতলা বাসন্তী মন্দির পূজা কমিটির সদস্যরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে বাসন্তী পূজা উদযাপিত হচ্ছে। পূজায় ধর্মীয় সম্প্রীতি, সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতা থেকে মুক্তির প্রার্থনা করা হচ্ছে।উল্লেখ্য, বগুড়া জেলাসহ দুপচাঁচিয়া উপজেলার কইল ও খানপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মণ্ডপে মণ্ডপে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাসন্তী পূজা। এটি শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
প্রতিষ্ঠাতাঃ মিজানুর রহমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ বাবু, মোবাইল : ০১৭১১৪১২৮৯৮,
সৈয়দ আহম্মদ কলেজ, সোনাতলা, বগুড়া।
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ।। দৈনিক বগুড়া মেইল